কারিগরি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিব পেটালেন ২ সাংবাদিককে থানায় মামলা, মন্ত্রণালয়ের তদনত্দ কমিটি গঠন

দুর্নীতির খবর প্রকাশ করায় কারিগরি শিৰা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং সচিবসহ তাদের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দুই সাংবাদিককে বেধড়ক পিটিয়েছেন। গতকাল সোমবার ওই দুই সাংবাদিককে চেয়ারম্যান টেলিফোনে ডেকে নিয়ে যান। তার শিৰা বোর্ড অফিসে গেলে চেয়ারম্যান নিজে এবং কর্মচারীদের দিয়ে তাদের বেপরোয়া মারধর করেন। তারপর তাদের আটকে রাখেন আনসারদের একটি রম্নমে। বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিকরা খবর পেয়ে পরে তাদের উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। তাৎৰণিক শিৰা মন্ত্রণালয়ের জয়েন্ট সেক্রেটারিকে ঘটনা তদনত্দ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে তদনত্দ শেষে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে।

প্রহৃত দুই সংবাদিক হচ্ছেন দি নিউ এজের সিনিয়র রিপোর্টার সিদ্দিকুর রহমান খান এবং দৈনিক জনকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার মোশতাক আহমেদ। তারা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. ইদ্রিস আলী, সচিব মোঃ শাহজাহান, কর্মচারী বারেক ও মামুন, আনসার সদস্য আসাদুলসহ কয়েকজনের বিরম্নদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় করেছেন। শিৰা মন্ত্রণালয় এ ঘটনা তদনত্দ করে আজ রিপোর্ট দেয়ার জন্য যুগ্ম সচিব (কারিগরি ও মাদ্রাসা) হুমায়ুন খালিদকে দায়িত্ব দিয়েছে।

পরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. ইদ্রিস সাংবাদিকদের জানান, দরজায় লেগে ওই দুই সাংবাদিকের মাথা কেটেছে। তাহলে জামা ছিড়লো কিভাবে_ এ প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান চুপ ছিলেন। বোর্ডের সচিব শাহজাহানও দাবি করেন, তিনি সাংবাদিকদের গায়ে হাত তোলেননি। তখন আহত দুই সাংবাদিক উপস্থিত র্যাব-পুলিশ ও সাংবাদিকদের জানান, ওই সচিব নিজ হাতে তাদের পিটিয়েছেন।

জানা যায়, গতকাল কারিগরি শিৰা বোর্ডের চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলীর বিভিন্ন দুনর্ীতি নিয়ে জনকণ্ঠে একটি রিপোর্ট ছাপা হয়। চেয়ারম্যান জনকণ্ঠের বার্তা সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে রিপোর্টারকে তার কাছে যেতে বলেন। নিউ এজের রিপোর্টার সিদ্দিকুর রহমানও তার সঙ্গে যান।

দুই রিপোর্টার জানান, চেয়ারম্যান জনকণ্ঠের রিপোর্টারকে প্রতিবাদ প্রকাশ করতে বলেন। এ সময় রিপোর্টার তার বক্তব্য লিখিতভাবে দেয়ার অনুরোধ জানান। এ সময় চেয়ারম্যান বলেন, ‘তার আর দরকার হবে না, অন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ এর পরপরই চেয়ারম্যান, সচিব ও কয়েকজন কর্মচারী অশস্নীল ভাষায় গালাগাল করে সাংবাদিকদের মারধর শুরম্ন করেন। দুই সাংবাদিককে দোতলা থেকে মারতে মারতে নিচতলায় এনে প্রধান ফটক পার করে পাশের ভবনে আনসারদের থাকার রম্নমে আটকে রাখা হয়। এ সময় সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন এবং পত্রিকার পরিচয়পত্র কেড়ে নেয়া হয়। পেপারওয়েটের আঘাতে দুই সাংবাদিকেরই মাথা কেটে ও ফুলে গেছে।

খবর পেয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও স্যাটেলাইট চ্যানেলের সাংবাদিকরা কারিগরি শিৰা বোর্ডের গেটের সামনে জড়ো হয়ে চেয়ারম্যান ও সচিবকে গ্রেফতারের দাবি জানান। পুলিশ এবং র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছে চেয়ারম্যানের রম্নমে যাওয়ার পর মেইন গেট বন্ধ করে দেয় আনসাররা। প্রায় দেড় ঘণ্টা পরও র্যাব-পুলিশ সদস্যরা বের না হওয়ায় সাংবাদিকরা একযোগে ফটক খুলে চেয়ারম্যানের রম্নমে গিয়ে সচিব ও চেয়ারম্যানের কাছে সাংবাদিকদের পেটানোর কারণ সম্পর্কে ব্যাখ্যা চান। র্যাব-পুলিশের সদস্যরাও ওই পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খান।

সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/details.php?nid=10075

Leave a Reply