রাজধানীর মগবাজার এলাকায় গতকাল সোমবার দুপুরে ডাকাতদের গুলিতে র্যাব-৩-এর এএসপি বিএম নূরুজ্জামান আহত হয়েছেন। একটি মানি চেঞ্জারে ডাকাতির চেষ্টা প্রতিরোধ করতে র্যাব অভিযান পরিচালনা করতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। র্যাব ও পুলিশ আগ্নেয়াস্ত্রসহ দুই ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে আরো ১০ জনকে র্যাব আটক করেছে। আহত র্যাব কর্মকর্তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের ক্যাডাররা এ ডাকাতির প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
র্যাব সদর দফতর জানায়, মগবাজার টঙ্গী ডাইভারশন রেলগেটের নিকট যাত্রী ছাউনিতে সুব্রত বাইনের ছয় সঙ্গী ডাকাতি করার জন্যে সশস্ত্র অবস্থায় জড়ো হওয়ার খবর পেয়ে র্যাব-৩ দ্রুত অভিযানে বের হয়। যাত্রী ছাউনির নিকট পৌঁছে জটলা দেখে র্যাব কর্মকর্তারা এগিয়ে যান। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা পালাতে গেলে এএসপি বিএম নূরুজ্জামান একজন সশস্ত্র ডাকাতকে জাপটে ধরে ফেলেন। সঙ্গীকে ছাড়িয়ে নিতে ডাকাতরা গুলি বর্ষণ শুরু করে। এ সময়ে নূরুজ্জামানের পেটে একটি গুলি লাগে। এ অবস্থায়ই তিনি ডাকাতকে ধরে রাখেন। অন্যরা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পালিয়ে যায়।
অপরদিকে রমনা থানা পুলিশ খবর পেয়ে মগবাজার মোড়ে এসে পলায়নপর ডাকাত হীরাকে তিন রাউন্ড গুলিভর্তি একটি পিস্তলসহ গ্রেফতার করে। র্যাব কর্মকর্তা নূরুজ্জামানের হাতে আটক ডাকাতের নাম মোঃ আকতার হোসেন। তার কাছ থেকে চার রাউন্ড গুলিভর্তি একটি বিদেশী রিভলবার উদ্ধার করা হয়। এরপর গোটা এলাকায় র্যাব তল্লাশি চালিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে ১০ জনকে আটক করেছে। এদিকে আহত র্যাব কর্মকর্তাকে প্রথমে পান্থপথে শমরিতা হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে বেলা আড়াইটায় তাকে সিএমএইচ-এ স্থানান্তর করা হয়। সিএমএইচ-এ অপারেশনের পর র্যাব কর্মকর্তা বিপদমুক্ত হয়েছেন। গ্রেফতারকৃত আকতার ও হীরা জিজ্ঞাসাবাদে মানি চেঞ্জারে ডাকাতি করার জন্যে জড়ো হওয়ার কথা স্বীকার করেছে।
Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-05-15




