পুত্রসহ হান্নান শাহ গ্রেফতার

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও সাবেক পাটমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) আসম হান্নান শাহ ও তার বড় ছেলে শাহ রেজাউল হান্নানকে সোমবার দুপুরে ডিওএইচএসের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল বিকেলে কাপাসিয়া থানার একটি চাঁদাবাজির মামলায় তাদের ৭ দিনের রিমাণ্ড চেয়ে গাজীপুর প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে তাদের ৫ দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করা হয়। সেখান থেকে তাদেরকে কাপাসিয়া থানায় নিয়ে যায়। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) হান্নানসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে শনিবার কাপাসিয়া থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা হয়। কাপাসিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রুহুল আমিন বাদী। মামলার অপর আসামীরা হলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও সাবেক এমপি মোঃ ওবায়েদ উল্লাহ, হান্নান শাহর পুত্র ও জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি শাহ রেজাউল হান্নান, বিএনপির নেতা সাইদুল ইসলাম দিলু, ছাত্রদল নেতা রুবেল সরকার, জুয়েল ও সেলিম।

যেভাবে গ্রেফতার করা হয়

গতকাল দুপুরে পুলিশসহ অন্য একটি গোয়েন্দা সংস্থা এবং সাদা পোশাকের নিরাপত্তাকর্মীরা মহাখালী ডিওএইচএসের বাসভবনে যায়। ঐসময় পুলিশসহ নিরাপত্তাকর্মীরা হান্নান শাহ ও তার পুত্র শাহ রেজাউল হান্নানকে ক্যান্টনমেন্ট থানায় যেতে বললে তার ছোট পুত্র শাহ রিয়াজুল হান্নান নিরাপত্তাকর্মীদের নিকট অভিযোগ জানতে চান। উত্তরে নিরাপত্তাকর্মীরা বলে, উপরের নির্দেশে তাদেরকে থানায় যেতে হবে। পরে হান্নান ও তার পুত্র শাহ রেজাউল হান্নান বাসা থেকে বেরিয়ে আসেন। পুলিশের গাড়িতে তুলে পিতা-পুত্রকে ক্যান্টনমেন্ট থানায় নিয়ে যায়। বিকেলে কাপাসিয়া থানার ওসির নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে তাদের নিয়ে যায়। উল্লেখ্য, শুক্রবার সলমানিয়া গ্রামের বাসিন্দা মাইন উদ্দিন বাদি হয়ে কাপাসিয়া থানায় হান্নান শাহ ও তার পুত্রের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। প্রকাশ, ১৯৯৫ সালে পাটমন্ত্রী থাকাকালে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) হান্নান শাহ কাপাসিয়া উপজেলায় চাহিদার তুলনায় বেশী সার বরাদ্দ করেন। আস্থাভাজন দুই নেতাকে সম্পূর্ণ সার বরাদ্দ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। ঐসময় সার সংকট নিয়ে স্থানীয় কৃষকরা আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে জলমহালের ৫০ একর লিজ নিয়ে দখল করেন ১৫০ একর। ফলে ৫ গ্রামের বাসিন্দারা দুর্ভোগের শিকার হয়। জলাশয়ে মাছ ধরার অপরাধে নিরীহ লোকজনকে নির্যাতন ও হয়রানি করেন। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় ৪০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের নামে দুর্নীতির মাধ্যমে সিংহভাগ টাকা আত্মসাৎ করেন।

তার পুত্র শাহ রেজাউল হান্নান গাজীপুর-ভাওয়াল পরিবহন লিমিটেডের চেয়ারম্যান হয়ে গত ৫ বছরে পরিবহন সেক্টরে প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করেন। আমেরিকায় লোক প্রেরণের নামে ১৫০ জনের প্রত্যেকের নিকট থেকে সাত লাখ টাকা করে নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।

গাজীপুর ও কাপাসিয়া সংবাদদাতা জানান, হান্নান শাহ ও তার ছেলে শাহ রেজাউল হান্নানকে সোমবার সন্ধ্যায় গাজীপুরের প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রিমান্ডের জন্য আনা হয়। কড়া পুলিশ প্রহরায় আদালতে হান্নান শাহ এবং ছেলে ছিলেন। এ সময় তাদের বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাপাসিয়া থানার এসআই আবুল বাশার। গাজীপুর কোর্ট দারোগা সিরাজুল ইসলাম রিমান্ডের পক্ষে বক্তব্য রাখেন। পক্ষান্তরে আসামিদের পক্ষে অর্ধ শতাধিক আইনজীবী রিমাণ্ডের বিরোধিতা করেন। একপর্যায়ে হান্নান শাহও আদালতের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য পেশ করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি মিথ্যা।

এদিকে একই আদালতে শাহ রেজাউল হান্নানকে বাদী মাইনুদ্দিন কর্তৃক কাপাসিয়া থানায় দায়েরকৃত অপর একটি মামলায় এ্যারেস্ট দেখিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট অপর একটি মামলায় রিমান্ড দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তার আর রিমান্ডের প্রয়োজন হবে না বলে জানান। পরে হান্নান শাহ ও তার ছেলেকে কাপাসিয়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ম্যাজিস্ট্রেট রিমান্ডের আবেদনের মঞ্জুরের রায়ে হান্নান শাহকে সতর্কতার সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ, তাদের সামাজিক মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য রেখে যথাযথ আচরণের নির্দেশ দেন। এছাড়া হান্নান শাহের সুচিকিৎসা করানোর জন্যও নির্দেশ দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, কাপাসিয়ার প্রভাবশালী এই নেতা, তার পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গত এক সপ্তাহে ৪টি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে একটি মামলায় তিনি ও তার ছেলে উচ্চ আদালতের জামিনে ছিলেন। সোমবার গাজীপুরের আদালতে হাজির করার সময় হান্নান শাহের ছোট ছেলে শাহ রিয়াজুল হান্নান উপস্থিত ছিলেন।

Source:দৈনিক ইত্তেফাক
Date:2007-05-15

Leave a Reply