গলদ নয় সাফল্য তুলে ধরতে মিডিয়ার প্রতি ড. ইউনূসের আহ্বান নির্বাচন হতেই হবে

শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ও গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে হলে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই৷ নির্বাচন করতে হলে দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল শান্তি চুক্তি বা সমঝোতায় আসতে পারে৷ জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৫২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে ড. ইউনূস এ কথা বলেন৷ অনুষ্ঠানে ড, ইউনূসকে সংবর্ধনা ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের জীবন সদস্যপদ দেয়া হয়৷ প্রেস ক্লাবের সভাপতি রিয়াজউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় উদ্বোধনী ভাষণ দেন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শওকত মাহমুদ৷
অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস বলেন, দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যত্ টিকিয়ে রাখতে হলে নির্বাচন করতে হবে৷ নির্বাচনের বিকল্প অন্য যেসব পথ রয়েছে তার খারাপ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের মানুষের রয়েছে৷ কিন্তু বাংলাদেশ সেই পথে ফিরে যেতে চায় না৷ সেই পথ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়৷ তিনি বলেন, যতো বড় যুক্তিই থাক, নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানো কিংবা সংঘাতের পথ বেছে নেয়া ঠিক হবে না৷
তিনি বলেন, নির্বাচন করতে হলে দুটি রাজনৈতিক দলকে সমঝোতায় উপনীত হয়ে শান্তি চুক্তি করতে হবে বলে আমি প্রস্তাব করেছি৷ আমি শান্তি চুক্তিতে যেসব বিষয় উল্লেখ করেছি, তা-ই যে থাকতে হবে ঠিক তা নয়৷ আমার প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তি অনেকের কাছে আজগুবি মনে হতে পারে৷ তবে এর কোনো বিকল্প আছে বলে আমার মনে হয় না৷ অন্য কোনো ভালো প্রস্তাব আর কারো থাকলে সেটা দিতে পারেন৷
ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের সামনে এখন দুর্যোগ উপস্থিত৷ এ দুর্যোগের সময় আমাদের সবাইকে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে৷ গঠনমূলক ভূমিকা পালন না করতে পারলে আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্মের কছে দায়ী থাকতে হবে৷ গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসতে সব রাজনৈতিক দলকে ভেদাভেদ ভুলে নির্বাচনে আসার আহ্বান জানান তিনি৷
সংবাদপত্রের ভূমিকা সম্পর্কে ড. ইউনূস বলেন, সংবাদ পরিবেশনায় সাংবাদিকদের আরো সতর্ক হওয়া উচিত৷ আমার মনে হয় অনেক সময় যা বলা হয় সংবাদপত্রে তা হুবহু ছাপা হয় না৷ পরে সংশোধনী দেয়া হলেও আগের ভুল সংবাদটিও উদ্ধৃত করা হয়৷
ড. ইউনূস এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি তার প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তি সম্পর্কিত প্রকাশিত সংবাদে কিছু ত্রুটি তুলে ধরেন৷ ড. ইউনূস এ সম্পর্কে বলেন, কিছু সংবাদপত্রে ‘সর্বদলীয় সরকারের’ কথা উল্লেখ করা হয়েছে৷ আমি সর্বদলীয় সরকারের কথা বলিনি৷ আমি একটি কোয়ালিশন সরকারের কথা বলেছিলাম৷ তিনি বলেন, আমাদের সংবাদপত্রগুলোতে নেতিবাচক খবর যেভাবে আসে সেভাবে ইতিবাচক সংবাদ থাকে না৷ গলদ খুজে বের করাটাই সংবাদপত্রের একমাত্র কাজ হতে পারে না৷ নেতিবাচক খবর সংগ্রহ এবং পরিবেশনে যতোখানি শ্রম আমাদের সাংবাদিকরা করেন, সেই পরিমাণে ইতিবাচক খবরের পেছনে শ্রম তারা দেন না৷ ভালো সংবাদ ছাপালে আরো বেশি মানুষ ভালো কাজ করতে উত্সাহী হবে৷ তাই ইতিবাচক খবর আরো বেশি ছাপানো উচিত৷ সংবাদপত্রকে দৈনন্দিন জীবনের দর্পণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জাতিকে জাগিয়ে তোলার কাজে, ঐক্য গড়ার কাজে, সাফল্যকে উত্সাহিত করার জন্য সংবাদপত্রকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান৷
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ড. ইউনূসকে একটি ফটোগ্রাফি উপহার দেয়া হয়৷ অনুষ্ঠান শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়৷ এরপর অনুষ্ঠিত হয় অ্যানুয়াল ডিনার৷

সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=21599&issue=156&nav_id=1

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: