তিন উপদেষ্টার গতকালের দূতিয়ালিও কোনো ফল বয়ে আনেনি

দায়িত্ব গ্রহণের ৩৬তম দিনে কেয়ারটেকার সরকারের তিন উপদেষ্টার গতকাল রবিবারের দূতিয়ালিও কোনো ফল বয়ে আনতে পারেনি৷ দিনভর সভা করে কাল তারা সন্ধ্যায় দুই জোটের সঙ্গে আলাপ করতে বনানীর ভবন ও ধানমন্ডির সদনে যান৷ বনানীর হাওয়া ভবনে কেয়ারটেকার সরকারের তিন অ্যাডভাইজর দেখা করেন খালেদা জিয়ার সঙ্গে৷ এরপর তারা যান ধানমন্ডিতে শেখ হাসিনার বাসা সুধা সদনে৷ বৈঠকের ফল সম্পর্কে তিন পক্ষের কেউই খোলাসা কিছু না বললেও নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানাচ্ছে ফল শূন্য৷ এ পটভূমিতে ১৪ দলের দেশ অবরোধ কর্মসূচি আজো চালু থাকছে৷
শনিবার রাতে প্রেসিডেন্ট ও তার পুরো অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল বঙ্গভবনে দুই নেত্রীর সঙ্গে রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনের প্যাকেজ প্রস্তাব নিয়ে বসেছিলেন৷ প্রস্তাবে চার দল অনুকূল সাড়া দেয়৷ কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সঙ্গে মধ্যরাত পর্যন্ত দরকষাকষি করেও তাদেরকে রাজি করানো যায়নি৷ বরং শেখ হাসিনা চার দফা দাবি পেশ করে সেগুলো না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে বঙ্গভবন থেকে বেরিয়ে যান৷
গতকাল রবিবার অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল দিনভর নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে হাসিনার দাবিগুলো পূরণের অনুকূলে তাদের আগেকার প্যাকেজ প্রস্তাব পুনর্বিন্যস্ত করে৷ নতুন এ প্রস্তাব নিয়ে সন্ধ্যায় তারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেন৷ এতে ১৪ দলের অনুকূলে একটি ফয়সালার ব্যাপারে কেয়ারটেকার সরকারের উদ্যোগ হোচট খায়৷ এরপর রাত ৯টার দিকে তারা পৌছান ধানমন্ডির সুধা সদনে৷ সেখানে শেখ হাসিনা ও ১৪ দলের নেতাদের সঙ্গে তারা বৈঠক শুরু করেন ৯টা ৫ মিনিটে৷ টানা প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠক শেষে রাত ১১টার দিকে সুধা সদন থেকে বেরিয়ে তথ্য উপদেষ্টা মাহবুবুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনা হয়েছে সৌহার্দ্যপূর্ণ৷ কিন্তু এখনই অগ্রগতির ব্যাপারে কিছু বলা যাবে না৷ তাহলে আলোচনা ভেস্তে যেতে পারে৷ শনিবার রাতের আলোচনার সূত্র ধরে আমরা আমাদের প্রস্তাব রেখেছি৷ তারা তাদের কথা বলেছেন৷ আমরা সোমবার (আজ) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবো৷ তিনি বলেন, এটা অন গোয়িং প্রসেস৷ আমরা খুবই আশাবাদী৷
শেখ হাসিনার সঙ্গে উপদেষ্টাদের বৈঠকের সময় আরো উপস্থিত ছিলেন আবদুল জলিল, আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, পংকজ ভট্টাচার্য প্রমুখ৷
এর আগে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক শেষে উপদেষ্টা মাহবুবুল আলম সাংবাদিকদের জানান, বিএনপি প্রধানের সঙ্গে তাদের ওই বৈঠক গত শনিবার রাতের আলোচনারই ধারাবাহিকতা৷
উপদেষ্টারা চলে যাওয়ার পর বিএনপি মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া সাংবাদিকদের জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাদের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপার্সনের আলোচনা বেশ ফলপ্রসূ হয়েছে৷ তিনি বলেন, চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নেয়া উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছি আমরা৷ তারা সফল হবে বলে আমরা আশাবাদী৷
এদিকে নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফা প্যাকেজে কেয়ারটেকার সরকার ইলেকশন কমিশনার স ম জাকারিয়া ও মোদাব্বির হোসেন চৌধুরীকে ছুটিতে যেতে অনুরোধ জানানোর প্রস্তাব দিয়েছে৷ ১৪ দলের দাবি অনুযায়ী প্রশাসনের বেশ কজন সচিবকে সরিয়ে দেয়া এবং ইলেকশনের শেডিউল বদলানোর ব্যাপারেও ওই প্যাকেজে প্রস্তাব রয়েছে৷ গতকাল রবিবার বঙ্গভবনে উপদেষ্টা পরিষদের দীর্ঘ বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত একটি প্যাকেজ আকারে চূড়ান্ত করার পর সেই প্যাকেজ প্রস্তাবসহ তিন উপদেষ্টাকে পাঠানো হয় দুই প্রধান রাজনৈতিক নেত্রীর কাছে ৷
এর আগে বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত টানা ছয় ঘণ্টার বৈঠক শেষে কেয়ারটেকার সরকারের স্পোকসম্যান ও তথ্য উপদেষ্টা মাহবুবুল আলম বঙ্গভবনের বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের বলেন, শনিবার রাতে দুই প্রধান রাজনৈতিক জোটের নেতারা যেসব দাবি-দাওয়ার কথা জানিয়ে গেছেন আমরা সেগুলো নিয়েই আলোচনা করেছি৷ এ পর্যায়ে তাদের উদ্দেশে সরকার আরো একটি প্যাকেজ প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে৷ এ প্রস্তাব নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদের তিনজন সদস্য খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করবেন৷ সাংবাদিকদের এটুকু জানিয়েই মাহবুবুল আলম অপর দই উপদেষ্টা বিচারপতি ফজলুল হক ও সি এম শফি সামীকে সঙ্গে নিয়ে সোজা চলে যান বনানীতে বিএনপি চেয়ারপার্সনের অফিসে৷ সেখান থেকে রাতে যান ধানমন্ডির সুধা সদনে৷
এদিকে বঙ্গভবনে উপদেষ্টাদের ছয় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকের আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেছেন, বৈঠকে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে৷ এ ব্যাপারে চলতি সপ্তাহের মধ্যে ফলাফল পাওয়া যাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন৷
নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির বিষয়ে উপদেষ্টা পরিষদের নেয়া সিদ্ধান্তের সঙ্গে চিফ অ্যাডভাইজর একমত হয়েছেন কি না- জানতে চাইলে সুলতানা কামাল বলেন, তিনি অবশ্যই একমত পোষণ করেন৷ তারপরও আমরা এ ব্যাপারে সতর্কতার সঙ্গে এগুচ্ছি৷ এবার আমি জোরালোভাবেই বলছি- নির্বাচন যথাসময়েই অনুষ্ঠিত হবে৷ ৯০ দিনের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের চেষ্টা করবো৷ আমরা অনেক দূর এগিয়েছি৷
চলমান লাগাতার অবরোধ কর্মসূচির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপদেষ্টা বলেন, ১৪ দলের দাবি অনুযায়ী যদি কিছু ফল দেয়া যায় তাহলে তারা তা বিবেচনা করে দেখবেন৷ তবে অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহারের বিষয়টি সম্পূর্ণই ১৪ দলের ওপর নির্ভর করছে বলে তিনি জানান৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=21868&issue=158&nav_id=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: