১৪ দলের চতুর্থ দফা অবরোধের প্রথম দিনেই প্রাণহানি, গুলিতে অনেকে আহত

চিফ অ্যাডভাইজরের পদ থেকে প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের পদত্যাগ, নির্বাচন কমিশন সংস্কারসহ বিভিন্ন দাবিতে ১৪ দলের ডাকা চতুর্থ দফা অবরোধ কর্মসূচির প্রথম দিন রবিবার রাজধানীতে দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে৷ তবে সিলেটের বিশ্বনাথপুরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বন্দুকযুদ্ধে ছাত্রদলের একজন নিহত হয়েছেন৷ শরীয়তপুরে পুলিশের সঙ্গে ১৪ দল কর্মীদের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ১৬ জন৷ এছাড়া সারা দেশে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আরো জনা পঞ্চাশেক৷
অবরোধ কর্মসূচিতে দিনের শুরুতেই সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকা৷ অভ্যন্তরীণ জনজীবন চলে ছেড়াখোড়াভাবে৷ কর্মজীবী মানুষের মধ্যে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ৷ রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলো থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছাড়েনি৷ তবে রাজধানীর কোনো কোনো পয়েন্টে যানবাহনের জটলা দেখা গেছে৷
এ নিয়ে চতুর্থ দফা অবরোধ হওয়ায় আগের তুলনায় রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা অনেক বেশি ছিল৷ সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশার দখলে ছিল পুরো মহানগরী৷ অভিজাত শপিং মলগুলো বন্ধ থাকলেও ছোটখাটো দোকানপাট খোলা ছিল৷ ১৪ দলের পক্ষ থেকে রাজধানীর ৩০ স্পটে নেতাকর্মীদের জড়ো হয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়া হলেও অনেক স্পটেই পিকেটারদের দেখা মেলেনি৷ সকালে মিরপুর ১০ নাম্বার এলাকায় কয়েকটি যানবাহন ভাংচুর করে অবরোধকারীরা৷ মিরপুর এক নাম্বার এলাকায় অবরোধকারীরা যানবাহন ভাংচুর করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়৷ এ সময় অবরোধকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে৷ এখানে ইটের আঘাতে এক পুলিশ সদস্য আহত হন৷ পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে তাত্ক্ষণকিভাবে ৠাব সেখান থেকে এক যুবককে গ্রেফতার করে৷ দুপুরে কলাবাগানে পিকেটাররা একটি প্রাইভেটকারে আগুন ধরিয়ে দেয়৷ কর্মসূচি চলাকালে বিভিন্ন মঞ্চ থেকে ১৪ দলের নেতারা ঘোষণা করেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরবেন না৷ লাগাতার অবরোধও চলবে৷
সিলেটে ছাত্রদল নেতা নিহত
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের মধ্যে তিন ঘণ্টার সংঘর্ষে ছাত্রদল নেতা ফয়েজ আহমদ আনু (২৫) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন৷ আহত হয়েছেন বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোজাহিদ আলীসহ ৩৫ জন৷
নিহত আনু বিশ্বনাথের দশঘর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি৷ পুলিশ এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আওয়ামী লীগের তিন কর্মীকে গ্রেফতার করেছে৷ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ফরিদ আহমদ (১৮) ও আবদুল আহাদ (২৬) নামে তাদের দুই কর্মীকে কিডন্যাপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে৷
বিশ্বনাথ বিএনপি এ হত্যাকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমানকে সরাসরি দায়ী করেছে৷ তারা বলেছে, মুহিবুর রহমান সিলেট থেকে ভাড়াটিয়া ক্যাডার বাহিনী এনে এ খুনের ঘটনা ঘটিয়েছেন৷
সিলেটের পুলিশ সুপার আবদুর রহিম বিশ্বনাথে দু’পক্ষের গোলাগুলিতে আহত একজন ওসমানী হাসপাতালে মারা যাওয়ার কথা স্বীকার করেন৷ যায়যায়দিনের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে৷
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অবরোধের প্রতিবাদে বিশ্বনাথ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা গতকাল সকাল ৮টা থেকে বিশ্বনাথ-রামপাশা রোডে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমানের বাড়ি সংলগ্ন রাস্তায় কর্মসূচি পালন করছিল৷ এ কারণে মুহিবুর রহমান বাড়ির ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন৷ খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মুহিবুর রহমানের সমর্থকরা বিশ্বনাথের আমতৈল বাজার থেকে দুটি ট্রাকে ঘটনাস্থলে এলে দু’পক্ষের মধ্যে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া৷ এ সময় ১৪ দল কর্মীরা মুহিবুর রহমানের বাসার ভেতরে ঢুকে পড়ে৷ আর বিএনপি নেতাকর্মীরা রাস্তায় অবস্থান অব্যাহত রাখে৷ দু’পক্ষ নিজ নিজ অবস্থানে থেকে প্রতিপক্ষের দিকে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে৷
এক পর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়৷ ৮-১০ রাউন্ড গুলি চালানো হয়৷ এতে ছাত্রদল নেতা ফয়েজ আহমদ আনু গুলিবিদ্ধ হন৷ আহত অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে আসার পর তিনি মারা যান৷ সংঘর্ষে দু’পক্ষের আরো ৩৫ নেতাকর্মী আহত হয়৷
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারগ্যাস ও ফাকা গুলি ছোড়ে৷ অবশ্য সিলেটের এসপি টিয়ারগ্যাস ও ফাকা গুলিবর্ষণের ঘটনা অস্বীকার করেন৷ তিন ঘণ্টা পর বেলা দেড়টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে৷ এলাকায় দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে৷
বিএনপি সভাপতি ছাড়াও সংঘর্ষে আহত অন্যরা হলেন যুবদল নেতা রাসেল আহমদ, ছাত্রদল নেতা জুয়েল আহমদসহ কমপক্ষে আরো ২৫ জন৷ তাদের সিলেট ওসমানী হাসপাতাল, নগরীর বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে৷ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রইছ উদ্দিন (৪০), হেলাল মিয়া (২২), রফিক মিয়া (৩০), ফজলু মিয়া (৩৬), হেলাল উদ্দিন (২২) ও শ্যামলসহ (৩০) তাদের ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে৷
সংঘর্ষের পরপর পুলিশ মুহিবুর রহমানের বাড়ি সার্চ করে আজমল আলী (৩০), সুজন মিয়া (২৭) ও ফরিদ উদ্দিন (২৫) নামে তিন কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে৷ ৠাবের একটি টহল দলও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে৷

রাজধানীর অবরোধ স্পটগুলো
স্পট মুক্তাঙ্গন-বঙ্গবন্ধু এভিনিউ
মুক্তাঙ্গন, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ ও গুলিস্তান এলাকা ছিল আন্দোলনকারী নেতাকর্মীদের দখলে৷ কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই এ এলাকায় হাজার হাজার নেতাকর্মী তাদের দাবির সমর্থনে মিছিল-সমাবেশ করেছে৷ একাধিক বিজয় মঞ্চ বানিয়ে সেখানে দিনভর বক্তৃতা করেছেন ১৪ দলের নেতারা৷ আন্দোলনকারীদের চাঙ্গা রাখতে কয়েকটি মঞ্চে বক্তব্যের ফাকে ফাকে সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়েছে৷ সব মিলিয়ে মুক্তাঙ্গন ও বঙ্গবন্ধু এলাকায় ছিল উত্সবের আমেজ৷ আন্দোলনকারীদের হাতে এবং বিজয় মঞ্চগুলোতে শোভা পাচ্ছিল প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের কার্টুন, ফেস্টুন৷ তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি বিডিআর মোতায়েন ছিল৷
জিরো পয়েন্টে নূর হোসেন চত্বরে তৈরি করা বিজয় মঞ্চে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়৷ এই মঞ্চে দিনভর চলে বক্তৃতা, দেশাত্মবোধক গান, গণসঙ্গীত ও কবিতা আবৃত্তি৷ এখানে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান মান্না, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বাহাউদ্দিন নাছিম, সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা৷
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ১৪ দলের দাবির পক্ষে বাংলার জনতা রাজপথে নেমেছে৷ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা কেউ ঘরে ফিরবে না৷
মুক্তাঙ্গনে স্থাপন করা হয় যুব সংগ্রাম পরিষদের মঞ্চ৷ সকাল থেকেই এ মঞ্চকে ঘিরে জড়ো হতে থাকে ১৪ দল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা৷ বেলা ১১টা পর্যন্ত যুব সংগ্রাম পরিষদের নেতারা এ মঞ্চে বক্তব্য রাখেন৷ গুলিস্তানে চলচ্চিত্র লীগের উদ্যোগে স্থাপন করা হয় আরেকটি মঞ্চ৷ সেখানে বক্তৃতার পাশাপাশি দিনভর সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়৷ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ছাত্র মঞ্চ থেকে ১৪ দলের দাবির পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শাহবাগ থানার ওসি রেজাউলের প্রত্যাহার দাবি করা হয়৷ মিরপুর-গাবতলী-রাসেল স্কয়ার
কর্মসূচি চলাকালে মিরপুর, পল্লবী, গাবতলী, কল্যাণপুর, ধানমন্ডি এলাকায় জনজীবন ছিল স্থবির৷ অধিকাংশ দোকানপাট, শপিং সেন্টার বন্ধ ছিল৷ বাস-মিনিবাসহ যাত্রীবাহী কোনো যানবাহন চলাচল করেনি৷ সড়কগুলো ছিল রিকশার দখলে৷ সকালের দিকে হাতে গোনা কয়েকটি যাত্রীবাহী বাস রাস্তায় নামলেও সকাল সাড়ে ১০টায় শ্যামলীতে আধা ঘণ্টার ব্যবধানে তিনটি বিআরটিসি ডাবল ডেকার বাস ভাংচুর করে ১৪ দলের কর্মীরা৷ এরপর থেকে মিরপুর রোডে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়৷ মিরপুর ১ নাম্বারেও দুটি বাসের কাচ ভাংচুর করা হয়৷ শ্যামলী-মিরপুর স্পটে কালো পিচের রাস্তায় মুক্তোর দানার মতো গাড়ির ভাঙা কাচ পথচারী ও যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়৷ এছাড়া মিরপুর পল্লবী এলাকায় আর কোনো অঘটন ঘটেনি৷
মিরপুর ১২ নাম্বার বাস স্ট্যান্ডে আওয়ামী লীগ নেতা হাজী ইলিয়াস মোল্লার নেতৃত্বে দিনভর সমাবেশ ও গণসঙ্গীত পরিবেশন করা হয়৷ সেখান থেকে কোনো বাস ছাড়তে পারেনি৷ মিরপুর ১০ নাম্বার গোলচত্বরে আওয়ামী লীগ নেতা কামাল আহমেদ মজুমদারের সভাপতিত্বে সারা দিন সমাবেশ চলে এবং সেখান থেকে প্যারোডি সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়৷ রাস্তা বন্ধ করে রাখায় সেখানেও রিকশা ছাড়া অন্য কোনো গাড়ি চলেনি৷ রাস্তায় হাজার হাজার যাত্রী তাদের মালপত্রসহ হেটে যার যার বাসায় পৌছেন৷ অবরোধের কারণে নগরীর পথ জুড়ে রিকশার আধিক্য ছিল৷ পিকেটারদের কোনো বাধা না পেয়ে নগরীর প্রধান সড়কগুলোতেও রিকশা ভিড় করে৷ যাত্রীরা শেয়ার করে মালবাহী ভ্যানে যাতায়াত করেন৷
গাবতলীতে ঘোষিত অবরোধ স্পট থাকলেও পুলিশ দিনভর মাজার রোডে ব্যারিকেড দিয়ে রাখায় ১৪ দলের নেতাকর্মীরা টার্মিনালে অবস্থান নিতে পারেনি৷ তবে তাদের কোনো বাধা ছাড়াই রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল৷ স্থানীয় ১৪ দলের নেতাকর্মীরা সকাল ১০টা থেকে মাজার রোডের মাথায় সমাবেশ ও গণসঙ্গীত পরিবেশন করে৷ তারা সকালে দু’বার চেষ্টা করেও টার্মিনালে ঢুকতে পারেনি৷
ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুর এলাকায় স্থানীয় ১৪ দল নেতাকর্মীরা সকাল থেকে মিছিল নিয়ে মিরপুর রোড অবরোধ করে৷ পরে তারা রাসেল স্কয়ারে জড়ো হয়ে দিনভর গণসঙ্গীত ও সমাবেশ করে৷ রাসেল স্কয়ারের সমাবেশে মোহাম্মদ নাসিম, খ ম জাহাঙ্গীর, মির্জা আজম, অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, বাহাউদ্দিন নাছিম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন৷
স্পট যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদ বাস স্ট্যান্ড
১৪ দলের খণ্ড খণ্ড মিছিল যাত্রাবাড়ী মোড় ও সায়েদাবাদ বাস স্ট্যান্ডে এসে জড়ো হয়৷ ডেমরার সাবেক এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লার নেতৃত্বে একটি মিছিল যাত্রাবাড়ী থেকে শুরু হয়ে সায়েদাবাদ হয়ে বৃজের উত্তর পাশে অবস্থান নেয়৷ ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনিরুল ইসলাম মনুর নেতৃত্বে অন্য একটি মিছিল সায়েদাবাদ থেকে শুরু করে যাত্রাবাড়ী হয়ে সায়েদাবাদ বৃজের দক্ষিণ পাশে অবস্থান নেয়৷ সেখানে তারা সমাবেশ করে৷ বেলা ১১ টার দিকে যাত্রাবাড়ী মোড়ে আওয়ামী লীগের একটি মিছিল থেকে কয়েকজন পিকেটার তিন-চারটি বাস ভাংচুর করে৷ সায়েদাবাদ বাস স্ট্যান্ড থেকে দেশের কোথাও দূরপাল্লার কোনো গাড়ি ছেড়ে যায়নি৷ এছাড়া ঢাকার বাইরে থেকেও কোনো গাড়ি আসেনি৷ দুপুর থেকে অবরোধকারীদের সংখ্যা কমতে থাকে৷
স্পট পুরনো ঢাকা-সদরঘাট
বংশালের নর্থসাউথ রোডে মোহাম্মদ সাঈদ খোকনের নেতৃত্বে কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগ রাস্তার পাশে মঞ্চ তৈরি করে সকাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বক্তৃতা ও গণসঙ্গীত পরিবেশন করে৷ অবরোধ স্থানে যে কোনো সংঘর্ষ এড়াতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ অবরোধকারীদের ঘিরে রাখে৷ তাতীবাজার ও দয়াগঞ্জ মোড়ে প্রচুর ৠাব ও পুলিশ দেখা যায়৷ ১৪ দলের ডাকা লাগাতার অবরোধ থাকা সত্ত্বেও সদরঘাট নৌবন্দর ছিল স্বাভাবিক৷ সদরঘাট থেকে যথাসময়ে সকল রুটের লঞ্চ ছেড়ে যায়৷ বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, যাত্রীসংখ্যা অন্য অবরোধের তুলনায় ছিল অনেক বেশি৷ বৃহত্তর বরিশাল থেকে নির্ধারিত সময়ে লঞ্চ সদরঘাট আসে৷
স্পট কমলাপুর রেল স্টেশন
অবরোধ চলাকালে নর্থ বেঙ্গলসহ অন্যান্য রুটের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল৷ স্টেশন সূত্রে জানা যায়, সকালে ঢাকার বাইরে থেকে যে ট্রেনগুলো আসার কথা সেগুলো যথাসময়ে ঢাকায় পৌছেছে৷ সিলেট ও চট্টগ্রামসহ অন্যান্য রুটের ট্রেনগুলো কমলাপুর থেকে ছেড়ে গেছে৷ স্টেশন থেকে সকালে একতা, উপকূল, সুন্দরবন, পারাবাত, এগারো সিন্ধুর, তিস্তা ও মহানগর প্রভাতী ছেড়ে যায়৷ ঢাকার বাইরে থেকে একতা, তূর্ণা নিশীথা, উপবন, ব্রহ্মপুত্র, নোয়াখালী এক্সপ্রেস এবং ওয়ান ডাউন কমলাপুর রেল স্টেশনে আসে৷ তবে বলাকা, কর্ণফুলী, তিতাস এবং কমিউটার কোনো কোনো স্থানে বাধা পাওয়ার আশঙ্কায় স্টেশন ছেড়ে যায়নি৷ সকালে কমলাপুরে বেশ কিছু যাত্রীকে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়৷
স্পট মালিবাগ মোড়
সকাল থেকে মতিঝিল ও সবুজবাগ থানা ১৪ দলের খণ্ড খণ্ড মিছিল মালিবাগ মোড়ে এসে জড়ো হতে থাকে৷ এতে দুই থানার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ছাড়াও মহানগর ১৪ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হয়৷ সকাল থেকে অবস্থান এবং মাঝে মাঝে সঙ্গীত বাজাতে থাকে স্থানীয় শিল্পীরা৷ বিকালে স্থানীয় সাবেক এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতা সাবের হোসেন চৌধুরী সেখানে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন৷
স্পট মহাখালী
মহাখালীতে ঢিলেঢালা শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হলো ১৪ দলের অবরোধ কর্মসূচি৷ অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের নেতৃত্বে মহাখালীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ও পার্শ্ববর্তী থানার ১৪ দলীয় নেতাকর্মীরা সকাল থেকে এ কর্মসূচি পালন করে৷

সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=21869&issue=158&nav_id=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: