প্যাকেজ প্রস্তাবের প্রশংসা করলেন গ্যাস্টরাইট

আমেরিকার উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন গ্যাস্টরাইট বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ‘প্যাকেজ প্রস্তাবের’ প্রশংসা করে বলেছেন, উপদেষ্টাদের প্রস্তাব দেশকে অবাধ ও নিরপেক্ষ সংসদ নির্বাচনে সহায়তা করবে ও বাংলাদেশকে কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে৷ এক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোকে সহনশীল ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন৷
গত রবিবার রাতে বাংলাদেশ সফরে আসা জন গ্যাস্টরাইট গতকাল সোমবার অর্থ উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন৷
গ্যাস্টরাইট গতকাল সকালবেলা অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন৷ এরপর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের তিনি তার মতামত জানান৷ তার মতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি ‘সৃজনশীল’ প্রস্তাব নিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে৷ উপদেষ্টারা খুব স্বচ্ছ ধারণা নিয়ে প্যাকেজ প্রস্তাবটি তৈরি করেছেন৷ তারা খুব সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে৷ এখন সব রাজনৈতিক দলের উচিত এ সরকারকে সাহায্য করা৷
রাজনৈতিক দলগুলোকে সহনশীল ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে৷ তিনি বলেন, চলমান রাজনৈতিক সমস্যাগুলো মিটিয়ে ফেলার এখনই সময়৷
জন গ্যাস্টরাইট বলেন, আমি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলবো এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাবো৷ রাজনৈতিক দলগুলো একসঙ্গে কাজ করতে পারলে সফলতা আসবেই ৷
তিনি বলেন, উপদেষ্টারা একটি স্বচ্ছ ধারণা ও প্রস্তাবনা নিয়ে এগুচ্ছেন, যা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে সহায়তা করবে৷ উপদেষ্টারা খুবই সতর্কতার সঙ্গে সামনে এগুচ্ছেন এবং এটা ইতিবাচক ফল নিয়ে আসবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন৷
সন্ধ্যায় গ্যাস্টরাইট বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দেখা করেন৷ সাক্ষাত্ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমেরিকা আন্তরিকভাবে চায়, উদারপন্থী ইসলামিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে৷ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাদের বৈঠকে ইতিবাচক ফল বেরিয়ে আসবে- এ আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, তার দৃঢ় বিশ্বাস বাংলাদেশের জনগণ এ ফলের প্রতি সমর্থন জানাবে৷
গ্যাস্টরাইট বলেন, আমেরিকা আশা করছে, রাজনৈতিক দলগুলো নমনীয় হয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করবে৷ বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণের কথা ভেবে দলগুলো একসঙ্গে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন৷
তিনি বলেন, গণতন্ত্রে সন্ত্রাসের কোনো স্থান নেই৷ অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ও সহিংসামুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করার স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলো একটি সমঝোতায় পৌছবে বলে তিনি মনে করেন৷
এক প্রশ্নের জবাবে গ্যাস্টরাইট বলেন, আমাদের কাজ হচ্ছে বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন জানানো এবং আমরা সেটাই করছি৷ আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সমর্থন জোগাচ্ছি৷
এ সময় বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান সাংবাদিকদের জানান, খালেদা জিয়ার সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সময় গ্যাস্টরাইট দেশের আইন-শৃঙ্খলার ক্রমাবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন৷ মোরশেদ খান বলেন, অবরোধের কারণে দিনমজুরদের দুর্ভোগ, শিল্প উত্পাদনে বিরূপ প্রভাবের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধ হওয়ার অর্থনৈতিক পরিণতির কথা উল্লেখ করেন গ্যাস্টরাইট৷ তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধ থাকলে বাংলাদেশের অর্থনীতির পক্ষে তার জের কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘদিন লেগে যাবে৷ বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতারা জনগণের দুর্ভোগ দূর করবেন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সহায়তা করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন৷ গ্যাস্টরাইটের মতে, সংবিধান সমুন্নত রাখতে চাইলে সংবিধানের বাইরে কারোই কিছু চিন্তা করা উচিত হবে না৷ আমেরিকা চায় বাংলাদেশে গণতন্ত্র চর্চা অব্যাহত থাকবে৷
মোরশেদ খান জানান, খালেদা জিয়া আমেরিকান দূতকে বলেছেন, তার দল সংঘাতের কোনো কর্মসূচি কখনো নেয়নি এবং ভবিষ্যতেও নেবে না৷ উপদেষ্টাদের বৈঠক নিয়ে গ্যাস্টরাইটের আশাবাদ প্রসঙ্গে মোরশেদ খান বলেন, আমরা অতি আশাবাদীও নই, আবার হতাশও নই৷ আমরা এখন এ দুইয়ের মাঝামাঝি রয়েছি৷
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ, ছুটি ও বদলির দায়-দায়িত্বের সবই প্রেসিডেন্Uরে হাতে৷ তিনি বলেন, সংবিধানসম্মত হলে নির্বাচন কমিশন নিয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নেবো৷ তবে সংবিধানের বাইরে কোনো কিছু আমরা মানবো না৷
এর আগে গ্যাস্টরাইট পররাষ্ট্র সচিব হেমায়েতউদ্দিনের সঙ্গে তার অফিসে দেখা করেন৷ প্রায় ৪৫ মিনিটের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু, বিশ্বাসযোগ্য ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দেয়া প্যাকেজ প্রস্তাবের প্রতি আমেরিকার দৃঢ় সমর্থন রয়েছে৷ ঢাকা-ওয়াশিংটন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে চমত্কার উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় ইসুর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে৷
এ সময় পররাষ্ট্র সচিব বলেন, গ্যাস্টরাইটের কথা অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রতি আমেরিকার পূর্ণ আস্থা রয়েছে৷ আমেরিকা আশাবাদী, এ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে সক্ষম হবে৷ তিনি আমেরিকান পর্যবেক্ষকদের যাবতীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হবে বলে গ্যাস্টরাইটকে আশ্বাস দেন৷ বৈঠককালে আমেরিকান অ্যামবাসাডর প্যাটৃসিয়া এ বিউটেনিস উপস্থিত ছিলেন৷

সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=21999&issue=159&nav_id=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: