চার দলের সভায় মান্নান ভূঁইয়া ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে

বিএনপি মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া বলেছেন, ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে৷ তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে এ সময়ের মধ্যে নির্বাচন শেষ করে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে৷ এর কেনো বিকল্প নেই৷ পুনর্গঠনের নামে সংবিধানের পরিপন্থী কোনো সংস্কার দেশের মানুষ মেনে নেবে না৷ ১৪ দলের দাবির দিকে না তাকিয়ে নির্বাচন যথাসময়ে কিভাবে হবে তার ব্যবস্থা করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে আহ্বান জানান তিনি৷ নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি করবেন না৷ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে নির্বাচন কমিশনের এমন পুনর্গঠন আমরা মেনে নেবো না৷ তিনি ১৪ দলকে আন্দোলন কর্মসূচি পরিহার করে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের আহ্বান জানান৷ গতকাল মঙ্গলবার নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসের সামনে ঢাকা মহানগর চারদলীয় জোট আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন৷ আওয়ামী সন্ত্রাসী দ্বারা হাই কোর্টে হামলা, ভাংচুর, হত্যা, নৈরাজ্য ও নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়৷
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৪ দল হরতাল অবরোধের নামে রাস্তা দখল করে, বন্দর অবরুদ্ধ রেখে আমদানি-রফতানি বন্ধ করে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের চেষ্টা করছে৷ কিন্তু এ সরকার তার কোনো প্রতিকার করছে না৷ মনে হয় তারা ১৪ দলের তাবেদারি করার জন্য শপথ নিয়েছেন৷ উপদেষ্টাদের আশ্বাসের ভিত্তিতে ১৪ দল অবরোধ স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছে৷ আসলে ১৪ দল তাদের কোনটা জয় আর কোনটা পরাজয় বুঝছে না৷ তিনি বলেন, আমরা উপদেষ্টাদের স্পষ্ট বলে দিয়েছি- নির্বাচনের তারিখ ঠিক রেখে তফসিল পরিবর্তন করলে আমাদের কোনো আপত্তি নেই৷ আওয়ামী লীগ গাড়িতে আগুন দিয়ে বলছে শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ পালিত হয়েছে৷ তিনি বলেন, লিস্টে ভুয়া ভোটার থাকুক আমরা তা চাই না৷ আমরা ভুয়া ভোটার বাদ দেয়ার পক্ষে৷ ভোটার তালিকা থেকে যারা বাদ পড়েছেন তাদের নাম তালিকাভুক্ত করা হোক৷ যারা ভুয়া ভোটার তাদের বাদ দেয়া হোক৷ এটা চলমান প্রক্রিয়া৷ নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত তা করা যায়৷ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, নির্বাচন বানচালের জন্য যারা জীবনযাত্রা বাধাগ্রস্ত করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন৷
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ বলেন, কেয়ারটেকার সরকার হিসেবে আপনাদের ক্ষমতা সীমাহীন নয়৷ বিভিন্ন সংবাদপত্রের রেফারেন্স দিয়ে তিনি বলেন, উপদেষ্টারা দুই দলের সঙ্গে একই কথা বলছেন না৷ এখানে এক কথা, ওইখানে অন্য কথা বলে জাতিকে বিভ্রান্ত না করার আহ্বান জানান তিনি৷ সংবিধান লঙ্ঘন করে কোনো দলকে খুশি করার চেষ্টা করলে আমরাও রাজপথে কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো৷ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো যারা ভেঙে খান খান করতে চাচ্ছে তাদের বিচার করতে হবে৷
ঢাকা মহানগর চার দলের আহ্বায়ক ও মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, বিজেপির (মতিন) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব শামীম আল মামুন, বিজেপির (নাজিউর) মহাসচিব গোলাম মোস্তফা, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, মির্জা আব্বাস, বরকতউল্লা বুলু, জামায়াতের নেতা দেলাওয়ার হোসেইন সাঈদী, বিএনপির গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমানউল্লাহ আমান, খায়রুল কবির খোকন, বি এম বাকির হোসেন, আবদুস ছালাম, সালাউদ্দিন আহমেদ, রফিকুল ইসলাম খানসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর চার দলের নেতারা৷
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মির্জা আব্বাস বলেন, কিছু উপদেষ্টার কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে তারা আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নে নেমেছেন৷ কিন্তু আপনাদের বাংলার মানুষ এ এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য ওইখানে পাঠায়নি৷ কোনো অপকর্ম সফল হতে দেবো না৷ অবরোধ আওয়ামী লীগের পৈতৃক সম্পত্তি নয়৷ সংবিধান বিরোধী কাজ করলে প্রয়োজনে দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমরাও অবরোধ করবো৷
সভাপতির বক্তব্যে সিটি মেয়র সাদেক হোসেন খোকা বলেন, নির্বাচন কমিশনার কে হলেন তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই৷ ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের নিয়োগ দেয়া প্রধান নির্বাচন কমিশনারের অধীনে আমরা নির্বাচন করেছি৷ ১৪ দলের নেতারা প্রহসনমূলক নির্বাচনের কথা বলছে, কিন্তু বাংলার মানুষ প্রহসন ও জালিয়াতির নির্বাচন কাকে বলে তা ’৭৩ সালে দেখেছে৷ দেশের জনগণের প্রতি চার দলের বিশ্বাস রয়েছে৷ জনগণের রায়কে আমরা শ্রদ্ধা করি৷ যে কোনো পরিস্থিততে নির্বাচন হতে হবে৷
জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসেইন সাঈদী বলেন, আওয়ামী লীগ হত্যা ও নৈরাজ্যের রাজনীতিতে বিশ্বাসী৷ আওয়ামী লীগ হাই কোর্ট, জজ কোর্ট এবং সুপৃম কোর্ট চেনে না কিন্তু তারা মুজিব কোর্ট ঠিকই চেনে৷
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান বলেন, গাড়ি পোড়ানো, মানুষ হত্যার দায়ে শেখ হাসিনার বিচার করতে হবে৷ তারা যদি নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করে তবে তা প্রতিহত করা হবে৷ গতকাল দুপুর থেকে নগরীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড থেকে চার দলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকে৷ প্রত্যেক মিছিলে ছিল নির্বাচনী আমেজ৷ স্থানীয় সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীদের নামে স্লােগান, ব্যানার প্ল্যাকার্ড ও দলীয় প্রতীক নিয়ে তারা সমাবেশে যোগ দেয়৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=22094&issue=160&nav_id=7

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: