দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়ে নজিরবিহীন পরিস্থিতি

 কোর্ট বর্জন বিচারপতিদের  তাণ্ডবে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা  নিরাপত্তা দাবি ও ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ

নজিরবিহীন তাণ্ডবের জের ধরে দেশের সর্বোচ্চ বিচারালয়ে সৃষ্টি হয়েছে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি৷
আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবী ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা মিলে চিফ জাস্টিসের এজলাসসহ আদালতে ভাংচুরের প্রতিবাদে সুপৃম কোর্টের বিচারপতিরা গতকাল মঙ্গলবার আদালতে বসেননি৷ বিকালের দিকে বিচারপতিরা সিদ্ধান্ত নেন, আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তারা আদালত বর্জন চালিয়ে যাবেন৷ বিচারকরা গত ৩০ নভেম্বর আদালতে ঘটে যাওয়া তাণ্ডবের জন্য সুপৃম কোর্ট বার সমিতি এবং বার কাউন্সিলের প্রতি ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন৷ এদিকে সুপৃম কোর্ট বার সমিতি তাদেরকে অন্যায়ভাবে দোষারোপ করা হয়েছে দাবি করে গতকাল একটি সংবাদ সম্মেলন করেছে৷ বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা গত নির্বাচন বর্জন করায় এ সমিতি আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে৷ অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম দুপুর ১২টায় আদালতে তাণ্ডবের প্রতিবাদে তাদের পূর্বনির্ধারিত মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে৷ পাশাপাশি এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল সুপৃম কোর্টের কোর্টকিপার মোঃ রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন৷ বিচারপতিদের মিলিত সিদ্ধান্তের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে গতকাল দুই বিচারপতি খায়রুল হক ও এম এ আজিজ এজলাসে বসেছিলেন৷ আইনজীবীরা সারা দিন আদালত প্রাঙ্গণে কর্মবিহীন সময় কাটান৷ সব মিলিয়ে অশান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত প্রাঙ্গণে৷
গত ৪ ডিসেম্বর চিফ জাস্টিস সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেনের ১৯ হেয়ার রোডের বাসভবনে সুপৃম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিরা আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন৷ আরো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, সুপৃম কোর্ট বার সমিতি এবং বার কাউন্সিল যদি ক্ষমা না চায় তবে আদালত বর্জন চালিয়ে যাওয়া হবে৷ তবে পরে এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়৷ এ বৈঠকের নেয়া সিদ্ধান্তে আদালতে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি এবং আদালতের যে কোনো অফিসার কর্তৃক উপযুক্ত আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করার আহ্বান করেছে সুপৃম কোর্টের আপিল বিভাগ৷ এর পাশাপাশি প্রত্যেক বিচারকের বাসভবনসহ কোর্ট রুম এবং আদালত প্রাঙ্গণে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন বিচারকরা৷ হাই কোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার অফিস জানিয়েছে, একদল আইনজীবী গত ৩০ নভেম্বর আদালত কক্ষ, প্রধান বিচারপতির রুম ভাংচুর করে প্রধান বিচারপতির নির্দেশের অবমাননা করেছেন৷ তারা আদালত প্রাঙ্গণে সহিংসতাসহ শান্তি ভঙ্গ করেছেন৷ এ নজিরবিহীন ঘটনার ফলে একই সঙ্গে রাষ্ট্রের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা, বিচার ব্যবস্থা এবং নির্বাহী ব্যবস্থাকে অবমাননা করা হয়েছে৷ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সুপৃম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন ও বার কাউন্সিলকে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে৷ কেননা তাদের উস্কানি এবং প্রশ্রয়েই আদালতে এ তাণ্ডব চালানো হয়৷ এ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণে উপযুক্ত ফৌজদারি আদালতে দণ্ডবিধির ১২৪ক/১৮৮/৫০৪/৫০৫ ধারায় আদালতের যে কোনো অফিসারকে মামলা দায়ের করার আহ্বান করেছে আপিল বিভাগ৷
এদিকে সুপৃম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা প্রেস বৃফিংয়ে সুপৃম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম বলেন, বিচারকদের আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত চারদলীয় জোটের জনসভায় ঘোষণা দেয়া কর্মসূচির সঙ্গে মিলে যায়৷ এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রধান বিচারপতি নতুন সঙ্কটের সৃষ্টি করলেন৷ তিনি এতে প্রধান বিচারপতির প্রতি সুপৃম কোর্ট আইনজীবী সমিতিকে অন্যায় দোষারোপ থেকে বিরত থাকাসহ চারদলীয় জোটের নানাবিধ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জ্ঞানে বা অজ্ঞানে জড়িত না হওয়ার আহ্বান জানান৷ তবে এখনো তারা চিফ জাস্টিসের পদত্যাগ দাবি করেন কি না বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন তিনি এড়িয়ে যান৷
এদিকে সুপৃম কোর্টের কোর্টকিপার মোঃ রফিকুল ইসলাম প্রায় ২০০ জনের বিরুদ্ধে বিশৃঙ্খলা ও অপরাধমূলক কার্যকলাপের অভিযোগ এনে শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন৷ এজাহার সূত্রে জানা গেছে, এতে রোকনউদ্দিন মাহমুদ, ড. কামাল হোসেন, তানিয়া আমীর, আমীর-উল ইসলামসহ প্রায় ২০০ জনের বিরুদ্ধে এ মামলাটি দায়ের হয়৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=22080&issue=160&nav_id=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: