১৪ দলকে ভোটমুখী করার উদ্যোগ হোচট খেয়েছে

দ্বিতীয় দফা প্যাকেজ প্রস্তাবের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলকে ভোটমুখী করার যে উদ্যোগ নিয়েছে কেয়ারটেকার সরকার, মাত্র এক দিনের মাথায় গতকাল মঙ্গলবারই তা হোচট খেয়েছে৷ সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ইলেকশন কমিশনার হিসেবে নতুন কাউকে না পাওয়া এবং জাস্টিস মাহফুজুর রহমানের ভারপ্রাপ্ত সিইসির পদ ছাড়তে চাওয়ার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে৷
কেয়ারটেকার সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খানের কণ্ঠে তাই হতাশার সুর শোনা গেছে কাল৷ বঙ্গভবনে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে কেয়ারটেকার সরকারের স্পোকসম্যান মাহবুবুল আলম সাংবাদিকদের যে বৃফিং দিয়েছেন তাতেও উল্লেখ করার মতো কোনো তথ্য বা অগ্রগতির খবর মেলেনি৷
প্রেস ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্টের (পিআইডি) কনফারেন্স রুমে দেয়া বৃফিংয়ে উপদেষ্টা মাহবুবুল আলম বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সোমবারের বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্তগুলো পর্যালোচনা করতেই উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক বসেছিল৷ বৈঠকে নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে নির্বাচন শেডিউল ও ভোটার তালিকা বিষয়ে উপদেষ্টাদের বিশদ আলোচনা হয়েছে৷ এখন বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অবারও আলাপ-আলোচনা করবেন উপদেষ্টারা৷ তিনি বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে৷ প্রত্যেক ভোটারের বাড়ি গিয়ে তালিকা সংশোধনে এনডিআইসহ বেশ কয়েকটি এনজিওর সহযোগিতা নেয়া হবে৷ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এনজিওগুলোর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেই কর্মকর্তারা তালিকা সংশোধনের কাজে মাঠে নামবেন৷
তিনি আরো বলেন, এটা অনেক বড় ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার৷ নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত তালিকা সংশোধনের সুযোগ আছে৷
অন্যদিকে উপদেষ্টামণ্ডলীর বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান তার অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ইলেকশন কমিশনারের মতো পদগুলোকে বিতর্কিত করে তোলায় এখন আর ইলেকশন কমিশনার করার মতো মানুষ খুজে পাওয়া যাচ্ছে না৷ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অনুরোধ সত্ত্বেও কেউ আর এ পদগুলোর জন্য আগ্রহী হচ্ছেন না৷ তিনি বলেন, ইলেকশন কমিশনে নিয়োগ দেয়ার জন্য সবার কাছে গ্রহণযোগ্য মানুষ পাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে৷
তিনি আরো বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে নির্বাচন শেডিউল ও ভোটার তালিকা বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে, এছাড়াও কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে৷ এখন এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করতে হবে৷ নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ব্যাপারে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে; কিন্তু কেউ এসব পদে আসতে চান না৷
ঠিক কতো জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গোপনীয়তা রক্ষা করেই এসব ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে, তাই তাদের নাম ও কতো জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে তা প্রেসের কাছে প্রকাশ করতে চাই না৷
এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে দেশে সেনাবাহিনী নামানোর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি৷ এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে উপদেষ্টাদের কোনো আলোচনাও হয়নি৷ অন্যদিকে সেনা মোতায়েনে প্রেসিডেন্Uরে মৌখিক সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে উপদেষ্টা মাহবুবুল আলম বলেন, এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই৷
নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সম্পর্কে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমাদের কাছে এ বিষয়ে আইনগত কোনো বিকল্প নেই৷ সংবিধান অনুযায়ী স্বাধীনভাবে নির্বাচন কমিশন গড়ে উঠেছে৷ তাই নির্বাচন কমিশনারের প্রধান রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ সীমিত৷ এ জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টারা বিষয়টি নিজ দায়িত্ব হিসেবে মনে করে রাজনৈতিক অচল অবস্থা নিরসনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন৷ এছাড়া রাজনৈতিক অচল অবস্থা নিরসনে আমাদের কাছে কোনো উপায়ও নেই৷
উপদেষ্টা মাহবুবুল আলম নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে বলেন, পুনর্গঠনের কাজ চলছে৷ এছাড়া তফসিল পুনর্নির্ধারণ করা হলে নির্বাচন কমিশন নিজেই সাংবাদিকসহ দেশবাসীকে সে খবর জানাবে৷
নির্বাচনী তফসিল নিয়ে প্রধান দুই দলের দাবি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, তিনি এ বিষয়ে কেনো রকম সংঘাতের আশঙ্কা করছেন না৷
রাজনৈতিক অচল অবস্থা নিরসনে আশাবাদী কি না- এ প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমার বন্ধু ও সহকর্মী মাহবুবুল আলমের মতো করে বলতে হয়- এখন রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের ক্ষেত্রে অনেক সুড়ঙ্গ বের হয়েছে৷ অনেক দূর যেতে হবে৷ এসব সুড়ঙ্গের কতোগুলোর মধ্যে অচল অবস্থা নিরসনের আলো দেখা গেলেও আরেকটা সুড়ঙ্গ সৃষ্টি হচ্ছে৷ আমি রাজনৈতিক অচল অবস্থা নিরসনের ক্ষেত্রে এখন কশাসলি অপটিমিস্টিক কথাটি বলে যাবো৷
তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে নির্বাচন দিতে হবে৷ নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তারিখ ২১ জানুয়ারি ঘোষণা করেছে, এখন নির্বাচনের তারিখ ২১ জানুয়ারি থেকে পরিবর্তন করে ২৫ তারিখের বেশি অর্থাত্ কোনোভাবেই ২৬ তারিখ করা যাবে না৷ তাই নির্বাচনের শেডিউল দুই-এক দিন ছাড়া আর বেশি পেছানোর কোনো সুযোগ নেই৷
প্যাকেজ প্রস্তাব অনুযায়ী সচিব পদে রদবদল প্রসঙ্গে প্রেস বৃফিংয়ে মাহবুবুল আলম বলেন, প্রজ্ঞাপন জারি করতে সময় লাগবে৷ আজকালের মধ্যেই এটা হয়ে যাবে৷ প্রশাসনিক রদবদলে কোনো রাজনৈতিক ইন্ধন বা শর্ত আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব নেয়ার পরপরই এ রদবদলের কথা বলেছিল৷ তার আলোকেই এ রদবদল হবে৷
এদিকে নতুন ইলেকশন কমিশনার হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে সোমবার রাতে সুপৃম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারক তাফাজ্জাল ইসলামের সঙ্গে দেখা করতে তার বাসায় গিয়েছিলেন উপদেষ্টা আজিজুল হক৷ জানা গেছে, ইলেকশন কমিশনারের দায়িত্ব নিতে তিনি জাস্টিস তাফাজ্জালকে রাজি করাতে পারেননি৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=22081&issue=160&nav_id=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: