ফয়সালা হচ্ছে , সব দলের অংশগ্রহণে সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যেই নির্বাচন

সব আশঙ্কা দূর করে অবশেষে সংবিধান নির্ধারিত ৯০ দিন সময়সীমার মধ্যেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নবম পার্লামেন্ট নির্বাচন৷ বিবদমান সব রাজনৈতিক পক্ষও অংশ নিচ্ছে এ নির্বাচনে৷ আন্দোলনরত ১৪ দলের নেত্রী শেখ হাসিনা অজানা কারণে আচমকা নমনীয় মনোভাব গ্রহণ করাতেই এই সমঝোতা হতে যাচ্ছে৷ গতকাল বুধবার কেয়ারটেকার সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন তত্পরতা ও কথাবার্তায় এমন আভাসই মিলেছে৷ একাধিক সূত্রের আভাস অনুযায়ী ইলেকশন কমিশন শেষ পর্যন্ত ১৪ দলের দাবি অনুযায়ী নবম পার্লামেন্ট নির্বাচনের শেডিউল কিছুটা পরিবর্তন করলেও ভোট গ্রহণের তারিখ দু’একদিনের বেশি পেছানো হচ্ছে না৷ পূর্বনির্ধারিত ২১ জানুয়ারির একদিন অথবা দুদিন পরই ভোট গ্রহণের তারিখ পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে৷
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, কেয়ারটেকার সরকারের দ্বিতীয় দফা প্যাকেজ প্রস্তাব বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরুর পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে সরকারের কাছে পজিটিভ বার্তা পাঠায়৷ এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল দুপুরে স্টেট গেস্ট হাউস পদ্মায় চার উপদেষ্টার সঙ্গে ১৪ দল নেতাদের অনির্ধারিত এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়৷ এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনের সচিবও৷ মূলত সংবিধানে বেধে দেয়া সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত হয় এখানেই৷ বিষয়গুলো নিয়ে দুপুরের পর এবং রাতে দুই দফা বঙ্গভবনেও অনুষ্ঠিত হয় উপদেষ্টা পরিষদের দীর্ঘ সভা৷
উপদেষ্টা পরিষদের টানা তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে রাত সোয়া ১০টায় কেয়ারটেকার সরকারের স্পোকসম্যান ও তথ্য উপদেষ্টা মাহবুবুল আলম বঙ্গভবনের বাইরে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন৷ এ সময় উপদেষ্টা সুলতানা কামালও তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন৷ মাহবুবুল আলম বলেন, আলোচনার মাধ্যমে যে কোনো সমস্যার একটা সমাধান বের হয়ে আসে৷ আমরাও আলোচনার কিছু কিছু ফল পেতে শুরু করেছি৷ এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে৷ আশা করি পজিটিভ কিছু একটা হবে৷ ইতিমধ্যেই ভোটের শেডিউল পরিবর্তন ও ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে৷ এসব ব্যাপারে ইলেকশন কমিশন বৃহস্পতিবার নিজেদের সিদ্ধান্ত জানাবে৷ নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আশা করি এটিও সমাধান হয়ে যাবে৷ যোগ্য লোকও পাওয়া যাবে৷ অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার শুরু হয়েছে এবং এটা চলবে৷
সেনা মোতায়েন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেন, সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনো সিদ্ধান্ত এখনো পর্যন্ত উপদেষ্টা পরিষদে হয়নি৷
দুপুরে স্টেট গেস্ট হাউস পদ্মায় ১৪ দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে কৃষি উপদেষ্টা সি এম শফি সামী সাংবাদিকদের শুধু এটুকু বলেছেন, ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচনের শেডিউল নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি৷
বিকালে বঙ্গভবন থেকে সচিবালয়ে গিয়ে নিজের অফিসের সামনে দাড়িয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কয়েক মিনিট কথা বলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান৷ তবে পদ্মায় বৈঠকের আলোচ্য বিষয় ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তিনিও খোলাসা করে কিছু বলেননি৷ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আকবর আলি বলেন, ১৪ দল নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্বপ্রাপ্ত তিন উপদেষ্টা৷ আমি ওই তিনজনের কেউ নই৷ এ কারণে পদ্মায় অনুষ্ঠিত বৈঠকটি সম্পর্কে আমি তেমন কিছু জানি না৷ তবে ভোটার তালিকার আইনগত বিষয়াদি নিয়ে কথা উঠায় আমাকে ডাকা হয়েছিল সেখানে৷ আমি সেখানে গিয়ে শুধু ভোটার তালিকা হালনাগাদের আইনগত দিক নিয়ে কথা বলেছি৷ অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রশাসনে রদবদলের ঘটনায় সন্তুষ্ট হওয়ার কিছু নেই৷ রদবদল নিয়ে মূল্যায়ন করার সময় এখনো আসেনি৷ এটা চলমান প্রক্রিয়া৷
পদ্মায় চার উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল প্রেস বৃফিংয়ে জানিয়েছেন, বৈঠকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে সরকারের কাছে তারা চারটি দাবি উপস্থাপন করেছেন৷ দাবিগুলো হলো- এক. নির্বাচনের তফসিল পুনর্নির্ধারণ, দুই. ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা, তিন. বিতর্কিত কমিশনারদের সরিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং চার. সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনের পুনর্গঠন৷
পদ্মায় বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত টানা দুই ঘণ্টার এ বৈঠকে উপদেষ্টাদের মধ্যে ছিলেন তথ্য উপদেষ্টা মাহবুবুল আলম, অর্থ উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান, আইন ও ভূমি উপদেষ্টা ফজলুল হক এবং কৃষি উপদেষ্টা সি এম শফি সামী৷ আর ১৪ দলের পক্ষে ছিলেন অওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ১৪ দলের সমন্বয়ক আবদুল জলিল, আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, কাজী জাফরুল্লাহ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, রাশেদ খান মেনন, হায়দার আকবর খান রনো ও সাবেক ক্যাবিনেট সচিব এইচ টি ইমাম৷ এছাড়া বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের সচিব আবদুর রশীদ সরকার ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ জকরিয়াও উপস্থিত ছিলেন৷
পদ্মার বৈঠক শেষে চার উপদেষ্টা সোজা চলে যান বঙ্গভবনে৷ সেখানে চিফ অ্যাডভাইজর ও প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেন তারা৷ বিকাল ৪টার কিছু আগে বঙ্গভবন থেকে তারা ফিরে যান সচিবালয়ে নিজ নিজ অফিসে৷ এরপর সন্ধ্যা ৭টায় আবার বঙ্গভবনে শুরু হয় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক এবং এটি শেষ হয় রাত ১০টায়৷
এদিকে নির্বাচন কমিশন সচিব আবদুর রশীদ সরকার গতকাল বুধবার সারা দিন একবারও অফিসে যাননি৷ তার অনুপস্থিতিতেই বিকাল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে ইলেকশন কমিশনের বৈঠক৷ এ বৈঠকের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে রাতে কমিশনের এক প্রেস রিলিজে জানানো হয়, নবম পার্লামেন্ট নির্বাচনের শেডিউল পুনর্নির্ধারণ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে৷ বৃহস্পতিবার কমিশনের পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে৷
অন্যদিকে ইলেকশন কমিশনের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো এ বৈঠকের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, নির্বাচনের শেডিউল পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি গতকালই চূড়ান্ত হয়ে গেছে৷ আজ বৃহস্পতিবার এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে৷ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নবম পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোট গ্রহণ করা হবে ২২ বা ২৩ জানুয়ারি৷ ২১ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমা এবং ২৮ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে৷ এছাড়া ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের যে সময়সীমা এর আগে নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা আরো বাড়ানো হতে পারে৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=22188&issue=161&nav_id=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: