আবারও শেডিউল বাতিলের দাবি ১৪ দল সরকারকে ২৪ ঘণ্টা আলটিমেটাম দিয়েছে

আওয়ামী লীগসহ তাদের দোসর ক্ষুদে দলগুলো আবারও নির্বাচনের তফসিল বাতিলের দাবি জানিয়েছে৷ তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে৷ এ সময়ের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দেয়া প্যাকেজ প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না ঘটালে আরো বড় রকমের চাপ প্রয়োগের কর্মসূচি দেয়া হবে৷ প্রয়োজনে বঙ্গভবন ঘেরাও হবে৷ গতকাল বিকাল ৫টায় হোটেল পূর্বাণীতে আয়োজিত আওয়ামী লীগ, ১১ দল, জাসদ, ন্যাপ, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও জাকের পার্টির সম্মিলিত প্রেস কনফারেন্সে এ ঘোষণা দেয়া হয়৷
প্রেস কনফারেন্সে লিখিত বক্তব্যে আওয়ামী নেতা আবদুল জলিল জানান, নির্বাচন কমিশনে (ইসি) তাদের মনে করা বিতর্কিত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে ইসি পুনর্গঠন করতে হবে৷ ভোটার তালিকা হালনাগাদ, সংশোধন ও মুদ্রণ করতে হবে আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক৷ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কারণে যে ৪০ দিন সময় নষ্ট হয়েছে তা পূরণ করে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করতে হবে৷ মাঠ পর্যায়ে রদবদল চূড়ান্ত করার মাধ্যমে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হবে৷ তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল সব প্রস্তাব বাস্তবায়নের পর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে৷ সরকার আমাদের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করার আগেই ইসি তফসিল ঘোষণা করেছে৷ যে প্যাকেজ প্রস্তাব ছিল তা খণ্ডিতভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে৷ এ অবস্থায় আমরা এবং আমাদের সমমনা দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেবে না৷ তিনি আরো বলেন, ইসির ঘোষিত তফসিল অনুসারে ২৩ জানুয়ারি ভোট গ্রহণ সম্ভব নয়৷ কারণ ওইদিন হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হবে৷ এতে এলডিপি নেতা মেজর (অব.) আবদুল মান্নান জলিলের বক্তব্যের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন৷
কনফারেন্সে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, মতিয়া চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদ, রাশেদ খান মেনন, দিলিপ বড়–য়া, শেখ সেলিম, নুরুল ইসলাম, হাসানুল হক ইনু, নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারি, ওবায়দুল কাদের, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া প্রমুখ৷
জলিল বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ক্ষেপণের জন্য পরিকল্পিতভাবে সংলাপের আয়োজন করে এবং তা ভেঙেও দেয়৷ এ অবস্থায় ২৮ ফেব্রুয়ারি সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তারা বিচারপতি কে এম হাসানকে প্রধান উপদেষ্টা করার উদ্যোগ গ্রহণ করে৷ এ উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাদের দলীয় প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ নিজেই অসাংবিধানিকভাবে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন৷ এ অবস্থায় নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ তৈরির জন্য ১৪ দলের তরফ থেকে ১১ দফা এবং জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের তরফ থেকে ৮ দফা দাবি তুলে ধরা হয়৷ কিন্তু প্রেসিডেন্ট কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি৷ প্রশাসনে এদিক-ওদিক কিছু রদবদল করে মূলত তিনি বিএনপি-জামায়াতের সাজানো প্রশাসনকেই বহাল রাখেন৷ ডিজি এনএসআই, ডিজি ডিএফআই, ডিজি আনসারসহ গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি৷
ইসি পুনর্গঠনেও প্রেসিডেন্ট প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছেন বলে আবদুল জলিল জানান৷ তিনি বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) বিচারপতি এম এ আজিজ ছুটিতে যাওয়ার পর পরিকল্পিতভাবে কমিশনার বিচারপতি মাহফুজুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত সিইসির দায়িত্ব দেয়া হয়৷ একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট বিতর্কিত দুই ব্যক্তি মোদাব্বির হোসেন চৌধুরী ও সাইফুল আলমকে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেন৷ প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ে যাতে কোনো রদবদল না করা যায় এবং বিএনপি-জামায়াতের সাজানো প্রশাসন যাতে বহাল থাকে সে জন্যই দ্রুত নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হয় বলে আবদুল জলিল অভিযোগ করেন৷
এ পর্যায়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে আবদুল জলিল বলেন, কমিশনার স. ম. জাকারিয়া ও মোদাব্বির হোসেনকে অপসারণ করে সেখানে গ্রহণযোগ্য দুইজন কমিশনার নিয়োগ দিতে হবে৷ অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে মেজর মান্নান বলেন, খণ্ডিত প্যাকেজ নিয়ে আমরা নির্বাচনে যাবো না৷ প্রতিশ্রুত প্যাকেজের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে, অন্যথায় প্রয়োজনে আমরা আবারও এক দফার আন্দোলনে ফিরে যাবো৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=22430&issue=163&nav_id=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: