দুথনৌকায় পা আওয়ামী জোটের আর ছাড় দিতে রাজি নয় ৪ দল

লাগাতার দেশ অবরোধের চাপে ফেলে কেয়ারটেকার সরকারের কাছ থেকে একের পর এক দাবি আদায় করে নেয়ার পরও সমঝোতা এবং নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান ঝুলিয়ে রাখার কৌশল নিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট৷
সরকারের দেয়া দুই দফা প্যাকেজের আওতায় আওয়ামী জোটের প্রায় সব দাবি পূরণ হলেও নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে সরাসরি কোনো ঘোষণা না দিয়ে উল্টো নতুন করে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন ১৪ দলের নেতারা৷ এ পর্যায়ে তারা আরো কিছু দাবি তুলে বলেছেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এগুলো বাস্তবায়িত না হলে রবিবার থেকে আবারও বঙ্গভবন ঘেরাও করা হবে৷ অন্যদিকে ১৪ দলের আর কোনো দাবি না মানার জন্য কেয়ারটেকার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া৷ গতকাল এক প্রেস বৃফিংয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও ১৪ দলের চাপে পড়ে সরকার দফায় দফায় এ প্রতিষ্ঠানের ওপর হস্তক্ষেপ করছে৷
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অন্য একটি সূত্র জানায়, ১৪ দলের লাগাতার সহিংস আন্দোলনের বিপরীতে আর কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় চার দল৷ ইলেকশন কমিশনে আর ওলট-পালট না করা এবং পুনর্নির্ধারিত শেডিউল অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রশ্নে চার দলও এবার হার্ডলাইনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷
ইলেকশন কমিশনারদের সরিয়ে দেয়ার সাংবিধানিক এখতিয়ার প্রেসিডেন্ট বা কেয়ারটেকার সরকারের না থাকা সত্ত্বেও ১৪ দল এ দাবি তুলে আন্দোলনের নতুন হুমকি দিয়েছে গতকাল শুক্রবার৷ ১৪ দলের সমন্বয়ক আবদুল জলিল গতকাল এক প্রেস কনফারেন্সে বলেছেন, ইলেকশন কমিশনার মোদাব্বির হোসেন চৌধুরী ও স ম জাকারিয়াকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে দেয়া না হলে আগামীকাল রবিবার থেকে আবার বঙ্গভবন ঘেরাও করবেন তারা৷ একইসঙ্গে নির্বাচনের শেডিউল আবারও পরিবর্তনের কথা বলেছেন তিনি৷
এর আগে প্যাকেজ প্রস্তাবে কেয়ারটেকার সরকার এক বা দু’জন ইলেকশন কমিশনারকে ছুটিতে যাওয়ার অনুরোধ জানানোর কথা ঘোষণা করেছিল৷ তারা এ আভাসও দিয়েছিলেন যে, কেউ ছুটিতে যেতে রাজি হলে তার জায়গায় নতুন কাউকে নিয়োগ দেয়া হবে৷ নিয়োগের ক্ষমতা প্রেসিডেন্Uরে হাতে থাকলেও যোগ্যতাসম্পন্ন কেউ ইলেকশন কমিশনারের পদে আসতে চাইছেন না৷ অন্যদিকে ইলেকশন কমিশনারদের মধ্য থেকে আওয়ামী লীগের একজন ছুটিতে যেতে রাজিও হচ্ছেন না৷ এতে ১৪ দলের মর্জিমতো নির্বাচন কমিশনে ওলট-পালট সম্ভব হচ্ছে না৷ ইতিমধ্যেই তারা জনতার মঞ্চের চিহ্নিত এক সাবেক আমলাকে ইলেকশন কমিশনার বানানোর জন্য অ্যাডভাইজরদের সঙ্গে লবিং করেছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়৷ অতিরিক্ত সচিব থাকা অবস্থাতেই গত সরকারের আমলে চাকরিচ্যুত এ আমলার নাম জানিবুল হক৷ তার বিরুদ্ধে পাসপোর্টসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগও উঠেছিল৷ জানিবুলকে চার দল মেনে নিতে রাজি হয়নি বলে জানা যায়৷
আওয়ামী লীগের ভেতরকার একটি সূত্র জানায়, দফায় দফায় প্যাকেজের মাধ্যমে কেয়ারটেকার সরকারের কাছে থেকে প্রায় সব দাবি আদায় করে নিলেও এখনই সরাসরি নির্বাচনমুখী হওয়ার ঘোষণা দিতে রাজি নয় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল৷ সরকারকে অবিরাম চাপের মুখে রেখেই তারা নির্বাচনের প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার কৌশল নিয়েছে৷ মূলত এ কারণেই সরকারের দ্বিতীয় দফা প্যাকেজ প্রস্তাবের প্রায় পুরোটা বাস্তবায়িত হওয়া সত্ত্বেও ১৪ দল তাদের লাগাতার অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়নি৷ উল্টো ইলেকশন কমিশনার স ম জাকারিয়া ও মোদাব্বির হোসেন চৌধুরীকে সরিয়ে দেয়ার জন্য সরকারকে আবারও ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন ১৪ দলের নেতারা৷
অন্যদিকে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা যায়যায়দিনকে বলেন, ছাড় দিতে দিতে আমাদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে৷ চার দলের সমঝোতামুখী আচরণকে কেয়ারটেকার সরকারও যেন দুর্বলতা হিসেবেই বিবেচনা করছে৷ এ কারণে ১৪ দলের যৌক্তিক-অযৌক্তিক সব দাবিই আমলে নিচ্ছে সরকার৷ সরকারের এমন অদ্ভুত ভূমিকা ১৪ দলকে নিত্য-নতুন দাবি উত্থাপনে উত্সাহিত করছে৷ এ কারণেই তারা সরাসরি নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা না দিয়ে সরকারের ওপর অবিরাম চাপ জিইয়ে রাখতে চায়৷ কিন্তু এরপর চার দল আর কোনো ছাড় দেবে না৷ চার দলের ওই নেতা বলেন, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে যা করতে হয় এবার আমরাও তা করতে পুরোপুরি প্রস্তুত৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=22429&issue=163&nav_id=1

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: