আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনতে প্যাকেজ প্রস্তাব পূর্ণ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত ইলেকশন শেডিউলে রদবদল কমিশনার জাকারিয়া ছুটিতে যাচ্ছেন

দেশি-বিদেশি নানামুখী তত্পরতার মধ্যে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী দলগুলোকে সংবিধান নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই নির্বাচনে আনতে সর্বশেষ প্রয়াস হিসেবে কেয়ারটেকার সরকার আরেক দফা ছাড় দিয়ে তাদের প্যাকেজ প্রস্তাবের পূর্ণতা সম্পন্ন করেছে গতকাল বুধবার৷ আওয়ামী মহাজোটের ডাকা হরতালের একদিন আগে সরকার নবম পার্লামেন্ট নির্বাচনের শেডিউল আরেক দফা পাল্টিয়েছে৷ তবে এবার ভোট গ্রহণের তারিখ ঠিক রেখে নির্বাচনের বাকি বিষয়গুলোর সময় পেছানো হয়েছে৷ ইলেকশন কমিশনার স ম জাকারিয়া আজকালের মধ্যেই ছুটিতে যাবেন আর ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ চালু রাখা হবে ভোট গ্রহণের আগের দিন পর্যন্ত৷
অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের টানা পাচ ঘণ্টার বৈঠক শেষে কেয়ারটেকার সরকারের স্পোকসম্যান ও তথ্য উপদেষ্টা মাহবুবুল আলম গতকাল সন্ধ্যার আগে এসব তথ্য জানান মিডিয়াকে৷ বঙ্গভবনের সামনে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের দেয়া বৃফিংয়ে তিনি আরো জানান, এ মুহূর্তে ইলেকশন কমিশনে নতুন কোনো কমিশনার নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না৷ তিনি বলেন, আশা করা যায় এসব পদক্ষেপের পর সব রাজনৈতিক দল খোলা মন নিয়ে এবার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে৷ অন্য উপদেষ্টা ইয়াসমীন মুর্শেদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন৷
চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে কেয়ারটেকার সরকারের অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল সোমবার থেকে পরপর তিন দিন বৈঠক করে বুধবার শেষ দিনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়৷ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নবম পার্লামেন্ট নির্বাচনের শেডিউল দ্বিতীয় দফা পরিবর্তন করে নমিনেশন পেপার জমা নেয়ার শেষ দিন ২৪ ডিসেম্বর, বাছাই ২৬ ডিসেম্বর এবং নমিনেশন পেপার প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ জানুয়ারি৷ এর আগের শেডিউল অনুযায়ী নমিনেশন পেপার জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল আজ ২১ ডিসেম্বর৷ কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট এদিন সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে৷
স্পোকসম্যান মাহবুবুল আলম সাংবাদিকদের আরো জানান, ইলেকশনের শেডিউল দ্বিতীয় দফা পাল্টানোর পাশাপাশি কেয়ারটেকার সরকার ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার কাজ ভোট গ্রহণের আগের দিন পর্যন্ত চালু রাখার পরামর্শ দিয়েছে ইলেকশন কমিশনকে৷ এ তালিকা প্রত্যেক জেলায় পাওয়া যাবে৷ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ইলেকশন কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ সম্পন্ন করেছে৷ তবে এখন সেটা ত্রুটিমুক্তকরণের লক্ষ্যে ভোট গ্রহণের আগের দিন পর্যন্ত হালনাগাদের কাজ চলবে৷ তিনি বলেন, আমরা সংবিধানের মধ্যে থেকে সঙ্কট সমাধানের উপায় খুজে বের করার চেষ্টা করেছি৷ আশা করা যায়, এসব সিদ্ধান্তের ফলে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতাও অক্ষুণ্ন থাকবে৷
তথ্য উপদেষ্টা আরো জানান, কয়েকটি রাজনৈতিক দলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইলেকশন কমিশনার স ম জাকারিয়াকে ছুটি কাটানোর অনুরোধ জানাতে রাজি হয়েছে অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল৷ তবে অন্য কমিশনার মোদাব্বির হোসেন চৌধুরীর ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি৷ এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জানান, এ মুহূর্তে নতুন করে আর কোনো ইলেকশন কমিশনার নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়নি৷ অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের গত তিন দিনের বৈঠকে শুধু নির্বাচন সম্পর্কিত বিষয়াদি নিয়েই আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান৷
নির্বাচনের পরিবর্তিত শেডিউল
গতকাল নতুন ঘোষিত শেডিউল অনুযায়ী ২৪ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে৷ এছাড়া মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২৬ ডিসেম্বর এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৩ জানুয়ারি৷ ভোটগ্রহণের তারিখ (২২ জানুয়ারি) অপরিবর্তিত রয়েছে৷ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে শেডিউলে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আবদুর রশীদ সরকার জানিয়েছেন৷
গতকাল দিনের প্রথম ভাগে ইসি এ সিদ্ধান্ত নেয়৷ দুপুরের পর ইসি সচিব বঙ্গভবন থেকে ফেরার পর বিকাল ৪টায় প্রেস বৃফিংয়ের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেয়া হয়৷ বৃফিংয়ে আবদুর রশীদ সাংবাদিকদের জানান, সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের সুবিধার জন্য ইসি শেডিউলে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেয়৷ ইসি আশা করছে এতে সব ক’টি রাজনৈতিক দলই নির্বাচনে অংশ নেবে৷
কি কারণে শেডিউলে পরিবর্তন আনা হয়েছে জানতে চাইলে আবদুর রশীদ বলেন, সরকারের উপদেষ্টারা মনে করছেন শেডিউলে যে সময় দেয়া হয়েছে তা নিতান্তই কম৷ সে জন্য ইসি নতুন করে শেডিউল বিন্যাসের সিদ্ধান্ত নেয়৷ এ জন্য বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দল বা জোটের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমি কোনো মন্তব্য করবো না৷ তিনি আরো বলেন, এটাই শেষ৷ এরপর শেডিউলে আর কোনো পরিবর্তন আনা হবে না৷
মনোনয়নপত্র দাখিল ও বাছাইয়ের মাঝে একদিন ফারাক রাখার কারণ ব্যাখ্যা করে আবদুর রশীদ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক মনোনয়নপত্র দাখিল ও বাছাইয়ের মাঝে একদিন সময় রাখার অনুরোধ জানিয়েছে৷ এতে তাদের পক্ষে ঋণ খেলাপিদের শনাক্ত করতে সুবিধা হবে৷ সেটা বিবেচনা করেই মনোনয়নপত্র দাখিলের পর একদিন বাদ দিয়ে বাছাইয়ের দিন ধার্য করা হয়েছে৷
ইসি সচিব আরো বলেন, উপদেষ্টারা ভোটার তালিকার বিষয়টিও পরিষ্কার করার অনুরোধ জানিয়েছেন৷ তাই আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে আবারও জানাতে চাই, ২০০০ সালের ভোটার তালিকাই মূল তালিকা৷ ইসি সেই তালিকাকে হালনাগাদ করেছে৷ সুতরাং এখানে ভোটার তালিকা প্রকাশ বা চূড়ান্ত প্রকাশ বলে কিছু নেই৷ ভোটার তালিকার সর্বশেষ অবস্থা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, অনেক জায়গায় ছাপার কাজ শেষ হয়েছে৷ যেটুকু বাকি আছে তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হবে৷ কারো যদি ভোটার তালিকার প্রয়োজন হয় তিনি নির্ধারিত দামে তালিকা কিনতে পারবেন৷ যেখানে তালিকা ছাপা হয়নি সেখানে ইচ্ছা করলে যে কেউ প্রত্যয়িত কপি পেতে পারেন৷ তাছাড়া আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তালিকা সিডি আকারেও পাওয়া যাবে৷
ভোটার তালিকার সংশোধন কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে আবদুর রশীদ বলেন, সবে তো কাজ শেষ হয়েছে৷ তাই এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না৷ দু’একদিন পর বলা যাবে কি পরিমাণ নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বা বাদ পড়েছে৷ এরপরও যারা তালিকার বাইরে থেকে যাবেন তারা নিজ উদ্যোগে নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত ভোটার হতে পারবেন৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=23353&issue=171&nav_id=1

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: