সুপৃম কোর্টে তাণ্ডব ড. কামাল আমীর রোকন তানিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

গত ৩০ নভেম্বর চিফ জাস্টিসের এজলাসসহ সুপৃম কোর্টে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ ঢাকার সিএমএম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে৷ এতে আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে ড. কামাল হোসেন, রোকনউদ্দিন মাহমুদ, আমীর-উল ইসলাম, তানিয়া আমীরসহ ১১ জনকে৷ মামলার এজাহারে আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও চার্জশিটে এ বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়নি৷
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ব্যারিস্টার ওমর সাদাতের দায়ের করা মামলাটির নানাদিক বিশ্লেষণ ও তদন্ত শেষে ডিবির ইন্সপেক্টর নাঈম আহমেদ গত বৃহস্পতিবার বিকালে এ চার্জশিট দাখিল করেন৷ আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৭, ৪৪৮, ৪২৭, ৪৩৫ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে৷ চার্জশিটে মামলার বাদী ওমর সাদাতসহ ২৩ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে৷ চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন ড. কামাল হোসেন, রোকনউদ্দিন মাহমুদ, আমীর-উল ইসলাম, আওসাফুর রহমান বুলু , সুব্রত চৌধুরী, তানিয়া আমীর, খোরশেদুজ্জামান, এম ইনায়েতুর রহীম, মামুন মাহবুব, খায়রুজ্জামান ও হাবিবুর রহমান৷ তাদের মধ্যে শেষেরজন বহিরাগত আর বাকি সবাই আইনজীবী৷
সুপৃম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর সাদাত গত ৪ ডিসেম্বর আদালতে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করেছিলেন, গত ৩০ নভেম্বর বিচারপতি মোঃ আওলাদ আলী ও বিচারপতি মঈনুল হোসেন চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ প্রেসিডেন্Uরে বিরুদ্ধে দায়ের করা তিনটি রিট আবেদনের শুনানির জন্য বৃহত্তর বেঞ্চ গঠনের সিদ্ধান্ত দেয়৷ এতে শুনানি স্থগিত হয়ে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে ব্যারিস্টার রোকনের নেতৃত্বে এবং প্ররোচণায় অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলীকে ভয়ভীতি দেখানো হয়৷ আসামিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং নির্দেশে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা প্রধান বিচারপতির খাস কামরা ও আদালত ভাংচুর করে৷ আর্জিতে আরো বলা হয়, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী সুপৃম কোর্টের সামনের পতাকা অবমাননাকরভাবে নামিয়ে রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধ করেছেন৷ মামলায় রোকনউদ্দিন মাহমুদ, এনায়েতুর রহিম, সুব্রত চৌধুরী ও শেখ আওসাফুর রহমানসহ ৫০-৬০ জন আইনজীবী ও বহিরাগত সন্ত্রাসীদের আসামি করা হয়৷
পুলিশ চার্জশিটে আসামিদের ব্যাপারে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনলেও রাষ্ট্রদ্রোহ সংক্রান্ত অভিযোগ এড়িয়ে গেছে৷ স্পর্শকাতর এ বিষয়টি পৃথকভাবে তদন্ত চলছে বলে গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে৷
প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চিফ অ্যাডভাইজর পদগ্রহণ ও ১০ উপদেষ্টার পরামর্শ ছাড়া প্রশাসনিক কাজে একা সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়কে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে দায়ের করা তিন রিটের কার্যক্রম গত ৩০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার স্থগিত করেন সুপৃম কোর্টের আপিল বিভাগ৷
এদিকে রিটের কার্যক্রম স্থগিত করলে আদালত চত্বর উত্তাল হয়ে ওঠে৷ সুপৃম কোর্ট বারের আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন৷ তারা আদালতের অভ্যন্তরেই চিত্কার শুরু করেন৷ দুপুর ২টার পর থেকে আদালত চত্বর রণাঙ্গনে রূপ নেয়৷ বারের ১৪ দল সমর্থিত আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির আদালত, অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসসহ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করেন ও পুড়িয়ে দেন৷ এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের সামনে পার্ক করা সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমরের গাড়ি পুড়িয়ে ছাই করে দেয় আন্দোলনকারীরা৷ তারা কোর্টের সামনের জাতীয় পতাকা টেনে নামিয়ে ফেলে৷ আইনজীবীদের সঙ্গে তাদের মোহরি এবং যুবলীগ কর্মীরাও সুপৃম কোর্ট প্রাঙ্গণে এসব কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়৷ তখন সুপৃম কোর্টের সব বিচারক আটকা পড়ে যান নিজ নিজ কক্ষে৷ এদিকে ঘটনার সময় সুপৃম কোর্ট বারের এক সাধারণ সভা হয়৷ সভার সিদ্ধান্তে অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলীকে কোর্টে অবাঞ্ছিত করা হয় ও চিফ জাস্টিস সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেনের পদত্যাগ পর্যন্ত আদালত বর্জন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়৷
ঘটনার তিনদিন পর ব্যারিস্টার ওমর সাদাত বাদী হয়ে ঢাকার সিএমএম আদালতে ১১ আইনজীবীর বিরুদ্ধে ভাংচুর ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে মামলা করেন৷ পরদিন ৫ ডিসেম্বর সুপৃম কোর্টের কোর্টকিপার মোঃ রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় অন্য একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করেন৷ ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ ও তানিয়া আমীরসহ ১০ আওয়ামী সমর্থক আইনজীবীর বিরুদ্ধে এ মামলাটি করা হয়৷ ১০ ডিসেম্বর ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম, রোকনউদ্দিন মাহমুদ, এম ইনায়েতুর রহীম, সুব্রত চৌধুরী, সুব্রত সাহা, খসরুজ্জামান ও শেখ আওসাফুর রহমান বুলু হাই কোর্ট থেকে ছয় মাসের জামিন নেন৷ ড. কামাল হোসেন এখনো জামিন আবেদন করেননি৷
অন্যদিকে একই ঘটনায় ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম ও ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদসহ ১৩ আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করে সুপৃম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগ৷ কেন তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না সে বিষয়ে কারণ দর্শাতে রুলে চার সপ্তাহের সময় বেধে দিয়েছে আদালত৷ গত ১১ ডিসেম্বর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রুল জারি করেন৷ আইনজীবীদের কাছ থেকে জানা যায়, আদালত তার আদেশে বলেছে, ৩০ নভেম্বর সুপৃম কোর্টে যে তাণ্ডব চালানো হয়েছে তা নজিরবিহীন৷ এসব ঘটনা বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে সারা দেশের মানুষ দেখেছে ও পড়েছে৷ এতে আদালতের বিষয়ে মানুষের মনে বিরূপ মনোভাবের সৃষ্টি হয়েছে৷ তাই এ রুল দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করে আদালত৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=23587&issue=173&nav_id=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: