দুই নোবেল বিজয়ীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হলো ‘মানিকগঞ্জ উৎসব’

রাজধানীতে মানিকগঞ্জবাসীদের জন্য এক ব্যতিক্রমী দিন ছিল গতকাল সোমবার। বড়দিনের সরকারি ছুটি আর মানিকগঞ্জের ‘মানিক’দের মিলনে সে এক আনন্দোচ্ছল পরিবেশে মুখরিত হয়ে ওঠে ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন। সি্নগ্ধ সকালে শিশিরভেজা পথ মাড়িয়ে অভ্যাগতদের আগমনে সূচনা ঘটে মানিকগঞ্জ উৎসব ২০০৬-এর। আর উৎসব পূর্ণতা পায় নোবেল বিজয়ী দুই বাঙালির উপস্থিতিতে। এর একজন হলেন অধ্যাপক অমর্ত্য সেন এবং অপরজন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। 

অমর্ত্য সেন ‘মানিকগঞ্জের ছেলে’। এই কৃতী সনত্দানকে নিয়ে গর্বের অনত্দ নেই মানিকগঞ্জবাসীর। সবাই অধীর আগ্রহে অপেৰায় ছিলেন কখন তিনি আসবেন। অবশেষে তার আগমন, সাহিত্য-সংস্কৃতি আর নানা ঐতিহ্য সমৃদ্ধ মানিকগঞ্জবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য আর সম্প্রীতির মিলন ঘটালো আরেকবার। আর গুণীদের কদর যে বাঙালিরা জানে তা আরেকবার প্রমাণিত হলো আবেগঘন মুহূর্তগুলোর মাধ্যমে। অনত্দত একটি ছবি তুলে দুই নোবেল বিজয়ীকে চিরকালের জন্য পাশে ধরে রাখার তীব্র আকাঙৰায় একের পর এক ক্যামেরা ফ্ল্যাশ করতে থাকলো। অতিথিদেরও আনন্দের সীমা নেই। এই উৎসবের আমেজ ধরে রেখে আগামীর পথ চিহ্নিত করতে তারাও আহ্বান জানালেন সবাইকে। মানিকগঞ্জের প্রতি তাদের ভালোবাসার সূত্র ধরে বললেন- উৎসবের আমেজ আমরা ধরে রাখতে চাই। বিজয়ের মাসে তারম্নণ্যের জয় ঘোষণা করে তারা বললেন তরম্নণদের সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বাড়ানোর কথা। ৰুদ্র ঋণ কর্মসূচির শীর্ষে থাকা মানিকগঞ্জের সংস্কৃতিকে সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়ার কথা।

উৎসবে প্রধান অতিথি ড. ইউনূস ছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালযের উপাচার্য সিরাজুল ইসলাম খান, সাবেক সচিব কাজী আবুল কাশেম। এতে সভাপতিত্ব করেন বিচারপতি হাবিবুর রহমান খান।

উৎসবের আয়োজক মানিকগঞ্জ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক অমর্ত্য সেন বলেন, শিৰা-সংস্কৃতি আর সভ্যতার নানাদিক আছে। সামগ্রিক সভ্যতা আর জাতীয় সভ্যতার সঙ্গে আঞ্চলিক সভ্যতা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে। সবকিছুর সমন্বয়ের প্রচেষ্টা বড় কিছু এনে দিতে পারে। তিনি আরো বলেন, পৃথিবীতে আজ অসহিষ্ণুতা বেড়েছে। একে অপরকে সহ্য করতে পারছে না। এই অসহিষ্ণুতার মূলোৎপাটন ঘটাতে হবে সমাজ থেকে। এই কাজটি আঞ্চলিক পর্যায় থেকেও শুরম্ন হতে পারে।

অধ্যাপক ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ উৎসবের আমেজে মজে গিয়ে বললেন, এই প্রথম দুই নোবেল বিজয়ী বাঙালিকে একসঙ্গে পেলাম। এটা এখন বাংলাদেশ উৎসব হয়ে গেছে। নোয়াখালীর হয়েও আমি এখানে এসে আনন্দিত হয়েছি। তিনি দুই নোবেল বিজয়ীর কর্মের সাযুজ্য খুঁজতে গিয়ে বলেন, দুইজনই বঞ্চিত নারী, ৰুধা, দারিদ্য নিয়ে বুদ্ধি ও বিবেকের সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করছেন তাদের কাজে।

ড. ইউনূস মানিকগঞ্জের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন। অমর্ত্য সেনকে সামনে নিয়ে মানিকগঞ্জ উন্নয়ন পরিষদ গঠনের প্রসত্দাব দেন। তিনি বলেন, অমর্ত্য সেনকে সামনে নিয়ে এগিয়ে গেলে অন্য জেলাও সেরকম উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

সিরাজুল ইসলাম খান মানিকগঞ্জকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জ্বলনত্দ প্রমাণ বলে তুলে ধরেন।

সভাপতির ভাষণে হাবিবুর রহমান খান দুই বাঙালি নোবেল বিজয়ীর এক মঞ্চে উপস্থিতির গুরম্নত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে ২০০৪ ও ২০০৫ সালের জন্য ২১ গুণীজনকে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

সূত্রঃ http://ittefaq.com/get.php?d=06/12/26/w/n_zzzttr

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: