প্রার্থী তালিকা নিয়ে ইদুর-বেড়াল খেলা

নবম পার্লামেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশকে ঘিরে প্রধান দুই রাজনৈতিক জোটে চলছে ইদুর-বেড়াল খেলা৷ কয়েকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে, চার দলের প্রধান শরিক বিএনপি ও মহাজোটের প্রধান শরিক আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত৷ যে কোনো সময় ঘোষণা দেয়া হতে পারে৷ কিন্তু গতকাল সোমবার পর্যন্ত দুই দলের কেউই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেনি৷ আনুষ্ঠানিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশের বদলে আওয়ামী লীগ নিয়েছে অভিনব এক কৌশল৷ একেকজন মনোনয়ন প্রত্যাশীকে শেখ হাসিনার বাসায় ডেকে দলীয় মনোনয়নের চিঠি ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে৷ সেই চিঠি নিয়ে তারা রুদ্ধশ্বাসে দৌড়াচ্ছেন নির্বাচনী এলাকার দিকে৷ এভাবে গতকাল রাত পর্যন্ত প্রায় ১০০ প্রার্থীকে মনোনয়নের চিঠি ধরিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানা যায়৷ অন্যদিকে বিএনপি তার বাছাইকৃত প্রার্থীদের দিচ্ছে মৌখিক গৃন সিগনাল৷ একেকজন প্রার্থীকে ডেকে বলে দেয়া হচ্ছে এলাকায় গিয়ে নমিনেশন পেপার জমা দেয়ার জন্য৷ অবশ্য সেই সংখ্যাও আওয়ামী লীগের তুলনায় খুবই কম৷ গতকাল পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৫০ জন প্রার্থী দলের গৃন সিগনাল পেয়েছেন বলে জানা যায়৷
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, প্রার্থী তালিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পরস্পরের দিকে তাকিয়ে আছে৷ আওয়ামী লীগ চাইছে, বিএনপির তালিকা দেখে তারপর নিজেদের তালিকা প্রকাশ করবে৷ আবার বিএনপিও চাইছে, আগে আওয়ামী লীগ তালিকা প্রকাশ করুক৷ মূলত এ কারণেই কোনো রকম ঘোষণা ছাড়াই প্রধান দুটি দলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ অস্বাভাবিক বিলম্বিত হচ্ছে৷ নির্বাচন কমিশন ঘোষিত সর্বশেষ শেডিউল অনুযায়ী নমিনেশন পেপার জমা দেয়ার শেষদিন আজ মঙ্গলবার৷ অথচ বিএনপি ও আওয়ামী লীগ গতকাল রাত পর্যন্ত নিজ নিজ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেনি৷ কবে নাগাদ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে জানতে চাইলে দুই দলের নেতারাই সাংবাদিকদের বলেছেন, নমিনেশন পেপার প্রত্যাহারের আগের দিনই এটা জানানো হবে৷
দলের তরফ থেকে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা না হলেও অপেক্ষায় বসে নেই বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা৷ প্রায় সব জায়গাতেই দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী একাধিক ব্যক্তি নমিনেশন পেপার জমা দিয়ে বসে আছেন৷ আজকের মধ্যে আরো অনেকেই জমা দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে৷
এদিকে জোটের শরিকদের মধ্যে আসন ভাগাভাগির ক্ষেত্রে দৃশ্যত চার দলের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে আওয়ামী জোট৷ গতকাল পর্যন্ত তারা নিজেদের মধ্যে আসন বণ্টনের প্রক্রিয়া প্রায় শেষ করে ফেলেছে৷ যদিও এটা করতে গিয়ে শরিকদের প্রবল চাপের মুখে পড়তে হয় আওয়ামী লীগ হাই কমান্ডকে৷ এমনকি ডাক্তার বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও কর্নেল অলির এলডিপি তাদের দাবিমতো সিট না পেয়ে নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে হঠাত্ করেই কিছুটা উল্টো পথে হাটতে শুরু করেছে৷ সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী আওয়ামী লীগ এককভাবে ২১২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ এর বাইরে এরশাদের জাতীয় পার্টিকে দেয়া হয়েছে ৫০টি আসন৷ এলডিপিকে ২৩, জাসদ ৬, ওয়ার্কার্স পার্টি দুই, গণফোরাম দুই, চরমোনাই পীরের দলসহ ইসলামী ঐক্যজোট চার ও জাকের পার্টিকে একটি৷
অন্যদিকে শরিকদের মধ্যে আসন বিভাজনের ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিকভাবে কিছুই বলেনি চার দল৷ এ জোটের নেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে গতকাল রাতে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন জোটের দ্বিতীয় প্রধান শরিক জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ চার নেতা৷ প্রায় আড়াই ঘণ্টার এ বৈঠক শেষে বিএনপির তরফ থেকে কিছুই বলা হয়নি৷ তবে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ সাংবাদিকদের বলেছেন, আসন বণ্টনের সমঝোতা নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই৷ সারা দেশে ৩০০ আসনে জোটের একজন করে প্রার্থী থাকবেন৷ এখন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা যে যার মতো নমিনেশন পেপার জমা দিতে থাকুক৷ দলীয় প্রার্থিতা চূড়ান্ত করার সুযোগ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগের দিন পর্যন্ত রয়েছে৷ বিষয়টি নিয়ে আমরা শরিকরা আবারো আলোচনায় বসবো৷
আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, যারা মনোনয়নের চিঠি নিচ্ছেন তাদের একটি প্রার্থিতা প্রত্যাহার ফরমও স্বাক্ষর করতে হচ্ছে৷ যাতে যে কোনো মুহূর্তেই মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যায়৷ মনোনয়নের চিঠি এ রকম শতাধিক প্রার্থী বা তার প্রতিনিধি গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত সুধা সদন থেকে নিয়ে এলাকায় ফিরে গেছেন৷ জানা গেছে, চিঠি নেয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন টাঙ্গাইল-৬ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আলহাজ মকবুল হোসেনের ছেলে ড. আহসান ইসলাম টিটু, গাজীপুর-১ আসনে রহমত আলী, ঢাকা-১১ (মিরপুর) আসনে কামাল আহম্মেদ মজুমদার, যশোর-৫ আসনে অধ্যক্ষ কাজী মাহমুদুল হাসান, দিনাজপুর-২ আসনে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবালুর রহিম, লালমনিরহাট-১ আসনে মোতাহার হোসেন, ফেনী-২ আসনে জয়নাল হাজারীর ছোট বোন খোদেজা বেগম, হবিগঞ্জ-১ আসনে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া, চাদপুর-৩ আসনে ডা. দীপু মনি, শেরপুর-৩ আসনে প্রকৌশলী ফজলুল হক, পাবনা-২ আসনে সেনাবাহিনীর সাবেক উপপ্রধান এয়ারভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে কাওসার হাসনাত, মানিকগঞ্জ-১ আসনে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক নাইমুল ইসলাম দুর্জয়, মাগুরা-১ আসনে প্রফেসর এম এইচ আকবর, মাগুরা-২ আসনে বীরেন শিকদার, কুমিল্লা-৮ আসনে আফতাবুল ইসলাম, ময়মনসিংহ-৭ আসনে আবদুল মতিন সরকার, ঝিনাইদহ-২ আসনে নুর-এ-আলম সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম-১০ আসনে জাসদ নেতা মাঈনুদ্দিন খান বাদল, কুমিল্লা-১১ আসনে ডা. কামরুজ্জামান, ঝিনাইদহ-১ আসনে আবদুল হাই, যশোর-৪ আসনে শেখ আবদুল ওয়াহব, ঝিনাইদহ-৩ শফিকুল আযম খান চঞ্চল, ঠাকুরগাও-১ আসনে রমেশ চন্দ্র সেন, দিনাজপুর-৪ আসনে এ এইচ মাহমুদ আলী, দিনাজপুর-৫ আসনে মোস্তাফিজুর রহমান সিজার, লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে এম এ হাসেম, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে মোঃ শাহজাহান, লক্ষ্মীপুর-২ আসনে হারুন রশিদ, ফরিদপুর-১ আসনে আবদুর রহমান, ফরিদপুর-২ আসনে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে খন্দকার মোশাররফ, ফরিদপুর-৫ আসনে কাজী জাফরুল্লাহ, ভোলা-১ আসনে তোফায়েল আহমেদ, ভোলা-২ আসনে অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, ভোলা-৪ আসনে আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, যশোর-২ আসনে শেখ মফিজউদ্দিন, পঞ্চগড়-১ আসনে জাসদ নেতা নাজমুল হক প্রধান, শরীয়তপুর-৩ আসনে আবদুর রাজ্জাক, শরীয়তপুর-২ আসনে কর্নেল (অব.) শওকত আলী, শরীয়তপুর-১ আসনে মোবারক আলী সিকদার, খুলনা-২ আসনে প্রশিকার সভাপতি কাজী ফারুক আহমেদ, ঝালকাঠি-১ আসনে বি এইচ হারুন, নেত্রকোনা-৩ আসনে মঞ্জুর কাদের কোরায়শী, টাঙ্গাইল-৮ আসনে অ্যাডভোকেট শওকত মোমেন শাজাহান, ময়মনসিংহ-১১ আসনে ডা. এম আমানুল্লাহ, টাঙ্গাইল-৩ আসনে প্রফেসর এম মতিউর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে এবাদুল করিম বুলবুল, বগুড়া-২ আসনে মাহমুদুর রহমান মান্না, টাঙ্গাইল-২ আসনে খন্দকার আসাদুজ্জামান, বরিশাল-৪ আসনে মাঈদুল ইসলাম, বরিশাল-১ আসনে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, বরিশাল-৩ আসনে অ্যাডভোকেট আফজালুল করিম, বগুড়া-৫ আসনে এসপি হাবিবুর রহমান, কুমিল্লা-২ আসনে মেজর (অব.) সুবিদ আলী ভুঁইয়া, চাদপুর-৬ আসনে শামসুল হক ভুঁইয়া, নরসিংদী-১ আসনে সাবেক সচিব মোহাম্মদ আলী, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ, জামালপুর-৩ আসনে মীর্জা আজম, কুমিল্লা-৩ আসনে জাহাঙ্গীর আলম সরকার, নীলফামারী-২ আসনে আসাদুজ্জামান নূর৷ সিরাজগঞ্জ-১ ও ২ আসনে মোহাম্মদ নাসিম এবং চট্টগ্রাম-৪ আসনে রফিকুল আনোয়ার, কুমিল্লা-৫ আসনে অ্যাডভোকেট আবদুর মতিন খসরু, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে মুফতি ইজাহার এবং নড়াইল-২ আসনে মুফতি শহীদুল ইসলাম৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=24037&issue=176&nav_id=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: