আইনের ফাকে বড় ঋণখেলাপিরা নির্বাচন করার সুযোগ পাচ্ছেন

আইনের ফাকফোকর ব্যবহার করে ঋণখেলাপি হয়েও অনেকে এবার নির্বাচন করার সুযোগ পাচ্ছেন৷ উচ্চ আদালত এসব ঋণখেলাপির রিট আবেদন আমলে নিয়ে স্থগিতাদেশ দেয়ায় তারা নির্বাচন করতে পারবেন৷ তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযাযী ঋণখেলাপি বাংলাদেশের যে কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য৷
ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ সূত্রে জানা গেছে, ঋণখেলাপি হয়েও এবার আদালতের স্থগিতাদেশ পাওয়ায় নির্বাচন করতে পারছেন আওয়ামী লীগের সালমান এফ রহমান, আখতারুজ্জামান বাবু, বিএনপির রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মেজর জেনারেল (অব.) জেড এ খান ও মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদেরের মতো পরিচিত ব্যক্তিত্বরা৷
জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক এবার ঋণখেলাপিদের প্রার্র্থিতা ঠেকাতে প্রচেষ্টা নিলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা ব্যর্থ হয়েছে৷ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ অনুযায়ী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণখেলাপিদের তালিকা তৈরি করলেও তা খুব একটা কাজে আসেনি৷ জানা গেছে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ১৯৪ ঋণখেলাপির তালিকা তৈরি করে৷ কিন্তু তালিকায় অনেক বড় ঋণখেলাপি আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে পার পেয়ে গেছেন৷
অগ্রণী ব্যাংকের সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে আগে অগ্রণী ব্যাংকে মোট ১৫৩ জনের ঋণ অনিয়মিত ছিল৷ পরে ১০৭ জন ঋণ নিয়মিত করেন৷ বাকি ৪৬ ঋণখেলাপির মধ্যে পাচজন আদালতে রিট আবেদন করে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন৷
জানা গেছে, ঋণখেলাপিদের রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত থেকে মোট স্থগিতাদেশের পরিমাণ ১২৫টির বেশি৷ বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ‘উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে বড় ঋণখেলাপিরা তালিকা থেকে নাম প্রত্যাহারের সুযোগ পেয়ে গেছেন৷ পক্ষান্তরে অনুসন্ধানে যারা দোষী প্রমাণিত হয়েছেন তাদের ঋণের পরিমাণ কম৷’
খেলাপি ঋণ সম্পর্কে মতামত জানতে চাওয়া হলে সালমান এফ রহমান বলেন, আমি উচ্চ আদালত থেকে একটি স্থগিতাদেশ পেয়েছি৷ এর বেশি আর কিছু বলার নেই৷ ঋণ নিয়মিত করা ছাড়াও সালমান এফ রহমান নির্বাচনী প্রস্তুতি হিসেবে তার মালিকানায় থাকা বেশ কিছু ব্যাংকের শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে৷
ঋণখেলাপি হওয়ায় এবার উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপির সাবেক এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, এফবিসিসি-আইয়ের সাবেক সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন, এফবিসিসিআইয়ের বর্তমান সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী, এলডিপি নেতা একরামুল কবির এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম আকরামের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে৷ উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তারা আগামী ২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে মনোনয়ন জমাদানকারী ৪ হাজার ১৪৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৬৪ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছেন৷
এদিকে আদালতের নির্দেশে চিহ্নিত ঋণখেলাপিরা পার পেয়ে যাওয়ায় ব্যাংকিং সেক্টরের বিশেষজ্ঞরা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন৷ তাদের মতে, বিদ্যমান পরিস্থিততে ঋণখেলাপি হলে নির্বাচনে অংশ নেয়া যাবে না- এ আইনটি অনেকটা অকার্যকর হয়ে পড়ছে, যা ব্যাংকিং সেক্টরের ভবিষ্যতের জন্য আশঙ্কাজনক৷
ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান এম আনিসুজ্জামান বলেন, পরিচিত ঋণখেলাপি শুধু একটি রিট করে উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ পাচ্ছে৷ এটা অর্থহীন৷ এ ধরনের বিষয় খেলাপি ঋণের সংস্কৃতিকে চাঙ্গা করে তুলবে৷ এটিকে ঠেকাতে নতুন আইন করতে হবে৷
অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার মনে করেন, এ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন জরুরি ভিত্তিতে পরিবর্তন করতে হবে৷ তার ব্যাংকের বেশ কয়েকজন ঋণখেলাপি আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে স্বীকার করে তিনি বলেন, অর্থঋণ আদালতে রিট করতে হলে যেখানে একটি নির্দিষ্ট অংশ অর্থ জমা দিতে হয়৷ উচ্চ আদালতে রিট করতে কোনো অর্থ জমা দিতে হয় না৷ এটি ঋণখেলাপিদের জন্য বাড়তি সুযোগ এনে দিয়েছে৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=24336&issue=179&nav_id=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: