ঈদ যাত্রার দুর্ভোগ

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই কোরবানির ঈদে বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে লোকজন৷ সাপ্তাহিক বন্ধের শেষ দিনে বলে গতকালই অনেক লোক নাড়ির টানে আপনজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন৷ কোরবানির পশু কেনার জন্য আগেভাগে বাড়ি যাওয়ার আলাদা একটি তাড়া লক্ষ্য করা গেছে বাড়ি ফেরা লোকজনের মধ্যে৷ গতকাল রাজধানীর সড়ক, নৌ ও রেলপথে এ রকম দৃশ্যই দেখা গেছে৷
সড়কপথে বাড়ি ফেরা : দুপুরে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে ফেনীর যাত্রী আবদাল হোসেন বিরতিহীন ডলফিন বাসে উঠে কিছুক্ষণ পর এক রকম ধাক্কা খেয়েই নেমে যান৷ কারণ নির্ধারিত ৭০ টাকা ভাড়ার জায়গায় তার কাছে দাবি করা হয়েছে ১৫০ টাকা৷ কিন্তু টিকেটে ৭০ টাকাই লেখা হবে৷ এর প্রতিবাদ করতে গেলে বাসের কন্ডাক্টর তাকে না পোষালে নেমে যাওয়ার হুকুম করার পরও যখন তিনি নামছিলেন না, তখন তাকে ধাক্কা দেয়া হয়৷ বাস ছাড়ার আগে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায়ের কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে৷ তারপর নির্ধারিত আসনের বাইরে মোড়া পেতে আরো যাত্রী বসানো হচ্ছে৷ যাত্রীরা অভিযোগ করেন, এসব বাসের অগ্রিম টিকেট দেয়া হয় না৷ প্রায় সবক’টি বাসেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে৷ সাতক্ষীরার একটি বাসের চালককে বাড়তি ভাড়া নেয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বিষয়টি মালিক সমিতির সিদ্ধান্ত বলে জানান৷ কিন্তু টার্মিনালের ভেতর দোতলা ভবনে মালিক সমিতির অফিস কক্ষে গিয়ে কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি৷

বাস টার্মিনালে যেতে যানজট, টার্মিনালে প্রচণ্ড ভিড়, সময়মতো বাস না ছাড়া ইত্যাদি নানা ভোগান্তির পরও মানুষ বাড়ি ফিরছে৷ যাওয়ার তারিখ নির্ধারণ করে যারা অগ্রিম টিকিট কেটে রাখেননি, তাদের পড়তে হয়েছে নিদারুণ ঝামেলায়৷ বিভিন্ন পরিবহনের এসি, নন-এসি চেয়ার কোচের টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ার পর এখন সাধারণ বাসের টিকেটও শেষের পথে৷ প্রতি ঈদে বাসের সঙ্কট থাকলেও মানুষের বাড়ি ফেরা থেমে থাকে না৷ আন্তঃজেলা বাসের টিকেট না পেয়ে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ বিকল্প ব্যবস্থায় ঢাকা ছাড়ছেন৷ কেউ গাবতলী থেকে পাটুরিয়া পর্যন্ত বাসে গিয়ে তারপর লঞ্চে পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে আবার ওই পারে অন্য বাস ধরে যাচ্ছেন ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, খুলনা, রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন জেলায়৷ তবে অগ্রিম টিকেট কেটে স্বস্তি পেলেও অনেকেই রেহাই পাননি বাড়তি টাকা দিয়ে টিকেট কেনা থেকে৷ ঝিনাইদহ-কালীগঞ্জের টিকেট কাটতে হয়েছে ২৫০ টাকা দিয়ে অথচ বিআরটিএর তালিকা অনুযায়ী নন-এসি চেয়ার কোচে এ রুটের সর্বোচ্চ ভাড়া ২০০ টাকা৷ শুধু এ রুটেই নয়, খুলনা, যশোর বাগেরহাটের নন-এসি চেয়ার কোচেও রাখা হচ্ছে নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি ভাড়া৷ ঈগল, হানিফ, সোহাগের মতো পরিচিত পরিবহনগুলো দিনের পর দিন বেশি ভাড়া রেখে আসছে৷ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ঢাকা আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর বলেন, মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে অনুষ্ঠিত সভায় যাত্রীদের সেবা নিশ্চিত করতে ঈদের আগের দিন গভীর রাত পর্যন্ত বাস চলাচল অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে৷ যাত্রীদের যাতে কোনো হয়রানি না হয় সে জন্য মালিক-শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=24345&issue=179&nav_id=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: