মহাজোটের ফাইনাল সিদ্ধান্ত আজ

নির্বাচনে যাওয়া-না যাওয়ার প্রশ্নে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের ফাইনাল সিদ্ধান্ত আজ শুক্রবার জানাবেন শেখ হাসিনা৷ এ জন্য রাজধানীর সবচেয়ে ব্যয়বহুল হোটেল রেডিসন ওয়াটার গার্ডেনে প্রেস কনফারেন্স ডেকেছেন তিনি৷ গত দু’মাসে কেয়ারটেকার সরকারকে টানা চাপে ফেলে নানা দাবি আদায়ের পর মাত্র গত সপ্তাহেই নির্বাচনে নামার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এখন আবার কি ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা, সেদিকেই সবার দৃষ্টি৷
আওয়ামী লীগের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানায়, কেয়ারটেকার সরকারের দু’দফা প্যাকেজের মাধ্যমে অনেকগুলো দাবি আদায়ের সঙ্গে সঙ্গে এরশাদকে সঙ্গে পেয়েই মূলত শেখ হাসিনা দ্রুত নির্বাচনে নামার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন৷ কিন্তু এ পর্যায়ে দুর্নীতির মামলায় সুপৃম কোর্টে চূড়ান্তভাবে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় এরশাদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছেন৷ দেশের বিভিন্ন স্থানে জমা দেয়া তার পাচটি নমিনেশন পেপারই বাতিল হয়ে গেছে৷ মূলত এ প্রেক্ষাপটেই নির্বাচনে যাওয়া-না যাওয়ার প্রশ্নে আবারো দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন শেখ হাসিনা৷ এরশাদবিহীন জাতীয় পার্টিকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনে কতোটুকু সুবিধা পাওয়া যাবে, সে হিসাবই গত তিন দিন ধরে কষেছে আওয়ামী লীগ হাই কমান্ড৷ যদিও এরশাদের তরফ থেকে চাপ রয়েছে, তাকে ছাড়া যেন মহাজোট নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দেয়৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত এরশাদের মতো একজন ব্যক্তির জন্য আওয়ামী লীগ নির্বাচন বর্জনের কঠোর পথে হাটবে কি না তা নিয়ে ঘোর সংশয় রয়েছে খোদ আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যেই৷
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এরশাদের প্রার্থিতা বহাল রাখার দাবিতে ইলেকশন কমিশন ও সরকারকে আরেক দফা চাপে ফেলার কৌশল নেবে মহাজোট- এমন ধারণা থেকেই জেনারেল এরশাদ তার বাতিল হওয়া নমিনেশনের বিষয়ে গতকাল পর্যন্ত ইলেকশন কমিশনে কোনো আপিল করেননি৷ কিন্তু মহাজোটের অন্য শরিকরা এরশাদের জন্য এতোটা ঝুকি নেয়ার পক্ষপাতী নন৷ এমনকি আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়ামের বেশির ভাগ সদস্যও মনে করেন, ব্যক্তি এরশাদ ভোটে দাড়াতে না পারলেও তার দল জাতীয় পার্টি যথারীতি নির্বাচনে রয়েছে৷ বরং এরশাদবিহীন জাতীয় পার্টিই আওয়ামী লীগের জন্য বেশি সুবিধাজনক বলে মনে করেন এসব নেতা৷
আওয়ামী লীগের জেনারেল সেক্রেটারি আবদুল জলিল গতকাল সন্ধ্যায় এক প্রেস বৃফিংয়ে বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোট প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে ব্যবহার করে নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করছে৷ প্রশাসনকে নির্দলীয় করার পরিবর্তে আরো বেশি দলীয়করণ করছেন৷ সারা দেশে র‌্যাব ও পুলিশ দিয়ে আওয়ামী লীগসহ মহাজোটের নেতাকর্মীদের হত্যা, গ্রেফতার ও নির্যাতন করা হচ্ছে৷
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি অফিসে এ বৃফিংয়ের সময় আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রাজ্জাক, সাজেদা চৌধুরী, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, মতিয়া চৌধুরী, ওবায়দুল কাদেরসহ ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা৷ সেখানেই আবদুল জলিল ঘোষণা দেন, আজ শুক্রবার বিকালে শেখ হাসিনা এক প্রেস কনফারেন্সে নির্বাচনে যাওয়া-না যাওয়ার প্রশ্নে মহাজোটের অবস্থান ব্যাখ্যা করবেন৷ হোটেল র‌্যাডিসন ওয়াটার গার্ডেনে এ প্রেস কনফারেন্সে সাবেক স্বৈরশাসক এইচ এম এরশাদ, এলডিপি চেয়ারম্যান ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ মহাজোটের অন্য নেতারাও উপস্থিত থাকবেন৷
বৃফিংয়ে আবদুল জলিল বলেন, কোনো যথাযথ কারণ না জানিয়েই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে৷ এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হয়নি৷ তিনি প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি-জামায়াতের তৈরি করা তালিকা নিয়ে গ্রেফতার অভিযান চালানো হচ্ছে৷ অথচ গত পাচ বছরে যারা ২৬ হাজার মানুষকে হত্যা করেছে, সন্ত্রাস করেছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না৷ তিনি বলেন, দলীয় আজ্ঞাবহ প্রধান উপদেষ্টা তার বিবেক ও জনমত দ্বারা পরিচালিত না হয়ে তাদের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের যন্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছেন৷
আবদুল জলিল সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টির দাবি জানিয়ে বলেন, মনোনয়নপত্র দাখিলের পরও প্রধান উপদেষ্টা বিএনপি-জামায়াতের রিমোট কন্ট্রোল অনুযায়ী পরিস্থিতি যেদিকে নিয়ে যাচ্ছেন তাতে সমগ্র জাতি আজ নিশ্চিত তার অধীনে দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়৷ তিনি নির্বাচনকে একটি গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন৷
তিনি বলেন, মহাজোটের পক্ষ থেকে আমাদের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করার পর দেশব্যাপী যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে তাতে বিএনপি-জামায়াত জোট ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে গেছে৷ কারণ নির্বাচন সামান্যতম নিরপেক্ষ হলেও বিএনপি-জামায়াত জোটের ভরাডুবি হবে৷ এ জন্যই তারা ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে৷
এর আগে গতকাল বিকালে আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান খানের স্মরণসভায় বক্তৃতাকালে আবদুল জলিল বলেছেন, দেশে এখনো অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি৷ অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পূর্বশর্ত সঠিক ভোটার তালিকা ও নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এখনো হয়নি৷ প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিনকে প্রধান উপদেষ্টার পদ ছেড়ে দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে৷
এদিকে কেয়ারটেকার সরকারের অ্যাডভাইজর সফিকুল হক চৌধুরী বলেছেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নের বৈধতা নিয়ে সরকারের কিছুই করার নেই৷ আইন অনুযায়ীই বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে৷ গতকাল সচিবালয়ে নিজের দফতরে ইনডিয়ার ভারপ্রাপ্ত অ্যামবাসাডর সর্বজিত্ চক্রবর্তীর সঙ্গে বৈঠক শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেছেন৷ অ্যাডভাইজর সফিক আরো বলেন, ভোটার লিস্ট, ব্যালট বক্স ও ভুয়া ভোটারের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে৷ নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলতে থাকবে৷ মাঠ প্রশাসনকেও পূর্ণ মনিটরিংয়ে রাখা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন৷
অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাস্টিস মাহফুজুর রহমান গতকাল এক প্রেস বৃফিংয়ে এরশাদের মনোনয়ন বাতিল সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আইন সবার জন্য সমান৷ এরশাদ আপিল করলে তার বিষয়টি আইন অনুযায়ীই নিষ্পত্তি করা হবে৷ এ ক্ষেত্রে আইনের বাইরে গিয়ে কিছু করার সুযোগ নেই৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=24335&issue=179&nav_id=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: