খালেদা জিয়ার বক্তব্য স্ববিরোধী : জলিল

বিএনপি চেয়ারপারসন ও চারদলীয় জোট নেত্রী খালেদা জিয়ার সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যকে স্ববিরোধী বলে আখ্যায়িত করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও ১৪ দলের সমন্বয়ক আবদুল জলিল৷ জলিল বলেন, খালেদা জিয়া যে বক্তব্য পড়েছেন তাতে মনে হয়েছে নিজের ওপরই তার আস্থা নেই৷ তিনি বার বার সংবিধানের কথা বলছেন৷ যেখানে কোনো ভোটার তালিকাই নেই সেখানে সংবিধানের কোন ধারা বলে তিনি ভোটারবিহীন নির্বাচন করতে চান৷
গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক প্রেস বৃফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন৷ এ সময় আমির হোসেন আমু, আবদুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, মোহাম্মদ নাসিমসহ ১৪ দলের মহানগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন৷
আবদুল জলিল প্রশ্ন তোলেন, তাদের দলীয় প্রেসিডেন্ট যখন সংবিধানের ৫৮(গ) অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে প্রধান উপদেষ্টার পদ দখল করেছেন তখন তার সংবিধানপ্রীতি কোথায় ছিল? দলীয় প্রেসিডেন্Uরে প্রধান উপদেষ্টার পদ দখলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হলে রায় দেয়ার আগ মুহূর্তে নজিরবিহীনভাবে বেঞ্চ ভেঙে দেয়া হয়েছে৷ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে৷ এটি সংবিধানের কোন ধারায় করা হয়েছে? অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে যে দলের জন্ম হয়েছিল সেই দলের নেত্রীর মুখে সংবিধানের কথা শোভা পায় না৷
তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের পূর্বশর্ত হচ্ছে একটি সঠিক, ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা৷ বর্তমান শেডিউল অনুযায়ী নির্বাচনের আর ১৭ দিন বাকি৷ কিন্তু এখন পর্যন্ত একটি সঠিক ও ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়নি৷ এখন শোনা যাচ্ছে ৭ জানুয়ারির পর ভোটার তালিকা দেয়া হবে৷ ভোটার তালিকা বিধিমালা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে যাচাই-বাছাই করার জন্য ১৫ দিন সময় দিয়ে জনসমক্ষে টানিয়ে দেয়ার বিধান রয়েছে৷ তাহলে ২২ তারিখে নির্বাচন হলে ১৫ দিন সময় দিয়ে যাচাই-বাছাই, পরবর্তীতে সংশোধন ও প্রকাশের সময় কোথায়? এ প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠেয় নির্বাচন কি অসাংবিধানিক হবে না?
আবদুল জলিল বলেন, বিএনপি নেত্রী বলেছেন আমরা নাকি একের পর এক দাবি দিয়ে যাচ্ছি৷ তার এ বক্তব্য অসত্য ও বিভ্রান্তিকর৷ তিনি বলেন, খালেদা জিয়া জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদকে দুর্নীতিবাজ বলেছেন৷ তাহলে তার কাছে ছেলেসহ ধরনা দিয়েছিলেন কেন? শুধু তাই নয়, এর আগে এরশাদকে স্বামীর হত্যাকারী বলেছিলেন৷ তার পক্ষে থাকলে সব ভালো, বিপক্ষে থাকলে সবই খারাপ- এটা কোন ধরনের মানসিকতা?
আবদুল জলিল প্রশ্ন করেন, অপারেশন ক্লিনহার্টে সেনাবাহিনী যে আওরঙ্গকে গ্রেফতার করেছিল তাকে যিনি ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করেন তিনি আবার কোন মুখে অপারেশন ক্লিনহার্টের প্রশংসা করেন৷ সুপৃম কোর্টের কাছে রেফারেন্সের কথা বলতে গিয়ে আবার সংবিধান পরিপন্থী নির্দেশনা মানবেন না বলে কোর্টকেই হুমকি দিয়েছেন৷ আওয়ামী লীগের পাচ বছরের শাসনামলে তিনি ৩০৮ দিন হরতাল করে এখন কোন মুখে হরতাল-অবরোধের বিপক্ষে কথা বলেন?
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার বক্তব্য প্রফেসর ইয়াজউদ্দিনের মুখোশ খুলে দিয়েছে৷ প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে তাকে নেমে যেতে হবে৷ তারপরই দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে৷
সূত্রঃ যাযাদি

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: