দেশ বাচাতে প্রয়োজনে ইমার্জেন্সি জারি করুন  আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে  ২৪ ঘণ্টায় সঙ্কটের সমাধান চাই

প্রেসিডেন্টের প্রতি এফবিসিসিআইর আহ্বান
দেশ বাচাতে প্রয়োজনে ইমার্জেন্সি জারির প্রস্তাব করেছে দেশের ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই৷ গতকাল শনিবার এফবিসিসিআই পরিচালকমণ্ডলীর এক জরুরি সভায় সংগঠনের নেতারা দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক সঙ্কটে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, চিফ অ্যাডভাইজরকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজনৈতিক সঙ্কটের সমাধান করতে হবে৷ তা না হলে এ অচলাবস্থা থেকে দেশ ও জনগণকে বাচানোর জন্য অবশ্যই ইমার্জেন্সি বা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে হবে৷
সভা শেষে এফবিসিসিআইর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আলী সাংবাদিকদের উদ্দেশে বৃফিং দেন৷ সংগঠনের সভাপতি মীর নাসির হোসেনের অনুপস্থিতিতে তিনিই পরিচালকদের জরুরি সভায় সভাপতিত্ব করেন৷
সভায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধদের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রেসিডেন্ট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা যে কোনো দুর্ঘটনা এড়ানোর লক্ষ্যে জাতির অভিভাবক হিসেবে অবিলম্বে দুই প্রধান রাজনৈতিক জোটকে ডেকে বাস্তবসম্মত রাজনৈতিক সমাধানের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন৷
তিনি জানান, সভায় এফবিসিআই নেতারা মত প্রকাশ করেন, অর্থনীতির স্বার্থে দেশের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে চলমান সঙ্কটময় পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে ব্যবসায়ী নেতাদের সব ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে৷ এর কোনো বিকল্প নেই৷ পরিচালকমণ্ডলীর সদস্যরা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত এবং আগামী ৭ ও ৮ জানুয়ারি দেশব্যাপী অবরোধ কর্মসূচিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন৷
মোহাম্মদ আলী বলেন, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিততে সবাই উদ্বিগ্ন৷ দেশের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চেয়েছিল৷ কিন্তু মহাজোটের নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত দেশকে ভয়াবহ সঙ্কটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে৷ দেশের অর্থনীতি রক্ষার স্বার্থে আমরা প্রেসিডেন্টকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানাই৷
তিনি আরো বলেন, জাতির অভিভাবক হিসেবে প্রেসিডেন্ট যে কোনো দুর্ঘটনা এড়াতে অবিলম্বে প্রধান দুই রাজনৈতিক জোটকে ডেকে বাস্তবসম্মত রাজনৈতিক সমঝোতার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন অথবা সুপৃম কোর্টে এ বিষয়ে রেফারেন্স পাঠাতে পারেন৷ প্রয়োজনে তিনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেও সঙ্কট সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারেন৷ তবে সুপৃম কোর্টের নির্দেশনা যদি কোনো রাজনৈতিক জোট বা দল না মানে তবে আরেক ধরনের জটিলতার সৃষ্টি হবে৷
এফবিসিসিআইর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আরো বলেন, আইনগত বাধ্যবাধকতার জন্য এখন আর ১৪ দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না৷ ফলে দেশ এক চরম সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে৷
মোহাম্মদ আলী বলেন, রাজনৈতিক অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ার কারণে এমনিতেই অনেক গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গেছে৷ ফলে গার্মেন্ট মালিকরা ব্যাংক ঋণের টাকা দিতে না পারায় ঋণখেলাপি হয়ে পড়েছেন৷ রাজনৈতিক সঙ্কটের কারণে দেশ অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্যে পড়তে যাচ্ছে৷
গণতান্ত্রিক ব্যবসায়িক সংগঠন কিভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধানকে একটি অগণতান্ত্রিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা দেয়ার দাবি জানায়- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এছাড়া আমাদের কাছে কোনো ধরনের অপশন নেই৷ আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে৷ দেশের কোনো রাজনৈতিক দলের মধ্যেই তো গণতন্ত্রের চর্চা নেই৷ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুই বড় জোট সম্মত হলেই কেবল নির্বাচন পেছানো যেতে পারে৷
তিনি বলেন, গত তিন মাস ধরে ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে যেসব উদ্যেগ নেয়া হয়েছিল তা সম্পূর্ণ রূপে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে৷

সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=25088&issue=185&nav_id=1

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: