যুবদলের সমাবেশে নেতারা নির্বাচন বর্জনকারীদের প্রতিহিংসা থেকে সতর্ক থাকুন

নির্বাচন বর্জনকারী আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের প্রতিহিংসা থেকে সতর্ক থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী যুবদল নেতারা৷ তারা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ এক ও অভিন্ন আত্মা৷ গতকাল শনিবার বিকালে নয়া পল্টনে বিএনপি সেন্ট্রাল অফিসের সামনে যুবদল আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তারা বলেন, আগামী ২২ জানুয়ারি নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের অযৌক্তিক কর্মকাণ্ডের দাতভাঙা জবাব দেয়া হবে৷
যুবদল সভাপতি বরকত উল্লাহ বুলুর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মির্জা আব্বাস৷ বিএনপির অন্য যুগ্ম মহাসচিব গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ ছাড়াও যুবদল নেতাদের মধ্যে জসিম উদ্দিন মাহমুদ, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ শাহজাহান, রফিকুল আলম মজনু, নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, আবদুল আউয়াল খান, আশরাফ আলী, অ্যাডভোকেট নেসার আহমেদ, সাইফুল আলম সিরাজ ও হাজী আহমদ হোসেন সমাবেশে বক্তৃতা করেন৷
মির্জা আব্বাস বলেন, আওয়ামী লীগ ১৩ টোকাই দলকে নিয়ে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে৷ কেউ কেন্দ্রে গেলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে৷ আগামী ২২ জানুয়ারি নির্বাচনে জিতে আমরা আওয়ামী লীগের সব সন্ত্রাসী কার্যকলাপের দাতভাঙা জবাব দেবো৷ আমরা সবাই ভোট দিয়ে প্রমাণ করবো বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচন চায়৷ নির্বাচন হবে৷ গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা মেনে আমরা নির্বাচনে অংশ নেবো৷ নির্বাচনে কে এলো কে এলো না তা দেখা আমাদের দায়িত্ব নয়৷ ষড়যন্ত্র করে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনীতি বিএনপি করে না বলে দাবি করেন মির্জা আব্বাস৷
গয়েশ্বর রায় পুলিশকে অবরোধ চলাকালে রাস্তা যান চলাচলের উপযোগী রাখার আহ্বান জানান৷ আওয়ামী লীগ ও তাদের সমমনা সংগঠনগুলোর নির্বাচন বর্জনকে গণতন্ত্রমনা মানুষের অধিকার হরণের চেষ্টা বলে অভিযোগ করে তিনি আরো বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর থেকে তারা অনেকবারই জোট সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছে৷ কিন্তু পদত্যাগে বাধ্য করতে পারেনি৷ আর আগামী নির্বাচনে ভরাডুবি হবে বুঝতে পেরে তারা নিজেরাই নির্বাচন থেকে সরে দাড়িয়েছে৷ তিনি বলেন, এরশাদের মতো একজন চরিত্রহীন মানুষের জন্য সারা দেশের ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন না – এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা৷ আওয়ামী লীগ ও এর শরিকরা নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে নির্বাচনী উত্সবের আমেজ নষ্ট করে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি৷ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে গয়েশ্বর রায় বলেন, নির্বাচন একটি কঠিন অবস্থায় আছে৷ আমরা প্রতিদ্বন্দ্বী চেয়েছিলাম৷ এখন প্রতিদ্বন্দ্বী নেই৷ তবে সামনে আছে মহাজোটের প্রতিহিংসা৷ আমাদের সতর্ক থাকতে হবে৷
সভাপতির বক্তব্যে বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, নির্বাচন থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররা দেশকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে চাইছে৷ সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে দেখে তারা বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্র বানাতে চাইছে৷ এ জন্য আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট নানা ষড়যন্ত্র করছে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা এ দেশে কখনো টিকে থাকতে পারেনি৷ সব সময় যারা মাটি ও মানুষের পক্ষে কথা বলেছে তারা জয়ী হয়েছে৷
অন্য বক্তারা বলেন, আগামী নির্বাচন গণতন্ত্রের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ তাই যুবদল যে কোনো মূল্যে নির্বাচন প্রতিহতকারীদের প্রতিরোধ করবে৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=25104&issue=185&nav_id=7

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: