বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ সাত দিনের মধ্যে সুপৃম কোর্ট প্রণীত বিধিমালা জারির নির্দেশ

নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণে সুপৃম কোর্ট প্রণীত বিধিমালা সাত দিনের মধ্যে জারির নির্দেশ দিয়েছে সুপৃম কোর্টের আপিল বিভাগ৷ গতকাল বুধবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ সরকারের প্রতি এ নির্দেশ দেয়৷ এক সপ্তাহের মধ্যে আদালতের এ আদেশ বাস্তবায়ন না করা হলে সরকারের বিরুদ্ধে আরেকটি আদালত অবমাননার রুল জারি করা হবে বলে আদালত মন্তব্য করে৷
সরকারের চার শীর্ষ সচিব ও নয় পদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননা রুলসহ নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের বিষয়ে রায়ের দিন ধার্য ছিল গতকাল৷ সকালে অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী বিচার বিভাগ পৃথকীকরণে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারের পদক্ষেপ ও অগ্রগতির রিপোর্ট আপিল বিভাগে দাখিল করেন৷ তিনি সুপৃম কোর্ট প্রণীত বিধিগুলো সংশোধন করে প্রণয়নের প্রস্তাব দেন৷ তখন আদালত বলে, অনেক হয়েছে৷ এবার আমরা পরিত্রাণ চাই৷ আদালত এও বলে, সরকারের ইচ্ছামতো সুপৃম কোর্টের বিধিমালা প্রণয়ন করা যাবে না৷ আদালত যেভাবে বলেছে সেভাবেই তা বাস্তবায়ন করতে হবে৷
সুপৃম কোর্ট জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন ও জুডিশিয়াল পে কমিশন প্রতিষ্ঠা, বিচারপতিদের পদোন্নতি, বরখাস্তকরণ ও প্রেষণ সম্পর্কিত বিধিমালা প্রণয়ন করে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল৷
এরপর নয় আমলার পক্ষে আইনজীবী টি এইচ খান আদালতে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি হওয়ার পর দুই বছর পার হয়েছে৷ প্রতি শুনানির তারিখেই তারা আদালতে হাজির হয়েছেন৷ তাই তিনি আদালতে আবেদন জানান যাতে নয় কর্মকর্তাকে রুল থেকে মুক্তি দেয়া হয়৷ আদালত জানায়, আমরা শেষ প্রান্তে এসে গেছি৷ তাই আদালত পরবর্তী তারিখে কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেয়৷ এরপর চার শীর্ষ সচিবের একজন কামালউদ্দিন সিদ্দিকীর পক্ষে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক আদালতে বক্তব্য রাখতে চাইলে পরবর্তী তারিখের জন্য তা নির্ধারিত রাখা হয়৷
বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ সংক্রান্ত মাজদার হোসেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, আমরা আগেই আদালতে বলেছিলাম বিচার বিভাগ পৃথক করার কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই৷ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে রায়কে আরো বিকৃত করা হয়েছে৷ গত দুই সরকার নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করতে ২৩ বার আদালত থেকে সময় নিয়েছে৷ কিন্তু কোনো অংশই পৃথক হয়নি৷ তিনি বলেন, আমরা মনে করেছিলাম তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসায় পৃথকীকরণের বিষয়টি নিশ্চিত হবে৷ কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেলের আচরণ দেখে মনে হয় এখনো দেশে আগের সরকারই ক্ষমতায়৷
রাষ্ট্রের আইনজীবী অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুর রেজাক খান বলেন, বিচার বিভাগ পৃথকীকরণে সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলো আদালত পর্যালোচনা করে দেখেছে৷ পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে সুপৃম কোর্টের বিধিমালা গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে প্রকাশ করতে বলেছে৷ ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন সম্পর্কে তিনি বলেন, বিষয়টি সংসদে পেশ করা হয়েছে৷
১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর দেশের সর্বোচ্চ আদালত বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ সংক্রান্ত ১২ দফা নির্দেশনা দেয় সরকারের প্রতি৷ বিভিন্ন সময় সরকার নির্দেশনা বাস্তবায়ন সম্পর্কিত বিবরণ আদালতে পেশ করে এবং আদালত থেকে সময় নেয়৷ গত দুই সরকার মিলে ২৩ বার সময় নেয়ার পর আপিল বিভাগ সরকারের আবেদন না-মঞ্জুর করে৷ সর্বশেষ ২০০৬ সালের ২৭ নভেম্বর ছয় সপ্তাহের সময় দিয়ে পৃথকীকরণের বিষয়টি আদালতে অবহিত করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়৷
এদিকে আদালতের নির্দেশনা বিকৃত করে নিজেদের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করায় আপিল বিভাগ স্বপ্রণোদিত হয়ে ২০০৪ সালের ২৯ নভেম্বর নয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করে৷ তারা হলেন- তত্কালীন সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব লোকমান হাকিম, বদরুল আলম তরফদার, আবদুর রউফ হাওলাদার, উপসচিব আঃ কালাম আজাদ চাকলাদার, আইন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোঃ সফিকুল ইসলাম তালুকদার, সহকারী সচিব মোঃ হারুনুর রশিদ, খলিলুর রহমান, মন্ত্রিপরিষদ উপসচিব মোঃ ফজলুল হক, অর্থ উপসচিব এ কে এম মোতালেব হোসেন৷
এদিকে ২০০৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আইনজীবী আমীর-উল ইসলাম সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ না নেয়ায় ১০ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে আগের মামলাটি হালনাগাদ করেন৷ আদালত পরবর্তী ৩ এপৃল চারজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করে৷ এ চার সচিব হলেন তত্কালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামালউদ্দিন সিদ্দিকী, অর্থ সচিব সিদ্দিকুর রহমান, আইন সচিব আলাউদ্দিন সরদার ও সংস্থাপন সচিব ড. মাহবুবুর রহমান৷ ২৪ এপৃল চার সচিবের পক্ষে তাদের আইনজীবীরা রুলের জবাব দেন৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=25567&issue=189&nav_id=1

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: