তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছেও আটকে আছে দুর্নীতি দমন কমিশনের বিধিমালা

প্রয়োজনীয় বিধিমালার অভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলেও থমকে আছে দুর্নীতি দমন কমিশন৷ অনুসন্ধান, তদন্ত ও মামলা দায়ের বিধিমালাটি না থাকায় কালো টাকার মালিকদের সম্পত্তির হিসাব চাওয়ার পদক্ষেপ নিতে পারছে না কমিশন৷ এছাড়া নির্বাচন কমিশনকে মনোনয়ন প্রার্থীদের আটটি বিষয়ে বাধ্যতামূলক তথ্য সরবরাহের ওপর হাই কোর্ট বিভাগের নিষেধাজ্ঞা থাকায় এখনই মনোনয়ন দুর্নীতি, নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার ও অন্যান্য নির্বাচনী দুর্নীতি রোধেও সংশ্লিষ্টদের কাছে সম্পত্তির হিসাব চাইতে পারছে না কমিশন৷
এদিকে নবগঠিত সরকারের ৫ দফা কর্মপরিকল্পনার মধ্যে দুর্নীতি দমনকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে৷ কিন্তু প্রয়োজনীয় বিধিমালা না থাকায় কমিশন এ বিষয়ে এখনই কোনো সুুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে পারছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে৷
কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি সুলতান হোসেন খান যায়যায়দিনকে জানান, কমিশনকে কার্যকর করার লক্ষ্যে শিগগিরই নবগঠিত সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করা হবে৷ এতে কমিশনের প্রধান সমস্যা বিধিমালা ও অপ্রতুল জনবলের বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে৷ তিনি বলেন, বিধিমালা না থাকায় কালো টাকার মালিকদের সম্পত্তির হিসাব কমিশন চাইতে পারছে না৷ নির্বাচনের আগে এসব বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনা কমিশনের ছিল৷ কিন্তু বিধিমালার অভাবে সব আটকে আছে৷ এটি ছাড়া কোনো পদক্ষেপ নিতে গেলেই রিট হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়৷ এরই মধ্যে অসংখ্য রিটের ভারে জর্জরিত কমিশন৷
তিনি জানান, আশা ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে কমিশনকে কার্যকর করার ব্যবস্থা নেয়া হবে৷ কিন্তু দুই মাস ধরে কমিশনের অনুসন্ধান, তদন্ত বিষয়ক বিধিমালাটি সরকারের কাছে পড়ে রয়েছে৷ এ বিষয়ে একাধিকবার প্রেসিডেন্টসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে তিনি কথা বলেছেন৷ তবে এবার নবগঠিত সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলবেন বলে তিনি জানান৷ তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টারা যেহেতু প্রচলিত ধারার রাজনীতি করেন না, তাই তারা কমিশনকে সক্রিয় করার ব্যবস্থা নেবেন৷ বিধিমালা ছাড়াও কমিশনের অপর্যাপ্ত জনবল এর অচলাবস্থার আরেকটি প্রধান কারণ বলে তিনি জানান৷ গত জুলাই মাসে পাওয়া অর্গানোগ্রামে সরকার কমিশনকে ৬৫০ জনের একটি জনবল কাঠামো দেয়৷ এ সংখ্যা কমিশনের বিশাল কাজের তুলনায় অপ্রতুল৷ তিনি বলেন, এ জনবলের ৯০ ভাগই ঢাকায় কর্মরত৷ মাঠ পর্যায়ে লোকবল নেই বললেই চলে৷
তিনি বলেন, কালো টাকার মালিকদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে না করে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দরকার৷ এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আহ্বান করেন৷
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত প্রায় দেড় শতাধিক মামলা করেছে কমিশন৷ এছাড়া ৮০টি মামলার চার্জশিট দেয়া হয়েছে৷
কমিশনের এক উপ-পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, কমিশনের তিন কমিশনারের কাজের মেয়াদ রয়েছে আর প্রায় দেড় বছর৷ এরই মধ্যে কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি সুলতান হোসেন খান, কমিশনার প্রফেসর মনিরুজ্জামান মিঞা এবং কমিশনার মনিরউদ্দিন আহমেদের কাজের মেয়াদ প্রায় আড়াই বছর পেরিয়ে গেছে৷ এ তিন কমিশনারের মধ্যে মতৈক্য না থাকায় কমিশন অনেকটা অকার্যকর হয়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=26132&issue=194&nav_id=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: