ভাবনার মোড় ঘুরছে আওয়ামী লীগের কর্মীরা বলছেন : চোর পালালে আমাদের বুদ্ধি বাড়ে

দেশের সার্বিক পরিস্থিতির ঝটিকা বদলের বিষয় নিয়ে আওয়ামী লীগের ভাবনার মোড় ঘুরেছে৷ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ এবং তার সরকারের অন্য উপদেষ্টাদের পদত্যাগের ঘটনাকে মহাজোট প্রাথমিকভাবে নিজেদের বিজয় মনে করলেও ঘটনার দ্বিতীয় ধাপে এসে তেমনটা আর ভাবছে না৷ আকষ্মিক ঘটনায় মহাজোট নেতাদের চোখেমুখে আনন্দের যে ঝিলিক উঠেছিল তাও এখন মিইয়ে গেছে৷ তিন দিন সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগার পর শেষ পর্যন্ত তারাও দাবি করেছে, সংবিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে৷ তবে এর মধ্যেই সেটা অসম্ভব হয়ে উঠেছে৷
গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন আচমকা এক ভাষণে দেশ জুড়ে ইমার্জেন্সি জারির ঘোষণা দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাড়ান৷ একই সঙ্গে তিনি অতি দ্রুত সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নতুন একজন প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্যান্য দফতরের জন্য উপদেষ্টা নিয়োগের ঘোষণা দেন৷ পরের দিন প্রেসিডেন্Uরে এই সিদ্ধান্তের সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বিএনপি৷ বিএনপি মহাসচিব মান্নান ভূঁইয়া বলেছিলেন, সাংবিধানিক শাসনের বিকল্প নেই৷ বিএনপি নেতারা ওই দিন সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত নতুন প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদের শপথ অনুষ্ঠানেও যাননি৷
এর বিপরীতে ভিন্ন দৃশ্য দেখা গেছে মহাজোট শিবিরে৷ প্রেসিডেন্Uরে সিদ্ধান্তে উল্লাস প্রকাশ করে পুরো ঘটনা প্রবাহকে নিজেদের বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেন মহাজোট নেতারা৷ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার তোফায়েল আহমেদের মন্তব্য ছিল, এখন সত্যিকার অর্থে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে৷ মহাজোটভুক্ত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ এবং এলডিপির নির্বাহী প্রেসিডেন্ট অলি আহমদও প্রেসিডেন্Uরে পদক্ষেপকে স্বাগত জানান৷ তিনি আরো বলেন, বিতর্কিত বিষয়গুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত দেশে জরুরি অবস্থা থাকতে হবে৷ মহাজোট শুক্রবারই তাদের আহূত হরতাল-অবরোধসহ সব আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়৷ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ওই দিন সন্ধ্যায় মহাজোটের শীর্ষ নেতারা দল বেধে ব্যাপক উত্সাহ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও যান৷
কিন্তু ঘটনার তিন দিনের মাথায় এসে আওয়ামী লীগসহ মহাজোটের অন্য দলগুলোও ভিন্ন রকম অঙ্ক করতে শুরু করেছেন৷ শনিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা দেশের চলমান রাজনীতি নিয়ে শেখ হাসিনার বাসভবন সুধা সদনে বৈঠকও করেন৷ বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা জানালেও সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত জানান, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন৷ এ বিষয়ে পরে মন্তব্য করা হবে৷ তবে ওই দিনই আওয়ামী লীগের অন্য একটি সূত্র জানায়, মূলত তখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এবং তাদের অনুসারী অন্যান্য দল করণীয় বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি৷
অবশেষে রবিবার সন্ধ্যার পর হঠাত্ করেই আওয়ামী লীগ প্রেস বৃফিংয়ের আয়োজন করে জানায়, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে৷ সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পুনর্গঠন, সুষ্ঠু ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং প্রশাসন নির্দলীয়করণের দাবিও জানায়৷ ওই দিন নির্ধারিত প্রেস বৃফিং শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা পর ধানমন্ডির ৩ নাম্বার রোডের আওয়ামী লীগ অফিস থেকে সাংবাদিকদের আবারো ডেকে পাঠানো হয় এবং বলা হয় বৃফিং অসম্পূর্ণ ছিল৷ বৃফিং সম্পূর্ণ করা হয় এই বলে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পুনর্গঠন করে সশস্ত্র বাহিনী যে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রখেছে তা জাতিকে একতরফা সংঘর্ষ ও সংঘাতপূর্ণ নির্বাচনের হাত থেকে রক্ষা করেছে৷
তবে পরিস্থিতির ঝটিকা বদল অনুধাবনে মহাজোটের ব্যর্থতায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তীব্র সমালোচনামুখর হয়ে উঠেছেন৷ তাদের কেউ কেউ বলছেন, আওয়ামী লীগ দেশে ইমার্জেন্সি জারি ও সাংবাধিক সঙ্কট সৃষ্টির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘুটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে৷ মাঝারি সারির ক্ষুব্ধ এক নেতার মন্তব্য- আমাদের পার্টি এলডিপির ফাদে পড়েছে৷
মহাজোটের চিন্তাধারায় সাম্প্রতিক রদবদল সম্পর্কে আওয়ামী লীগের আরেক কর্মীর মন্তব্য- এখন আর কোনো লাভ নেই৷ আমরা প্রমাণ করেছি, চোর পালালে আমাদের বুদ্ধি বাড়ে৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=26134&issue=194&nav_id=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: