অবশেষে পৃথক হচ্ছে বিচার বিভাগ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শেষ পর্যন্ত নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ আলাদা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা দেওয়ার সাত বছর পর বিচার বিভাগীয় চাকরি সংক্রান্ত চারটি বিধিমালা গতরাতে জারি করেছে সরকার। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ ও রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ বিধিমালাগুলো অনুমোদন করেন। আইন মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সূত্রটি বলছে, বিচার বিভাগ পৃথককরণের রায় বাসত্দবায়নের অগ্রগতি বিষয়ে আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি হবে।
গত ১০ জানুয়ারি আদালত প্রণীত চারটি বিধিমালা আগামী সাত দিনের মধ্যে জারি করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার আপিল বিভাগের বেঁধে দেওয়া সে সময়সীমা শেষ হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতেই বিচার বিভাগ পৃথককরণের জন্য আদালত সংশোধিত চারটি বিধিমালা জারি করা হয়েছে।
সরকার এর আগে আদালতের নির্দেশ অনুসরণ না করেই এ চারটি বিধিমালা জারি করেছিল। এবার সে চারটি বিধিমালা বাতিল করে আদালত যেভাবে সংশোধন করে দিয়েছিল সেভাবেই চারটি বিধি জারি করেছে। আইন মন্ত্রণালয় ২০০৪ সালের ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন বিধিমালা ২০০৪ জারি করেছিল। এই বিধিমালা বাতিল করে হুবহু আদালতের সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী জারি করা হয়েছে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন বিধিমালা ২০০৭।
২০০৬ সালের ২১ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন বিধিমালা ২০০৬ বাতিল করে জারি হয় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন বিধিমালা ২০০৭।
গত বছর ১২ জানুয়ারি সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের জারি করা বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন, প্রবেশ পদে নিয়োগ এবং সাময়িক বরখাসত্দকরণ, বরখাসত্দকরণ ও অপসারণ বিধিমালা ২০০৬ বাতিল করে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস গঠন, প্রবেশ পদে নিয়োগ এবং সাময়িক বরখাসত্দকরণ, বরখাসত্দকরণ ও অপসারণ বিধিমালা ২০০৭ নামে বিধিমালা জারি করা হয়।
গত বছর ১২ জুন সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের জারি করা বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুর, নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা বিধান ও চাকরির অন্যান্য শর্তাবলী বিধিমালা ২০০৬ বাতিল করে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি, ছুটি মঞ্জুর, নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা বিধান ও চাকরির অন্যান্য শর্তাবলী বিধিমালা ২০০৭ নামে বিধিমালা জারি করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা ফখর\”দ্দীন আহমদের সঙ্গে দেখা করেছেন।
২০০৩ সালের ২৬ জানুয়ারি আপিল বিভাগ জুডিশিয়াল সার্ভিস সংক্রানত্দ সরকার প্রণীত চারটি বিধিমালা বিচার বিভাগ পৃথককরণ সংক্রানত্দ মাযদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে সংশোধন করে দিয়েছিল।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথককরণের জন্য সরকারকে ১২ দফা নির্দেশনা দিয়েছিল। আদালত তখন সরকারকে রায় বাসত্দবায়নের সময়ও বেঁধে দেয়। কিন্তু বিভিন্ন সরকার আদালতের কাছ থেকে ২৬ বার সময় নিয়েও বিচার বিভাগ পৃথককরণের কাজ সম্পন্ন করেনি।

সূত্রঃ http://bhorerkagoj.net/online/news.php?id=35828&sys=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: