জাপানিজ নৌযান ক্রয়ে দুর্নীতি মামলা এরশাদের সাজা খাটা শেষ আর জেলে যেতে হবে না

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করে অবৈধ পন্থায় ক্ষমতা দখলকারী সাবেক স্বৈরাশাসক এরশাদ একটি দুর্নীতি মামলায় উচ্চ আদালতের রায়ে গতকাল বুধবার নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে জেল খাটা থেকে রেহাই পেয়ে গেছেন৷ আদালত বলেছেন, জাপানিজ নৌযান ক্রয় দুর্নীতি মামলায় জেলে যেতে হবে না সাবেক প্রেসিডেন্ট লে. জেনারেল (অব.) এইচ এম এরশাদকে৷ কারণ এই সাজা তিনি আগেই ভোগ করেছেন৷ গতকাল বুধবার ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আমিনুল ইসলাম এ মামলার রায় দেন৷ রায়ে বলা হয়, এ মামলায় এর আগে এইচ এম এরশাদের দুই বছরের সাজা খাটা শেষ হয়ে গেছে৷ তাই তাকে আর জেলে যেতে হবে না৷
আদালতের এ আদেশের বিরোধিতা করে ঢাকা জেলার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোঃ মহসীন মিয়া বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগ এরশাদকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে৷ কিন্তু নিম্ন আদালত এ রায় দিতে পারে না৷ বিচারিক আদালতকে আপিল বিভাগের আদেশ মানতে হবে৷
এদিকে গতকাল বুধবার এরশাদের পক্ষে হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপৃম কোর্টের আপিল বিভাগে লিভ টু আপিলের শুনানি হয়নি৷ নিম্ন আদালতের এ রায় আপিল বিভাগে দাখিল করার পর শুনানি হতে পারে বলে এক আইনজীবী জানিয়েছেন৷
গতকাল বুধবার সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন এইচ এম এরশাদ৷ সে সময় জাতীয় পার্টির বেশ কিছু নেতাকর্মীও ঘিরে থাকেন পুরো আদালত চত্বর৷
এরশাদের হয়ে বুধবার মামলা পরিচালনা করেন ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ৷ শুনানিতে তিনি বলেন, এরশাদ একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন৷ উজ্জ্বল তার রাজনৈতিক জীবন৷ তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি গোষ্ঠী নির্বাচনের আগে আকস্মিকভাবে মামলাটিকে শুনানির তালিকায় নিয়ে আসে৷ এছাড়াও ৭৬ বছর বয়সী অসুস্থ এ রাজনীতিবিদের জাপানিজ বোট মামলায় সাজা খাটার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে৷
এরশাদের অন্য এক আইনজীবী ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ রায়ের ফলে জাপানিজ নৌযান কেনা সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় এরশাদকে আর সাজাভোগ করতে হবে না৷ এছাড়া ১৯৯৮ ও ১৯৯৯ সালে ওই সাজা খাটা শেষ হওয়ার পাচ বছর পার হয়েছে বলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতেও তার কোনো বাধা নেই৷
উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ত্রাণ মন্ত্রণালয় কোনো আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান না করে ৫২০টি নৌযান ও ১০টি পানি পরিশোধন যন্ত্র ক্রয় করার ক্ষেত্রে তত্কালীন প্রেসিডেন্ট এরশাদ প্রভাব বিস্তার করে ৩৩ কোটি টাকা আত্মসাত্ করেন বলে অভিযোগ আনা হয়৷ ১৯৯১ সালের ২২ জুলাই তত্কালীন দুর্নীতি দমন বুরোর উপপরিচালক এ কে এম হোসেন রমনা থানায় এ বিষয়ে এক মামলা করেন৷ ১৯৯৫ সালের ৬ জুলাই ঢাকা বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত এরশাদকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে চার মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেয়৷
এরশাদ এ রায়ের বিরুদ্ধে ১৯৯৫ সালেই হাই কোর্টে আপিল করেন৷ বিভিন্ন সময়ে মামলাটি লিস্টে এলেও শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি৷ তিন দিন শুনানি শেষে গত ১৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার হাই কোর্টের বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়েজীর একক বেঞ্চ জাপানিজ বোট ক্রয় সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে এরশাদের আপিল খারিজ করে দেন৷ তবে নিম্ন আদালতের দেয়া তিন বছরের সাজা কমিয়ে দুই বছর করা হয়৷
১৮ ডিসেম্বর এরশাদের পক্ষে তার আইনজীবীরা হাই কোর্টের রায় স্থগিত রাখার জন্য সিএমপিসহ আপিল বিভাগের অবকাশকালীন বেঞ্চে আবেদন করেন৷ ১৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি জয়নুল আবেদীন জাপানিজ বোট ক্রয় দুর্নীতি মামলায় হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে এরশাদের পক্ষে আপিলের অনুমতির জন্য এফিডেভিট দাখিলের অনুমতি দেন৷
২৪ ডিসেম্বর রাষ্ট্রের আইনজীবীরা আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট সেকশনে চেম্বার জজের আদেশটি রিকল করার আবেদন করেন৷ ২৫ ডিসেম্বর এরশাদের পক্ষে রাষ্ট্রের আবেদনের বিরুদ্ধে জবাব দাখিল করা হয়৷ ২৬ ডিসেম্বর এ দুটি আবেদনের ওপর শুনানি হয়৷ শুনানি শেষে আপিল বিভাগ হাই কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী এরশাদকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়৷ একই সঙ্গে হাই কোর্টের রায় স্থগিত রাখার জন্য এরশাদের পক্ষে যে আবেদন করা হয়েছিল তা খারিজ করে দেয়া হয়৷
দেশের সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগে এরশাদের আবেদন খারিজ হওয়ায় আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, এরশাদ আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না৷ নির্বাচনে অংশ নেয়ার বদলে তাকে যেতে হচ্ছে জেলে৷ পরবর্তিতে সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন বাছাইয়ের দিনে দেশের বিভিন্ন আসন থেকে প্রার্থী এরশাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা৷
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ জেল থেকে জামিন পাওয়ায় আজ বৃহস্পতিবার বাদ আসর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে৷ এছাড়া দেশের সব জেলা ও থানায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করার জন্য পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন৷ গতকাল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=26361&issue=196&nav_id=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: