প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে তার যেসব পর্যবেক্ষণের কথা বলেছিলেন সে বিষয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজনীতিকরা৷

ফ্রেঞ্চ নিউজ এজেন্সি এএফপিকে গত মঙ্গলবার দেয়া এক সাক্ষাত্কারে নোবেল লরিয়েট প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে তার যেসব পর্যবেক্ষণের কথা বলেছিলেন সে বিষয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজনীতিকরা৷ দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে প্রফেসর ইউনূসের ওই সাক্ষাত্কার সম্পর্কে তাদের প্রতিক্রিয়া৷ আরেকটি বড় দল জামায়াতে ইসলামীও প্রফেসর ইউনূসের বক্তব্যে নাখোশ৷
প্রফেসর ইউনূস সাক্ষাত্কারে এএফপিকে বলেছিলেন, সঙ্কটে নিমজ্জিত বাংলাদেশের রাজনীতিকরা শুধু টাকার জন্য রাজনীতি করেন৷ তিনি বলেন, গত কয়েক মাসের অস্থিতিশীলতা ও অবরোধে দেশ প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল৷ এসব কারণে দেশে জরুরি অবস্থা জারি এবং ভোট বাতিল করা হয়৷ এতে অধিকাংশ মানুষ খুশি হয়েছে৷ প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি বলেন, তাদের লড়াই ক্ষমতার জন্য৷ ক্ষমতায় থাকলে অর্থ বানানো যায়৷ এখানে কোনো আদর্শিক বিষয় নেই৷ লুণ্ঠিত মালামালের বড় অংশের মালিক কে হবে সেটাই হচ্ছে মূল বিষয়৷ ড. ইউনূস বলেন, ঘুষ না দিলে এ দেশে কোনো কিছুই পাওয়া যায় না৷ এটা জীবনের অংশ হয়ে পড়েছে৷ এটা কোনো আইন বা নীতিমালার মধ্যে পড়ে না৷ আপনি কিভাবে ঘুষ দেবেন সেটাই বড় কথা৷

তার মতো মানুষের কাছে ঢালাও মন্তব্য প্রত্যাশিত নয় : মান্নান ভূঁইয়া

রাজনীতিবিদদের সম্পর্কে নোবেল লরিয়েট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া বলেছেন, তার মতো বিচক্ষণ মানুষের কাছে এমন ঢালাও মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়৷
গত মঙ্গলবার ঢাকায় নিজের অফিসে বসে একটি বিদেশি নিউজ এজেন্সিকে দেয়া সাক্ষাত্কারে ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিকরা টাকার জন্যই রাজনীতি করেন৷ এখানে আদর্শের কোনো ব্যাপার নেই৷ গত কয়েক মাসের অবরোধ ও অস্থিতিশীলতায় দেশ প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে৷ এ কারণে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করায় অধিকাংশ মানুষ খুশি হয়েছে৷ জরুরি অবস্থা জারি করা না হলে আবার হয়তো একের পর এক অবরোধ কর্মসূচি আসতো৷ ছড়িয়ে পড়তো সহিংসতা৷ বড় দুই দলের বিবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্ষমতার জন্যই এ লড়াই৷ ক্ষমতায় থাকলে অর্থ বানানো যায়৷ এখানে আদর্শিক কোনো বিষয় নেই৷ লুণ্ঠিত মালামালের বড় অংশের মালিক কে হবে সেটাই হচ্ছে মূল বিষয়৷
ড. ইউনূসের এসব মন্তব্যের ব্যাপারে গতকাল আরো কয়েকটি রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি বিএনপিও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে৷ দলটির যুগ্ম মহাসচিব নজরুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিএনপি মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের সম্পর্কে ড. ইউনূস ঢালাওভাবে যে মন্তব্য করেছেন তা শুধু অগ্রহণযোগ্যই নয়, দুঃখজনকও বটে৷
মান্নান ভূঁইয়া বলেন, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের মধ্যেই ভালো-মন্দ মানুষের সমাবেশ ঘটে থাকলেও কোনো একটি বিশেষ কাজে নিযুক্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে ঢালাওভাবে এমন মন্তব্য ড. ইউনূসের মতো বিচক্ষণ মানুষের কাছে প্রত্যাশিত নয়৷
তিনি বলেন, যে দেশে লক্ষ-কোটি মানুষ স্বাধীনতার জন্য লড়াই করে, অকাতরে জীবন দিয়ে জেল-জুলুম নিপীড়ন সহ্য করে রাজনীতির ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে এবং বিশ্ববাসীর শ্রদ্ধা অর্জন করেছে- সে দেশের ‘রাজনীতিবিদরা শুধুই অর্থের জন্য রাজনীতি করেন, এখানে আদর্শের কোনো স্থান নেই’- এমন অভিযোগের কোনো সামগ্রিক সত্যতা নেই৷
বিএনপি মহাসচিব বলেন, রাজনীতি একটি মহত্ পেশা৷ জনগণ ও সমাজের সেবা করার সর্বোচ্চ মাধ্যম৷ কিছু মন্দ ব্যক্তির তত্পরতা অন্যান্য পেশার মতো এ পেশাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে৷ কিন্তু তাই বলে রাজনীতি ও রাজনীতিবিদরা আদর্শহীন হয়ে গেছেন- এমন মন্তব্য সঠিক হতে পারে না৷

আমরা কি তাকে সুদখোর মহাজন বলবো : জলিলের প্রশ্ন

নোবেল লরিয়েট একমাত্র বাংলাদেশি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের একটি বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে আওয়ামী লীগ৷ দলটির জেনারেল সেক্রেটারি আবদুল জলিল ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, ঢালাওভাবে রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করলে তাদের প্রতি চরম অবিচার করা হবে৷ সামগ্রিক রাজনীতির বিরুদ্ধে তার যুদ্ধংদেহী অবস্থান আমাদের চিন্তিত করে তুলেছে৷ ড. ইউনূসের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, সুস্পষ্টভাবে বলুন কারা দুর্নীতিবাজ৷ কে কোন মাত্রায় দুর্নীতি করেছে তা গবেষণার মাধ্যমে জাতির সামনে প্রকাশ করুন৷
ড. ইউনূস মঙ্গলবার বিদেশি বার্তা সংস্থা এএফপির সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের ব্যাপারে বেশ কিছু মন্তব্য করেন৷ ড. ইউনূসের ওই বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল গতকাল শুক্রবার বিকালে পার্টির ধানমন্ডি অফিসে এক প্রেস কনফারেন্সের আয়োজন করেন৷ তিনি বলেন, নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ইউনূসের বক্তব্য তার নিজের অবস্থানকেই বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে৷ জলিল প্রশ্ন রেখে বলেন, কয়েকজন রাজনীতিবিদের অসততার জন্য যদি সব রাজনীতিবিদকেই খারাপ মনে হয়, তবে কি একজন উন্নয়ন কর্মীর দুর্নীতি বা অসততার জন্য সব উন্নয়ন কর্মীকেই আমরা অসত্ বলে ধরে নেবো?
তিনি বলেন, পত্রিকার পাতায় যখন গ্রামীণ ব্যাংকের ৩৬ শতাংশ সার্ভিস চার্জ আদায়ের খবর দেখি, যাকে সাধারণ মানুষ সুদ বলে থাকে, সে সার্ভিস চার্জ শোধ করতে না পেরে যখন কোনো মহিলা আত্মহত্যা করে, তখন আমরা কি নোবেল বিজয়ী ইউনূস সাহেবকে সুদখোর মহাজন হিসেবে চিহ্নিত করে ওই মহিলার আত্মহত্যার জন্য তাকেই দায়ী করবো?
বাংলাদেশে ঘুষ না দিলে কোনো কাজ হয় না বলে ড. ইউনূস যে মন্তব্য করেছেন সে উদ্ধৃতি টেনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ড. ইউনূস কি তাহলে ঘুষের বিনিময়ে গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনার অনুমতি পেয়েছিলেন?
আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল জলিল বলেন, অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশেও রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন ও গডফাদারের দৌরাত্ম্য আছে৷ ক্ষমতার অপব্যবহার করে জনগণের সম্পদ আত্মসাতের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ার নজির আছে৷ তারপরও পৃথিবীতে জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠনের জন্য এখনো পর্যন্ত গণতন্ত্রের চেয়ে ভালো কোনো পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়নি৷ গণতন্ত্রকে টেকসই ও স্থিতিশীল করার জন্য প্রয়োজন রাজনীতিতে সত্, দেশপ্রেমিক ও উন্নয়নমুখী ধারাকে সমর্থন ও উত্সহিত করা৷ ড. ইউনূসও দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে সুস্থ রাজনীতির ধারাকে ভবিষ্যতে উত্সাহিত করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন জলিল৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=26586&issue=198&nav_id=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: