ডিএসইতে প্রতিদিনই নতুন রেকর্ড : ১১৯ কোটি টাকার লেনদেন দুর্বল কম্পানির শেয়ারের দাম শঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে

দেশের শেয়ার বাজারে লেনদেন বৃদ্ধিতে একের পর এক রেকর্ড হলেও শঙ্কাজনকভাবে দুর্বল কম্পানি বা জেড ক্যাটেগরির শেয়ারের দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ গতকাল দেশের প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এ যাবতকালের সর্বাধিক ১১৯ কোটি টাকার লেনদেন হলেও আশঙ্কাজনক-ভাবে অধিকাংশ জেড গ্রুপের কম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে৷ গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া জেড ক্যাটাগরির ৭১ কম্পানির মধ্যে ৪১টিরই দাম বেড়ে যায়৷ সার্বিকভাবে গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ২১০ কম্পানির মধ্যে ১১৬টির দাম বাড়ে এবং কমে ৭৬ কম্পানির শেয়ারের দাম৷ চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও এ দিন বেশির ভাগ দুর্বল কম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ে৷
এদিকে জেড ক্যাটেগরির শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধিকে শেয়ার বাজার সংশ্লিষ্টরা ‘শঙ্কাজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন৷ এ বিষয়ে শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যায়যায়দিনকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ার বাজারে সৃষ্ট চাঙ্গাভাবের সুযোগে জেড ক্যাটেগরির শেয়ারের লেনদেন ও মূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ অনেক সাধারণ বিনিয়োগকারীও হুজুগে এসব দুর্বল কম্পানির শেয়ার কিনছেন৷ তিনি জানান, গতকালের লেনদেনে বেশ কিছু জেড ক্যাটেগরির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ায় এসইসির পক্ষ থেকে ব্রোকার হাউসকে সতর্ক করে দেয়া হয়৷ বিষয়টি ডিএসই কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে৷ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের আরো সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেন এসইসির সার্ভিলেন্স বিভাগের এ কর্মকর্তা৷
গতকালের বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, মূল্য বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় ছিল বেশ কয়েকটি দুর্বল কম্পানি৷ এগুলোর মধ্যে রয়েছে ফাইন ফুড, জিল বাংলা, মিরাকল ইন্ডাস্টৃ এবং ফার্মাকোর মতো চিহ্নিত দুর্বল কম্পানি৷ শেয়ার বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব কম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই৷ কেননা এসব কম্পানির কাছ থেকে সহসাই বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই৷ শেয়ার বাজারের নিয়মকানুন এরা পালন করে না৷
তবে জেড গ্রুপের শেয়ারের কিছুটা মূল্য বৃদ্ধি পেলেও এখন পর্যন্ত বাজার পরিস্থিতকে স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন ডিএসইর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালাউদ্দিন আহমেদ খান৷ তার মতে, সূচকে কোনো অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি হয়নি৷ এটিই বর্তমান বাজারের সুস্থতার সবচেয়ে বড় লক্ষণ৷ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ থাকায় লেনদেন বাড়ছে৷ জেড গ্রুপের শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সবার সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন৷
এদিকে জেড ক্যাটেগরির শেয়ারের দাম বাড়লেও আকর্ষণীয় শেয়ারের সূচক হিসেবে পরিচিত ডিএসইর-২০ সূচক এ দিন আগের দিনের চেয়ে কমে যায়৷ অন্যান্য সূচকে খুব একটা পরিবর্তন হয়নি৷ ডিএসই সাধারণ সূচক ও সার্বিক সূচক ৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়৷
এদিকে গতকাল ডিএসইতে লেনদেন শীর্ষে ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পিজিসিবির শেয়ার৷ এ দিন শুধু পিজিসিবির শেয়ার লেনদেন হয় ১৫ কোটি টাকার৷ সূচকে খুব বেশি পরিবর্তন না হওয়া সত্ত্বেও রেকর্ড লেনদেন হওয়ার প্রসঙ্গে ডিএসইর এক শীর্ষস্থানীয় ব্রোকার বলেন, অনেক বিনিয়োগকারী লাভ তুলে নেয়ার জন্য শেয়ার বিক্রি করেছে৷ আবার অনেক বিনিয়োগকারী ভবিষ্যত্ লাভের আশায় শেয়ার ক্রয় করে রেখেছে৷ ফলে গতকাল শেয়ার বাজারে ক্রয়-বিক্রয়ে ভারসাম্য বজায় ছিল৷ ফলে লেনদেন বাড়লেও সূচক খুব একটা বাড়েনি৷
গতকাল ডিএসই ও সিএসই দুই বাজারেই ব্যাংক, বিদ্যুত্ ও মিউচুয়াল ফান্ড শেয়ারের লেনদেনে প্রাধান্য ছিল৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=26948&issue=201&nav_id=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: