সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যায় রেকর্ড ভেঙেছে বিএসএফ এক বছরে নিহত ১৬০ অপহৃত ১৪৪ কিডন্যাপ ১৬৫

সীমান্ত এলাকায় ইনডিয়ার বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স ও সে দেশের সন্ত্রাসীদের হাতে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিহত হওয়ার ঘটনা সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে৷ বাংলাদেশ সরকারের সব প্রতিবাদ ও মানবাধিকারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিএসএফের এ মারমুখী আচরণ দিন দিন বেড়েই চলেছে৷ প্রচলিত সব আন্তর্জাতিক রীতি অমান্য করে নির্বিচার হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে ইনডিয়ার সীমান্তরক্ষী বাহিনী৷ সীমান্তের জিরো লাইনে তো বটেই, এমনকি সীমান্তের কাছাকাছি বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও পা রাখলেই দেখামাত্র গুলি করছে বিএসএফ৷ কোনো কোনো সময় এরা ইনডিয়ার সন্ত্রাসীদেরও লেলিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশিদের হত্যা ও অপহরণের জন্য৷ এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে কৃষককে পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে তার গা খুচিয়েছে বিএসএফ জওয়ানরা বেয়নেট দিয়ে৷ অবুঝ শিশুরাও এ থেকে বাদ পড়ছে না৷ হাজারো প্রতিবাদ, চিঠি চালাচালিতেও কোনো কাজ হচ্ছে না৷ নির্বিকার বিএসএফ যেন পেয়েছে বাংলাদেশি হত্যার অবাধ লাইসেন্স৷
বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআর ও মানবাধিকার সংস্থা সূত্রে পাওয়া তথ্য মতে, ২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত বিএসএফ ও ইনডিয়ার সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয়েছে ১৬০ বাংলাদেশি৷ আহত হয়েছে ১৪৪ জন৷ এছাড়া ইনডিয়ান কর্তৃপক্ষের হাতে গ্রেফতার হয়েছে ২১ জন৷ ১৬৫ জনকে কিডন্যাপ করা হয়েছে৷ নিখোজ তালিকায় রয়েছে আরো ৩২ জনের নাম৷ ধর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে দুটি৷ লুটের ঘটনা নয়টি৷ এসবের মধ্যে চলতি বছর জানুয়ারির ২০ তারিখ পর্যন্ত বিএসএফের হাতে মারা গেছেন ১৩ বাংলাদেশি৷ কোনো একক মাসে এটাই সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক এযাবত্কালের সর্বোচ্চ হত্যাকাণ্ড৷ অন্যদিকে ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিএসএফসহ ইনডিয়ার ঘাতকদের হাতে নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা ৪৬১তে এসে দাড়িয়েছে৷ এ হিসাবে ২০০৭ সালের ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত সাত বছরে নিহত হয়েছেন ৬২১ বাংলাদেশি৷
অবশ্য বিএসএফ ও মানবাধিকার সংস্থার দেয়া তথ্যের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে৷ বিডিআর সূত্র অনুযায়ী, ২০০৬ সালে বিএসএফ কর্তৃক হত্যার ঘটনা ঘটেছে ৮৭টি৷ অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের হিসাব অনুযায়ী এ সংখ্যা ১৪৭৷ বিডিআর শুধু বিএসএফের হাতে নিহতের সংখ্যা তালিকাভুক্ত করেছে৷ সে ক্ষেত্রে মানবাধিকার সংস্থা অধিকার বিএসএফের পাশাপাশি ইনডিয়ার সন্ত্রাসীদের হাতে নিহতের ঘটনাকেও তাদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে৷
বাংলাদেশ রাইফেলস সূত্র মতে, গত বছর জানুয়ারিতে বিএসএফের হাতে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন ছয়জন৷ ফেব্রুয়ারিতে আটজন৷ মার্চে মারা গেছেন দু’জন৷ ১০ জন নিহত হয়েছেন এপৃল মাসে৷ মে মাসে হত্যার ঘটনা ঘটেছে ১১টি৷ ছয় বাংলাদেশি মারা গেছেন জুন মাসে৷ জুলাই মাসেও নিহত হয়েছেন ছয়জন৷ সাতজন মারা গেছেন আগস্টে৷ সেপ্টেম্বরে বিএসএফ গুলি করে মেরেছে ১০ জনকে৷ অক্টোবরে নিহত হয়েছেন ছয়জন৷ নভেম্বরে আটজন৷ সাতজন মারা গেছেন ডিসেম্বরে৷
এদিকে এযাবত্কালের সর্বোচ্চ সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন চলতি বছর জানুয়ারি মাসে৷ গত ২০ জানুয়ারির মধ্যেই সীমান্তে বিএসএফ হত্যা করেছে ১৩ বাংলাদেশিকে৷ বাংলাদেশ যখন চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল ঠিক তখনই গত ৮ জানুয়ারি বেনাপোল সীমান্তে বিএসএফ গুলি করে হত্যা করে মোশাররফ হোসেন ও ইসমাইলকে৷ দুই সহোদর নিত্যানন্দ দাস ও রতন দাস নিহত হন ১১ জানুয়ারি সাতক্ষীরা সীমান্তে৷ একই দিন জয়পুরহাট সীমান্তে হত্যা করা হয় মেহেদী হাসানকে৷ ১২ জানুয়ারি পঞ্চগড় সীমান্তে গুলি করে হত্যা করা হয় মোশারফ আলীকে৷ ওই দিন সাতক্ষীরা সীমান্তে নিহত হন অন্য এক অজ্ঞাত পরিচয় বাংলাদেশি৷ ঝিনাইদহ সীমান্তে ১৩ জানুয়ারি নিহত হন আমিন মণ্ডল, নওগা সীমান্তে তরিকুল ইসলাম ও পঞ্চগড় সীমান্তে ইয়াকুব নামের ১০ বছরের এক অবুঝ শিশু৷ ১৫ জানুয়ারি দিনাজপুর সীমান্তে নিহত হন শহিদুল৷ ঠাকুরগাও সীমান্তে আনোয়ারুল হককে হত্যা করা হয় ১৮ জানুয়ারি৷ ২০ জানুয়ারি চাপাই নবাবগঞ্জের পোল্লাডাঙ্গা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন রুবেল নামে এক যুবক৷
বিএসএফের এই হায়েনাসুলভ আচরণ নিয়ে বরাবরই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে স্থানীয় রাইফেলস ব্যাটালিয়নের মাধ্যমে৷ কূটনৈতিক পর্যায়েও ইনডিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বহুবার যোগাযোগ করা হয়েছে৷ এছাড়া বিডিআর-বিএসএফ মহাপরিচালক, উপমহাপরিচালক ও আইজি পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেও এ জাতীয় অমানবিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিডিআর৷ গত বছর ইনডিয়ার শিলংয়ে ২৮ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত আয়োজিত বিডিআরের ডিডিজি ও বিএসএফের আইজি পর্যায়ের বর্ডার কনফারেন্সে বাংলাদেশ পক্ষ থেকে ইনডিয়ার সীমান্ত বাহিনী কর্তৃক নির্বিচারে বাংলাদেশি হত্যার প্রতিবাদ জানানো হয়৷ এর পরবর্তী মাসেও ১৮ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কলকাতায় অনুষ্ঠিত ডিডিজি ও আইজি পর্যায়ের বৈঠকে বিডিআর বিএসএফকে সংযত আচরণের আহ্বান জানায়৷ দুটি কনফারেন্সেই বিএসএফ কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা ‘নিতান্তই’ চোরাচালানি ও সন্ত্রাসীদের গুলি করে মেরেছে; কোনো নিরীহ বাংলাদেশিকে হত্যা করেনি৷ কিন্তু পৃথিবীর কোনো আইনেই যে অপরাধীদেরও বিনা বিচারে হত্যার বিধান নেই সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ইনডিয়ার সীমান্তরক্ষী বাহিনী কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=26954&issue=201&nav_id=1

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: