কালো টাকার মালিকরা তাদের তালিকা না করতে সরকারকে চাপ দিচ্ছে

কর দিয়ে সাদা করা কালো টাকার মালিকরা তাদের নামের তালিকা তৈরি না করতে কর বিভাগকে চাপ দিচ্ছে৷ তাদের নামের তালিকা মিডিয়ার হাতে পড়লে সামাজিকভাবে মর্যাদাহানির আশঙ্কায় কালো টাকার মালিকদের কেউ কেউ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে, কেউবা মৌখিকভাবে তালিকা না করতে চাপ দিয়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়৷
কেয়ারটেকার সরকার গত সপ্তাহে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে সাড়ে সাত শতাংশ কর দিয়ে যেসব কালো টাকার মালিক তাদের কালো টাকা সাদা করেছেন তাদের তালিকা অবিলম্বে সরকারকে দিতে এনবিআরকে নির্দেশ দেয়৷ ধারণা করা হয়, নির্বাচনকে কালো টাকার প্রভাবমুক্ত রাখার একটি সম্ভাব্য উপায় হিসেবে এ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার৷ খবর পেয়েই কর দিয়ে সাদা করা কালো টাকার মালিকরা তাদের নামের তালিকা তৈরি বন্ধের জন্য তত্পরতা শুরু করে৷ তাদের কেউ মৌখিকভাবে, কেউবা লিখিত আকারে তালিকা না করতে এনবিআরকে চাপ দিতে থাকে৷ তারা মনে করছে, এনবিআর কর্তৃপক্ষ তাদের অর্থের উত্স সম্পর্কে কখনো কোনো প্রশ্ন করবে না এবং তাদের নাম কখনো প্রকাশ করবে না মর্মে তাদেরকে অঙ্গীকার করেছিল৷
এখন নামের তালিকা করে সরকারের বিভিন্ন মহলে পাঠালে তা মিডিয়ার হস্তগত হতে পারে এবং এর ফলে তাদের সামাজিক খ্যাতি ও মর্যাদাহানি হতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা৷ এনবিআর তা করলে এটা অনৈতিক হবে এবং এটা আইনের পরিপন্থী হবে৷ এসব আশঙ্কার কথা জানিয়ে অন্য অনেকের মতো খায়রুল বাশার নামে ধানমন্ডির এক ব্যক্তি গত ২০ জানুয়ারি এনবিআর চেয়ারম্যানকে একটি চিঠি দিয়েছেন৷ চিঠির কপি সংশ্লিষ্টদেরও সরবরাহ করা হয়৷ চিঠিতে তিনি তালিকা তৈরি না করার কথা জানিয়ে উল্লেখ করেন, অর্থ বিল অনুযায়ী কালো টাকার মালিকদের কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া হয়েছে৷ এ ধরনের কোনো তথ্য প্রকাশ করার কথা নয়৷ আর তা করা হলে ওই মানুষগুলো চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হবে৷ তাই সামাজিক বিচারের স্বার্থে আপনার দেয়া অঙ্গীকার রক্ষা করুন এবং তালিকা তৈরির বিষয়টি বিবেচনা করুন৷
তিনি আরো উল্লেখ করেন, আপনি যদি এ তালিকা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে তুলে দেন তবে মিডিয়া যে কোনোভাবেই হোক এ তালিকা পেয়ে যাবে এবং তারা এ দেশের কিছু ভালো মানুষকে হেয়প্রতিপন্ন করবে, যা কোনোভাবেই নৈতিকতার মধ্যে পড়ে না৷ পরিশেষে তিনি উল্লেখ করেন, আমি বিশ্বাস করি বিষয়টি আপনি সর্বোচ্চ বিবেচনায় রাখবেন৷ যেহেতু বিষয়টি সরকারের অঙ্গীকারের বিষয়, তাই একে ধ্বংস করা উচিত হবে না৷
এসব তালিকা নিয়ে সরকার কি করবে- তার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ না জানা গেলেও ধারণা করা হয় যে, তাদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা বা তাদের বাইরেও কতো সংখ্যক ব্যক্তি কালো টাকার মালিক থাকতে পারে এর একটি পর্যালোচনা করা হতে পারে৷ সরকারি নির্দেশ পেয়ে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) সব কর অঞ্চল থেকে সাদা করা কালো টাকার মালিকদের তালিকা পাঠাতে নির্দেশ দেয়৷ এ সময় কালো টাকার মালিকদের নাম, তাদের টিন (ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফকেশন) নাম্বার, ঘোষিত কালো টাকার পরিমাণ এবং এর বিপরীতে দেয় করের পরিমাণ জানাতে বলা হয়৷ বিভিন্ন কর অঞ্চল গত রবিবারের মধ্যেই সিআইসিকে নামের তালিকা সরবরাহ করেছে বলে সূত্র জানিয়েছে৷
উল্লেখ্য, গত অর্থবছরে ৭,২৪৬ জন কালো টাকার মালিক তাদের টাকা সাদা করেছেন৷ মোট ৪ হাজার ৬০৩ কোটি কালো টাকা সাদা করা হয়৷ এর মধ্যে সরকার কর পায় ৩৪৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা৷ কালো টাকার মালিকদের ৫,১৫১ জন শুধু ঢাকায়ই বসবাস করেন৷ ১,৪১৬ জন বাস করেন চট্টগ্রামে আর বাকি মাত্র ৬৭৯ জন বাস করেন সারা দেশের অন্যান্য জেলায়৷ যারা কালো টাকা সাদা করেছেন তাদের তালিকার শীর্ষে রয়েছে সরকারি আমলা, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, ডাক্তার, প্রকৌশলী ও অভিনেতা-অভিনেত্রী৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=27053&issue=202&nav_id=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: