দীর্ঘ হতে পারে চলতি শাসন পাল্টে যেতে পারে সরকারের ধরন , বাড়তে পারে ক্যাবিনেটের সদস্য

দীর্ঘায়িত হতে পারে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন কেয়ারটেকার সরকারের শাসনকাল৷ সে ক্ষেত্রে সরকারের ধরন পরিবর্তন হতে পারে এবং ক্যাবিনেটের সদস্য সংখ্যা আরো বাড়তে পারে৷ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এমন আভাস দিয়েছে৷
চিফ অ্যাডভাইজর ড. ফখরুদ্দীন আহমদ গত রবিবার জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বললেও ঠিক কবে নাগাদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট করে কিছুই বলেননি৷ এ পটভূমিতে গত সোমবার তার সরকারের একাধিক অ্যাডভাইজর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে বলেছেন, নির্বাচন ব্যবস্থা ও প্রশাসনে প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধনের পরই নির্বাচনের আয়োজন করা হবে৷ এসব সংস্কারের জন্য কতোটা সময় নেবে সরকার, সে সম্পর্কে কিছু বলেননি এসব অ্যাডভাইজর৷
১৯৯১ সালে জাস্টিস সাহাবুদ্দীন আহমদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং পরে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের কেয়ারটেকার সরকার যেভাবে শুধু প্রশাসনের রুটিন কাজগুলো সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে নিজেদের মেয়াদ কাটিয়েছে, ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার যে সেই বিধিবদ্ধ গণ্ডির মধ্যে থাকছে না, তা এরই মধ্যে স্পষ্ট হয়ে গেছে৷ অবশ্য আগের কেয়ারটেকার সরকারগুলোর ক্ষমতা গ্রহণের প্রেক্ষাপট আর ড. ফখরুদ্দীন আহমদের দায়িত্ব নেয়ার পটভূমিও এক ছিল না৷
নবম পার্লামেন্ট নির্বাচনের দিনক্ষণ সামনে রেখে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট রাজপথে লাগাতার সহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে জনজীবনকে দিনের পর দিন জিম্মি করে রাখলেও প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের কেয়ারটেকার সরকার অচলাবস্থা নিরসনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি৷ ওই পরিস্থিততে গত ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি অবস্থা জারি এবং পরদিন ১২ জানুয়ারি চিফ অ্যাডভাইজর হিসেবে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের দায়িত্ব গ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছে সাধারণ মানুষ৷ পরিস্থিতির কারণেই তখন ক্ষমতার পালাবদলের সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্নটি গৌণ হয়ে যায়৷ সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা নেই তার সামনে৷ নেই মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার কোনো তাড়াহুড়াও৷
এ পরিস্থিততে ড. ফখরুদ্দীনের সরকার দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমন, গডফাদার নির্মূল, নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পুরোপুরি আলাদা করা, নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন, প্রত্যেক ভোটারকে আইডি কার্ড দেয়া, নির্বাচনে স্বচ্ছ ব্যালট বক্স প্রবর্তন, নির্বাচনকে কালো টাকার প্রভাবমুক্ত করা ও বিদ্যুত্ সমস্যা সমাধানের মতো সময়সাপেক্ষ এমন কিছু জনগুরুত্বসম্পন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে, যা তিন মাসে তো নয়ই, এমনকি ছয় মাস বা এক বছরেও বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা৷ এমনকি গত সপ্তাহে নিয়োগ পাওয়া অ্যাডভাইজরদের কথাবার্তায়ও অনির্বাচিত সরকারের শাসনকাল দীর্ঘ হওয়ার পরিষ্কার ইঙ্গিত পাওয়া যায়৷
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অ্যাডভাইজর সি এস করিম গত সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে বলেছেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী নির্বাচন পেতে হলে জনগণকে অবশ্যই ধৈর্য ধরতে হবে৷ বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন করা৷ এ জন্য ভোটার তালিকা, ভোটার পরিচয়পত্র এবং স্বচ্ছ ব্যালট বক্সসহ জনগণের বেশ কিছু দাবি পূরণ করতে পর্যাপ্ত সময়ের প্রয়োজন৷ তিনি বলেন, কিছু লোক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত৷ তবে পুরো দেশকে এখনো দুর্নীতি গ্রাস করেনি৷ এখনো দুর্নীতি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢোকেনি৷ দুর্নীতি দমনে গডফাদার ও গ্র্যান্ড গডফাদারদের চিহ্নিত করতে পারলেই ব্যবস্থা নেয়া যাবে৷
একই দিন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অ্যাডভাইজর মেজর জেনারেল (অব.) এ এস এম মতিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেছেন, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রশাসনে প্রয়োজনীয় সব রকম সংস্কারই করা হবে৷ প্রশাসন ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই সচিব পর্যায়ে ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে৷ পর্যায়ক্রমে মাঠ পর্যায়েও প্রশাসন ঢেলে সাজানো হবে৷ একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে কতোদিন সময় লাগতে পারে- এমন প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি এ অ্যাডভাইজর৷ তিনি বলেন, চিফ অ্যাডভাইজরের ভাষণে আমাদের কাজের সার্বিক দিকনির্দেশনা রয়েছে, সে অনুযায়ীই সব কার্যক্রম পারিচালিত হবে৷
এদিকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, কেয়ারটেকার সরকারের মেয়াদ সম্পর্কে সংবিধানে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলা না থাকলেও পরোক্ষভাবে মেয়াদ নির্দিষ্ট হয়েই আছে৷ কারণ সংবিধান অনুযায়ী পূর্ববর্তী নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা ছাড়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে অবশ্যই সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সেই নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিদায় নেবে কেয়ারটেকার সরকার; কিন্তু বিদ্যমান ক্ষেত্রে তেমনটি হওয়ার সুযোগ এখন আর রইলো না৷ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সংবিধানে নির্ধারিত ৯০ দিন সময়সীমা অতিবাহিত হতে আর মাত্র দুই-তিনদিন বাকি৷ এ সময়টুকু অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বর্তমান কেয়ারটেকার সরকারের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে আবারো প্রশ্ন দেখা দেবে৷ তেমন পরিস্থিততে অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন এবং দীর্ঘ মেয়াদি কাজের সুবিধার্থে ক্যাবিনেটের সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে বলে সূত্রের অভিমত৷
এসব বিষয়ে ২০০১ সালের কেয়ারটেকার সরকারের অন্যতম অ্যাডভাইজর মেজর জেনারেল (অব.) মইনুল হোসেন চৌধুরীর অভিমত জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে একটা সন্দেহ তো রয়েই গেছে৷ বিষয়টি আইনগত এবং সাংবিধানিক ব্যাখ্যার ব্যাপার৷ সুতরাং এ সম্পর্কে আইনজ্ঞ তথা সংবিধান বিশেষজ্ঞরাই ভালো বলতে পারবেন৷ তবে বর্তমান চিফ অ্যাডভাইজর ও অন্য অ্যাডভাইজরদের শপথ গ্রহণের সময় প্রেসিডেন্ট এটাকে কেয়ারটেকার সরকার হিসেবেই উল্লেখ করেছিলেন৷ আর সংবিধান অনুযায়ী কেয়ারটেকার সরকারের সদস্য সংখ্যা চিফ অ্যাডভাইজরসহ ১১ জনের বেশি হওয়ার সুযোগ নেই৷
এক প্রশ্নের জবাবে জেনারেল মইন বলেন, এ সরকার যদি দীর্ঘ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করে এবং সে ক্ষেত্রে অ্যাডভাইজরের সংখ্যা বাড়াতে হলে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন পড়বে৷ তবে সরকারের ধরন পাল্টে গেলে ক্যাবিনেটের সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো আইনগত বা সাংবিধানিক বাধা থাকবে না৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=27047&issue=202&nav_id=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: