রাজধানীতে পথশিশুর সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ এদের শীত নিবারণে নেই কোনো উদ্যোগ

শীতে বস্ত্রহীন রাত কাটাচ্ছে রাজধানীর লক্ষাধিক পথশিশু৷ ফুটপাথবাসী এসব পথশিশুর বেশির ভাগই গরম কাপড় হিসেবে সরকারি ত্রাণ সাহায্য পায়নি৷ প্রয়োজনের তুলনায় সরকারি সাহায্য অপ্রতুল৷ দুর্ভোগের অংশ হিসেবে বাড়ছে শীতের আরেক উপসর্গ, ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ৷ শীত, অপুষ্টি ও দারিদ্র্যের দাপটে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে নগরীর ভাগ্যবিড়ম্বিত এসব ফুটপাথবাসী পথশিশু৷
এই শীতে গায়ে ছালা জড়িয়ে রাতে ঘুমায় বলে জানালো শাহবাগ মোড়ের ফুটপাথবাসী পথশিশু নূর ইসলাম৷ তার বয়স ১২৷ এবার শীতে সরকারি বা বেসরকারি কোনো ত্রাণ সাহায্য সে পায়নি৷ সে আরো জানালো, তার পেশা দিনের বেলায় শাহবাগ মোড়ে পাপড় ফেরি করে বেড়ানো৷ এতে যা পাওয়া যায় তা দিয়ে ঘরভাড়া করার উপায় নেই৷ তার ওপর দেশের বাড়িতে মাকেও টাকা পাঠাতে হয়৷ গত বছর ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের কাছ থেকে ত্রাণ হিসেবে একটা পুরনো চাদর পেয়েছিল সে৷ গরম কাপড় হিসেবে এ বছরও এটাই সম্বল৷ তাই এই শীতের মধ্যে লেপ-কম্বলের বদলে শরীরে ছালা জড়িয়ে ঘুমাতে হয়৷ শাহবাগ মোড়ে তার মতো আরো ২০/২৫ শিশু একইভাবে বস্ত্রহীন রাত কাটাচ্ছে বলে জানায় সে৷
কারওয়ান বাজারের

ফুটপাথবাসী ১৫ বছরের নাজমা জানায়, তার দুই সন্তানকে নিয়ে সে ফুটপাথে ঘুমায়৷ শীতের কারণে তার দুই সন্তান ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে৷ সে-ও এবার কোনো ত্রাণ সাহায্য পায়নি৷
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ইউএনডিপির যৌথ প্রজেক্ট ‘এরাইজ’ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) হিসাব অনুযায়ী, সারা দেশে ৬ লাখ ৭৪ হাজার পথশিশু রয়েছে৷ এর ৫৮.৮ শতাংশ পথশিশু বাস করে রাজধানী ঢাকায়৷ অর্থাত্ ২ লাখ ৪৯ হাজার ২০০ পথশিশু ঢাকার বিভিন্ন রাস্তায় শীতের মধ্যে রাত কাটাচ্ছে৷
খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহান সিরাজী এ বিষয়ে যাযাদিকে বলেন, এবারের শীতে সারা দেশে ইতিমধ্যে ১ লাখ ১৫ হাজার কম্বল দেয়া হয়েছে৷ এছাড়া প্রত্যেক জেলায় ৫০ হাজার করে অর্থ দেয়া হয়েছে৷ আসন্ন শৈত্যপ্রবাহের কথা চিন্তা করে ঢাকাসহ সারা দেশের জন্য সরকারি কম্বল উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ইতিমধ্যেই বুকিং দেয়া হয়েছে৷ তবে দেশের চাহিদা অনুযায়ী এ সরকারি সাহায্য অপ্রতুল৷ তিনি বলেন, শীতে শিশুরা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এদের গরম কাপড় দেয়ার বিষয়ে আলাদা করে তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই৷ তিনি আরো বলেন, এ দেশে শীতে মানুষ মারা যাওয়ার মতো ঠাণ্ডা সাধারণত পড়ে না৷ কিন্তু এ সময় শিশুসহ যেসব মানুষ মারা যান তার প্রধান কারণ দারিদ্র্য ও অপুষ্টি৷ তিনি উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে সরকারি সাহায্যের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি ব্যক্তি, সংগঠন ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন৷
শিশু অধিকার বিষয়ক মানবাধিকার সংগঠন অপরাজেয় বাংলার প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর আমিনুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ডিপার্টমেন্ট অফ সোশাল সার্ভিসের এ বিষয়ে পরিকল্পনা করে দীর্ঘ মেয়াদি পদক্ষেপ নেয়া উচিত৷ কেননা এদেরই দায়িত্ব হলো সুবিধাবঞ্চিত নারী ও শিশুদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া৷ এছাড়া ঢাকা সিটি করপোরেশনেরও এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন৷ তিনি বলেন, শিশুদের অধিকার বিষয়ে দেশে ভালো আইন রয়েছে৷ সরকারের রিসোর্সও রয়েছে৷ কিন্তু সুষ্ঠুু ব্যবস্থাপনার অভাবে শীতে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে লক্ষাধিক পথশিশু৷
এদিকে আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে আরেকটি মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ আসার সম্ভাবনা রয়েছে৷ ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকা এ বিষয়ে বলেন, আসন্ন শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে সিটি করপোরেশনের এখনো নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা না থাকলেও এ বিষয়ে খুব দ্রুতই ব্যবস্থা নেয়া হবে৷ তিনি জানান, পথশিশুদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করা হবে৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=27051&issue=202&nav_id=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: