রাজনৈতিক তৎপরতায় নিষেধাজ্ঞা গণমাধ্যমেও প্রচার করা যাবে না

জরুরি ক্ষমতা বিধিমালা ২০০৭ জারি

কাগজ প্রতিবেদক : তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেশব্যাপী জারি হওয়া বর্তমান জরুরি অবস্থায় আরো কড়াকড়ি আরোপ করেছে। জারি করা হয়েছে জরুরি ক্ষমতা বিধিমালা ২০০৭। এর আগে জারি করা জরুরি ক্ষমতা অধ্যাদেশের আওতায় এই নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী রাজনৈতিক তৎপরতায় নিয়ন্ত্রণ আরো বাড়ানোর পাশাপাশি সকল প্রকার গণমাধ্যমের জন্য মেনে চলার বিষয়াবলীর বিসত্দারিত রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজনৈতিক তৎপরতা নিষিদ্ধ থাকবে এবং এ সংক্রানত্দ খবরাখবর গণমাধ্যমে প্রচার বা প্রকাশ করা যাবে না। রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ গত বৃহস্পতিবার রাতে এই বিধিমালা অনুমোদন করেন। গতকাল শুক্রবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সরকারের পক্ষে ২২টি বিধি সংবলিত প্রণীত ‘জরুরি ক্ষমতা বিধিমালা-২০০৭’ প্রজ্ঞাপন আকারে ঘোষণা করেন। গেজেটভুক্ত এ বিধিমালা ১২ জানুয়ারি ২০০৭ থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে। জরুরি বিধিমালায় মিছিল, সভা-সমাবেশ, ইত্যাদি নিষিদ্ধ করে বলা হয়, রাষ্ট্র বা জনসাধারণের নিরাপত্তা বা স্বার্থ রক্ষার্থে বা জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রয়োজনে দেশের সর্বত্র বা যে কোনো স্থানে মিছিল, সভা-সমাবেশ বা বিক্ষোভ অনুষ্ঠান বা এতে অংশগ্রহণ জরুরি অবস্থা ঘোষণার কার্যকারিতাকালে নিষিদ্ধ থাকবে।
যে কারণে জনশৃঙ্খলা এবং শানত্দিরক্ষা করার প্রয়োজনে যে কোনো সভা-সমাবেশ, মিছিল, অবরোধ, বিক্ষোভ, বক্তৃতা, বিবৃতি, ক্ষতিকর বা উত্তেজক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করতে এবং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে সরকার। এ সম্পর্কিত কোনো সংবাদ বা তথ্য, সম্পাদকীয়, উপ-সম্পাদকীয়, প্রতিবেদন, ফিচার, ব্যাঙ্গচিত্র, টকশো বা আলোচনা, আলোকচিত্র ইত্যাদি প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও ইন্টারনেটসহ কোনো গণমাধ্যমে প্রচার, সমপ্রচার বা প্রকাশ করা যাবে না। ওইসবের স্থির বা চলচ্চিত্রও কোনো গণমাধ্যমে প্রচার বা প্রকাশ করা যাবে না। কোনো ব্যক্তি এই বিধির বিধান লঙ্ঘন করলে তিনি অনধিক পাঁচ বছর এবং অনূ্যন দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন।
বিধানে ধমর্ীয়, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় বা সরকারি আচার অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত কোনো মিছিল, সভা-সমাবেশ বা অনুষ্ঠান করা বা এতে অংশগ্রহণ করা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়। এই বিধি অনুযায়ী কোনো মিছিল, সভা-সমাবেশ বা অনুষ্ঠান করা বা এতে অংশগ্রহণ করার বিষয়ে কোনোরূপ অস্পষ্টতা বা সংশয় থাকলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা ক্ষেত্রমত, মহানগর এলাকায় পুলিশ কমিশনারের অনুমতিক্রমে কোনো মিছিল, সভা-সমাবেশ বা অনুষ্ঠান করা বা এতে অংশগ্রহণ করা যাবে।
জরুরি ক্ষমতা বিধিমালা ২০০৭ অনুযায়ী সাধারণ মানুষের জন্য রাজনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় আইনি সমাধান খোঁজার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্র বা সরকারের নিরাপত্তা, শানত্দি-শৃঙ্খলাভঙ্গ হলে সরকার ইচ্ছে করলে ব্যবস্থা নিতে পারবে বলে জানিয়ে বিধিমালায় বলা হয়েছে, উস্কানিমূলক সমাবেশ, জমায়েত, মিছিল, র্যালি, হরতাল, প্রদর্শনী, অবরোধ, ধর্মঘট, কলকারখানা বন্ধ করে দেওয়ার মতো তৎপরতা এবং রাজনৈতিক দল, ট্রেড ইউনিয়ন, ক্লাব ও অন্য সংগঠনগুলোর কোনো ধরনের জনসম্পৃক্তমূলক অনুষ্ঠান ও পরবর্তী আদেশ কিংবা জরুরি আইন তুলে না নেওয়া পর্যনত্দ স্থগিত রাখা হয়েছে।
জাতীয় ও জননিরাপত্তা বিঘ্ন ঘটায় এমন তৎপরতা, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ও সেবার সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করে এমন যে কোনো কাজও নিষিদ্ধ হয়েছে এই আইনে। এ জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির মজুদদারি, মুনাফাখোরি ও কালোবাজারির মতো অবৈধ ব্যবসাও নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছে জরুরি ক্ষমতা আইনে।
বিধিমালায় হরতাল, ধর্মঘট, লকআউট ইত্যাদি নিষিদ্ধ করে বিধান করা হয় যে, রাষ্ট্র বা জনসাধারণের নিরাপত্তা বা স্বার্থ রক্ষার্থে বা জনশৃঙ্খলা ও শানত্দি বজায় রাখার প্রয়োজনে বা সমাজ জীবনে অত্যাবশ্যক পণ্য সরবরাহ বা সেবাকার্য নিশ্চিত করার উদ্দেশে দেশের সর্বত্র বা যেকোনো স্থান, শিল্প বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা বন্দর বা কল-কারখানায় হরতাল, ঘেরাও, অবরোধ, ধর্মঘট, লকআউট ও ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রম জরুরি অবস্থা ঘোষণার কার্যকারিতাকালে নিষিদ্ধ থাকবে।
বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র বা জনসাধারণের নিরাপত্তা বা স্বার্থ রক্ষার্থে বা জনশৃঙ্খলা ও শানত্দি বজায় রাখার জন্য ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি, গণকর্মচারীদের রাজনীতি সম্পর্কিত কার্যক্রম ও সকল পেশাজীবী সংগঠনের তৎপরতা জরুরি অবস্থা ঘোষণার কার্যকারিতাকালে নিষিদ্ধ থাকবে।
কোনো ব্যক্তি এই বিধান লঙ্ঘন করলে অনধিক পাঁচ বছর এবং অনূ্যন দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে।
এই বিধিমালা বলে সরকারকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে যে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার বা আটক করার কিংবা কারো দেশে প্রবেশ, দেশত্যাগে বাধা কিংবা কোনো বিদেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বা জনস্বার্থের জন্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে জড়িত কারো অবস্থান ও তৎপরতায় বাধা দেওয়ার।
জারিকৃত বিধিমালায় জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা, জরুরি সরবরাহ ও সেবামূলক কাজের জন্য ক্ষতিকর সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ ও সমপ্রচারের ক্ষেত্রে অনুসরণ করার জন্য কিছু নীতিমালা জারি করা হয়েছে সংবাদ মাধ্যমের জন্য। সরকার একই সঙ্গে ডাক, বেতার, টেলিগ্রাম, টেলেক্স, ফ্যাক্স, ইন্টারনেট ও টেলিফোনে প্রচারিত যে কোনো বার্তা বা সংবাদ নিয়ন্ত্রণ কিংবা বন্ধ করে দিতে পারবে বলে জানানো হয়েছে এই বিধিতে।
বিধিমালায় সরকারের বিরুদ্ধে আতঙ্ক ও ঘৃণা বাড়ানোর লক্ষ্যে গৃহীত যে কোনো তৎপরতা এবং অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক অবনতি করে এমন যে কোনো কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে শত্রুতা, হিংসা ও ঘৃণা সৃষ্টির লক্ষ্যে যে কোনো কর্মকাণ্ডও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১২ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির জারি করা জরুরি ক্ষমতা অধ্যাদেশ ২০০৭-এর অবকাঠামোতেই নির্দেশিত হয়েছে জরুরি ক্ষমতা বিধিমালা ২০০৭।
এই বিধিমালায় অবশ্য নতুন রিট পিটিশন দায়ের বা মৌলিক অধিকার ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে দায়েরকৃত কোনো রিটের কার্যক্রম চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক কারণ বাদে মৌলিক অধিকার বাসত্দবায়নের জন্য রিট পিটিশন দায়ের করার অনুমতি পাবে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টও রাজনৈতিক সংশ্লেষ বর্জিত মৌলিক অধিকার বাসত্দবায়ন সংক্রানত্দ স্থগিত থাকা যে কোনো রিট পিটিশনের শুনানি চালাতে পারবেন।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি ১১ জানুয়ারি যে জরুরি ক্ষমতা আদেশ জারি করেছিলেন তাতে নতুন রিট পিটিশন দায়ের এবং মৌলিক অধিকার বাসত্দবায়নের স্থগিত রিট পিটিশনের কার্যক্রম চলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।
সূত্রঃ http://bhorerkagoj.net/online/news.php?id=38231&sys=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: