ছুটির দিনেও বিদ্যুত্ ঘাটতি ছিল ৫০০ মেগাওয়াট

সাপ্তাহিক ছুটির দিন গতকাল শনিবার দেশের ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট চাহিদার মধ্যে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল৷ এ ঘাটতি লোডশেডিং করে পূরণ করা হয়৷
ঠাণ্ডা আবহাওয়ার এ সময়ে সরকারি ছুটির দিনে বিদ্যুত্ চাহিদা সাধারণত কম হয়ে থাকে৷ এ সময় শিল্প প্রতিষ্ঠান, পাবলিক ও প্রাইভেট অফিস এবং পাখা, এয়ারকন্ডিশনারসহ মোটরচালিত বিভিন্ন গৃহস্থালির যন্ত্র বন্ধ থাকে৷ তারপরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ ঘাটতির বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে৷
বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলেছেন, গ্রীষ্মকালীন সময় যেখানে বিদ্যুতের চাহিদা ৫ হাজার মেগাওয়াট অতিক্রম করে, সেখানে যে কারো জন্যই এ ঘটনা ভালো লক্ষণ নয়৷ তারা আরো জানিয়েছেন, মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে গরম আবহাওয়া থাকে৷ পিক চাহিদার এ সময় অতিরিক্ত ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের লোডশেডিং থাকে৷
বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন কেন্দ্রের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন পাওয়ার স্টেশনের ৭০টি বিদ্যুত্ উত্পাদন ইউনিটের মধ্যে কমপক্ষে ২৫টি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ইউনিট গ্যাস স্বল্পতা বা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ থাকে৷ এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইউনিট কর্তৃপক্ষ বন্ধ
রাখে গ্যাস সরবরাহের স্বল্পতার কারণে৷
বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, ৪ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করার ক্ষমতার বিপরীতে আমরা সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯০০ মেগাওয়াট উত্পাদন করে থাকি৷
গত সপ্তায় বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান এ এন এম রিজওয়ান আশা প্রকাশ করেছিলেন, বিদ্যুত্ উত্পাদন ইউনিটগুলোর সংস্কার ও পুনর্বাসনের পর বন্ধ হয়ে থাকা ইউনিটগুলো চালু হলে আগামী গ্রীষ্মে বিদ্যুত্ উত্পাদন পরিস্থিতির উন্নতি হবে৷ কিন্তু শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গরম আবহাওয়ার কারণে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্লান্ট সমস্যায় ভুগবে৷ ফলে গ্রীষ্মে বিদ্যুত্ বোর্ড ভালো পরিস্থিততে যেতে পারবে না৷
দীর্ঘ অপেক্ষার পর বহুল আলোচিত ৮০ মেগাওয়াটের টঙ্গী পাওয়ার প্লান্টে গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় অবিরাম ৩৬ ঘণ্টার পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হয়েছে৷ টঙ্গী প্লান্টের ম্যানেজার আবুল মজিদ জানান, ১০৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করার ক্ষমতার বিপরীতে পরীক্ষার সময় দেখা গেছে, সর্বোচ্চ ১১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন করার ক্ষমতা রাখে৷ পরীক্ষার একটা সময় দেখা গেছে, কয়েক ঘণ্টায় ১২১ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদিত হয়েছে৷
তিনি আরো জানান, প্লান্টটির পরিস্থিতি ভালো থাকলে চায়না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং আগামী আগস্টে এ প্লান্টটি বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের কাছে হস্তান্তর করার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=27497&issue=206&nav_id=7

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: