প্রাণভিক্ষা চায় জঙ্গি নেতারা

ফাসির দণ্ডপ্রাপ্ত ছয় শীর্ষ জঙ্গি প্রেসিডেন্Uরে কাছে প্রাণভিক্ষার প্রক্রিয়া শুরু করেছে৷ গতকাল শনিবার শায়খ আবদুর রহমান, আতাউর রহমান সানি ও আবদুল আউয়াল সংশ্লিষ্ট কারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের প্রাণভিক্ষার আবেদন জমা দিয়েছে৷ কারা কর্তৃপক্ষ জানান, জঙ্গিদের আত্মীয়-স্বজন তাদের সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তাদের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্Uরে কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে বলেছেন৷
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আরো জানান, আজ রবিবার সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলাভাই ও আল মামুন প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে পারে৷ জঙ্গি খালেদ সাইফুল্লা দু’দিন আগেই আবেদন করেছে৷ তবে বার্তা সংস্থা ইউএনবি কারা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানায়, পাচ জঙ্গি ইতিমধ্যে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে৷ আবেদন করার শেষ দিন আজ রবিবার বাংলাভাই আবেদন করতে পারে৷
এক কারা কর্মকর্তা জানান, আইন অনুযায়ী আজ ক্ষমা চাওয়ার শেষ দিন৷ সব জঙ্গির প্রাণভিক্ষার আবেদন তারা আজই একত্রে প্রেসিডেন্Uরে কাছে পাঠিয়ে দেবেন৷ আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডের রায় আসামিদের শোনানোর সাতদিনের মধ্যে প্রেসিডেন্Uরে কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়ে আবেদন করতে হয়৷ ২১ জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ জঙ্গিদের পড়ে শোনানো হয়৷
সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনো অপরাধীকে ক্ষমা করতে পারেন৷ এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো আদালত, ট্রাইবুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের দেয়া যে কোনো দণ্ডের মার্জনা, বিলম্ব ও বিরাম মঞ্জুর করার এবং যে কোনো দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্Uরে থাকবে৷
এ প্রসঙ্গে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হেলাল উদ্দিন মোল্লা যায়যায়দিনকে বলেন, ক্ষমা চেয়ে আবেদনের পর প্রেসিডেন্ট দ্রুততম সময়ে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে তার উত্তর জানিয়ে দেবেন৷ তিনি আবেদন মঞ্জুর না করলে কারা কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ে ফাসি কার্যকরের প্রস্তুতি নেবেন৷
সুপৃম কোর্টের আপিল বিভাগ হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে জঙ্গিদের আবেদন খারিজ করে দেয়ার ৫৪ দিন পর সুপৃম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে চিফ জাস্টিসসহ আপিল বিভাগের জাস্টিসদের স্বাক্ষরিত রায় সরকারের বিভিন্ন দফতরে পাঠানো শুরু হয়৷ ২০০৬ সালের ২৮ নভেম্বর চিফ জাস্টিসের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ হাই কোর্ট মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে জঙ্গিদের জেল আবেদন খারিজ করে দেয়৷ এরপর জঙ্গিদের বাচার আর কোনো আইনি প্রক্রিয়া অবশিষ্ট ছিল না৷ কেবল খোলা ছিল প্রেসিডেন্Uরে কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার বিধানটি৷
ফাসি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞ আনিসুল হক বলেন, ডেথ ওয়ারেন্ট শোনার পর প্রেসিডেন্Uরে কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য তারা সাতদিন সময় পাবেন৷ প্রেসিডেন্ট ক্ষমা না করলে রায় জানানোর ২১ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে জঙ্গিদের ফাসি কার্যকর করা হবে বলে তিনি জানান৷
এ প্রসঙ্গে ফৌজদারি আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী যায়যায়দিনকে বলেন, প্রেসিডেন্ট জঙ্গিদের ক্ষমা না করলে ফাসি কার্যকরের প্রক্রিয়া হবে প্রশাসনিক৷ ফাসির আগে পালনীয় সব বিধি মেনেই তা কার্যকর করতে হবে৷
২০০৫ সালের ১৪ নভেম্বর ঝালকাঠি শহরে গাড়িতে করে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় বোমা মেরে হত্যা করা হয় ঝালকাঠি জেলা জজ আদালতের সিনিয়র সহকারী জজ সোহেল আহমেদ ও জগন্নাথ পাড়েকে৷ তদন্ত কর্মকর্তা মুন্সি আতিকুর রহমান ২০০৬ সালের ২১ মার্চ শায়খ আবদুর রহমান, বাংলাভাই ও সানিসহ আটজনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করেন৷ মামলার চার্জ গঠন করা হয় ১৮ এপৃল৷ আট আসামির মধ্যে সাতজনের উপস্থিতিতে ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ রেজা তারিক আজিজ আহমেদের আদালতে মামলার শুনানি শুরু হয়৷ মোট আট কার্যদিবসে ৪৪ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়৷ ২৯ মে রায় ঘোষণা করা হয়৷ রায়ে সাত জঙ্গির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়৷
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত জঙ্গি হলো শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলাভাই, আতাউর রহমান সানি, আবদুল আউয়াল, ইফতেখার হোসেন আল মামুন, খালেদ সাইফুল্লা ওরফে ফারুক এবং আসাদুল ইসলাম আরিফ৷ তবে আরিফ এখনো পলাতক৷
রায় ঘোষণার সাতদিনের মধ্যে নিম্ন আদালতের রায়ের কপিসহ সব নথি ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য হাই কোর্টে পৌছে৷ হাই কোর্টের অনুমতি নিয়ে অগ্রাধিকারভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য প্রয়োজনীয় পেপার বুক তৈরি করা হয়৷ গত ১ আগস্ট শুনানি শুরু হয়৷ শুনানি শেষ হয় ২৫ আগস্ট৷ ২৯ আগস্ট ও ৩১ আগস্ট দুই দিনব্যাপী রায় দেয়া শেষ হয়৷
গ্রেফতারের পর জঙ্গিরা প্রচলিত আদালতে বিচার না চাওয়ার কথা জানালেও ২১ সেপ্টেম্বর তাদের মৃত্যু পরোয়ানা জারি হওয়ার পর একে একে জেল থেকে আপিল বিভাগের কাছে চিঠি লেখেন৷ অন্যদিকে জঙ্গি খালেদ সাইফুল্লা চিঠির সঙ্গে নিয়মিত আপিলও করেছিলেন৷ এসব চিঠি আদালতে পৌছার পর আপিল বিভাগের রুলস অনুযায়ী তাদের ফাসির কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়৷ এরপর আপিল বিভাগে শুরু হয় জঙ্গিদের জেল পিটিশন ও আপিলের শুনানি৷ তিন কার্যদিবস শুনানি শেষে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ গত ২৮ নভেম্বর ‘আবেদনগুলো খারিজ’- এ দুই শব্দে রায় প্রদান করে৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=27514&issue=206&nav_id=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: