গতকাল আরো ২৭টি প্রতিষ্ঠানে যায় মোবাইল কোর্ট সিলগালা করা ফ্যাক্টরি থেকে অবৈধ মাল গায়েব

সিলগালা করা গুদামের গৃল খুলে কয়েক বস্তা কাচামাল সরিয়ে ফেলা হয়েছে পুরনো ঢাকার এক অবৈধ পলিথিন তৈরির কারখানা থেকে৷ গত সোমবার মোবাইল কোর্টের এক অভিযানকালে ম্যাজিস্ট্রেট রোকন-উদ-দৌলা ৩ উমেশ দত্ত লেনের ওই গোপন ফ্যাক্টরি সিলগালা করে দেন৷ সরকারি ছুটির কারণে একদিন পর গতকাল বুধবার ওই ফ্যাক্টরির সিলগালা খুলে দেখা যায় জানালার গৃল কাটা৷ জানালার ভেতরে ও বাইরে ছড়িয়ে রয়েছে পলিথিন তৈরির কাজে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের টুকরো৷ এ ঘটনার জন্য আরো একটি মামলা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে লালবাগ থানাকে৷ ওই ফ্যাক্টরির মালিক এ কে এম সাদেক হোসেন নাঈমের বিরুদ্ধে জারি করা হয়েছে গ্রেফতারি পরোয়ানা৷
এছাড়া মোট চারটি মোবাইল কোর্ট গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ২৭টি প্রতিষ্ঠানকে তিন লাখ ৮৬ হাজার টাকা জরিমানা করে৷ এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনে ২৮টি মামলা দায়ের করা হয়৷
কয়েক বস্তা কাচামাল চুরি যাওয়ার পরও উমেশ দত্ত রোডের সিলগালাকৃত ফ্যাক্টরি থেকে গতকাল আনুমানিক কয়েক লাখ টাকা মূল্যের পলিথিন তৈরির বড় বড় চারটি মেশিন, ৩৮ বস্তা পলিথিন ও পলিব্যাগ, ১৬ বস্তা

পলিথিন তৈরির কাচামাল জব্দ করে মোবাইল কোর্ট৷ জব্দকৃত মালামাল পরিবেশ অধিদফতরে নিয়ে রাখা হয়৷
এর আগে এ কে এম সাদেক হোসেন নাঈমের ভাই মুক্তিযোদ্ধা কে এম দেলোয়ার হোসেন ওই কারখানাটির সন্ধান দেন৷ কয়েক বছর ধরেই সেখানে গোপনে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন তৈরি করা হচ্ছিল৷ সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গত সোমবার সেখানে অভিযান চালায় মোবাইল কোর্ট৷ মোবাইল টিমের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই ফ্যাক্টরির সবাই চোরাপথে সটকে পড়ে৷ কাউকে না পেয়ে সেদিন কারখানা সিল করে দিয়ে আসে কোর্ট৷ গতকাল সেখানে গিয়ে সিলগালা খোলার পর ম্যাজিস্ট্রেট রোকন-উদ-দৌলা জানান, গুদাম থেকে বেশ কিছু মাল সরিয়ে ফেলা হয়েছে৷ এ বিষয়ে তার সঙ্গে পরিবেশ অধিদফতরের ঢাকা বিভাগের পরিচালক নাজিম উদ্দিন চৌধুরীও একমত পোষণ করেন৷ এরপর খুজতে খুজতে একটি জানালার গৃল কাটা পাওয়া যায়৷ জানালার বাইরে পাওয়া যায় প্লাস্টিক সরিয়ে ফেলার আলামত৷ এ ঘটনার কারণ জানতে চেয়ে অবিলম্বে সিলগালাকৃত গুদাম থেকে সরিয়ে ফেলা মাল খুজে বের করার জন্য লালবাগ থানাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে৷
ম্যাজিস্ট্রেট রোকন-উদ-দৌলা জানিয়েছেন, উমেশ দত্ত লেনের ওই বাড়িতে গত সোমবার এসে একটা ব্যাংক নোটিশ ঝোলানো অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল৷ সেটাতে লেখা ছিল, বাড়িটি ঢাকা ব্যাংক ইমামগঞ্জ শাখায় দায়বদ্ধ৷ কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, ওই বাড়ির সঙ্গে ঢাকা ব্যাংকের কোনো সম্পর্ক নেই৷ গতকাল সেখানে গিয়ে ওই নোটিশ আর পাওয়া যায়নি৷ তিনি আরো জানান, সিলগালা লাগানোর পর লালবাগ থানাকে বাড়িটির ওপর নজর রাখতে মৌখিকভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল৷ কিন্তু লালবাগ থানা সে নির্দেশ পালন করতে ব্যর্থ হয়৷ সিলগালাকৃত ফ্যাক্টরি থেকে চুরি যায় কাচামাল৷ এ ব্যাপারে লালবাগ থানা সূত্র জানায়, তারা ওই গোডাউনের ওপর নজর রাখলেও পেছনের চোরাপথে নজর রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না৷
অবৈধ পলিথিন তৈরির গোপন এ কারখানার সন্ধানদাতা দেলোয়ার হোসেন যায়যায়দিনকে জানান, ওই কারখানাটি আট-নয়জনের এক সিন্ডিকেটের৷ তার ভাই সাদেক হোসেন নাঈম তাদের একজন৷ তিনি বলেন, পাচ-ছয় বছর ধরেই বিষয়টি আমি লালবাগ থানাকে জানিয়ে আসছি৷ কিন্তু তারা বিষয়টি আমলে নেয়নি৷ পত্রিকা অফিসগুলোতে বিষয়টি ই-মেইলের মাধ্যমে জানিয়েও কোনো সাড়া পাইনি৷ অবশেষে পরিবেশ অধিদফতরে বিষয়টি জানানোর পর ফল পেলাম৷
খোজ নিয়ে জানা যায়, কারখানার মালিক ওই বাড়িরই পাচতলায় থাকেন৷ আটতলায় তার একটি বেকারি কারখানা রয়েছে৷ এ বেকারির সুবিধা নিয়ে অবৈধ পলিথিন সাপ্লাই দেয়ার সময় সেগুলোকে বেকারির মালপত্র বলেই প্রচার করা হতো৷ গতকাল সেখানে গিয়ে কাউকেই পাওয়া যায়নি৷ বাড়ি ও কারখানা মালিকের ফ্ল্যাট ছিল তালাবদ্ধ৷
পলিথিন কারখানার মাল জব্দ করার ফাকে মোবাইল কোর্ট এক নাম্বার উমেশ দত্ত লেনের এক অবৈধ পলিপ্রোফাইলিনের গুদামে অভিযান চালায়৷ বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ইউনিক ট্রেডিং ইন্ডাস্টৃজ নামের ওই প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়৷ এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ওয়াসিম ইকবাল ও ম্যানেজার ওয়াহেদুল্লাহর নামে ঢাকা সিটি করপোরেশন অধ্যাদেশ অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে৷ ওয়াসিম ইকবালের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জরিমানার টাকা প্রদানের জন্য এক মাসের সময় মঞ্জুর করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট৷
এদিকে ম্যাজিস্ট্রেট এ বি এম আবদুল ফাত্তাহর কোর্ট শ্যামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি মিষ্টির দোকান ও তিনটি রড তৈরির কারখানাকে দুই লাখ দশ হাজার টাকা জরিমানা করেছে৷ এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে খাদ্য আইন ও বিএসটিআইর বিভিন্ন ধারায় চারটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে৷ ওজন পদ্ধতিতে গড়বড়, বিএসটিআইর লাইসেন্স না থাকা, নোংরা পরিবেশ ইত্যাদি কারণে এসব মামলা করা হয়৷ এদের মধ্যে রি-রোলিং মিলস সুমন অ্যান্ড সন্সকে এক লাখ টাকা এবং অন্য দুই রি-রোলিং মিলস আজাদ ও এমএম রহমানকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে৷ মিষ্টির দোকান বিক্রমপুর সুইটসকে জরিমানা করা হয়েছে দশ হাজার টাকা৷
এছাড়া উত্তরা-গুলশান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমানের কোর্ট পৃথক ১৭টি মামলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ২৬ হাজার টাকা জরিমানা করেছে৷ রমনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজনের বিরুদ্ধে পাচটি মামলা দায়ের করেছে ম্যাজিস্ট্রেট ননী গোপাল বিশ্বাসের কোর্ট৷ জরিমানা করেছে ৫০ হাজার টাকা৷ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, খাদ্য আইন, ঢাকা সিটি করপোরেশন অধ্যাদেশ ও বিএসটিআইর বিভিন্ন ধারায় এসব মামলা করা হয়েছে৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=27870&issue=209&nav_id=7

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: