পঞ্চাশ লাখ টাকা তুলে বিদেশে পাড়ি জমাতে চেয়েছিল মামুন ?

আলোচিত ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে একটি গোয়েন্দা সংস্থার হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মামুন আটক হওয়ার পর কালো টাকার বেশ কিছু মালিক ব্যবসায়ী গডফাদার আত্মগোপনে চলে গেছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানায়। এই কালো টাকার মালিকদের সঙ্গে মামুনের লেনদেন ছিল। মামুন দ্বিতীয় দফা গ্রেফতার হওয়ার পিছনে রয়েছে ৫০ লাখ টাকার একটি চেক। গত বুধবার মামুনের বন্ধু ফকিরাপুল হোটেল জোনাকী ইন্টারন্যাশনালের মালিক মনিরম্নল ইসলাম লিটনের মাধ্যমে উক্ত টাকার চেকটি ভাঙ্গাতে গিয়ে মামুনের সন্ধান পায় গোয়েন্দারা। মতিঝিলে একটি বেসরকারি ব্যাংকে চেকটি জমা দেয় মামুনের ভাতিজা রাসেল।

নিয়মানুযায়ী ব্যাংকে অস্বাভাবিক লেনদেনের বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থাকে অবহিত করতে হয়। ঐ দিন ব্যাংক থেকে ৫০ লাখ টাকার চেকের বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থাকে জানানো হয়। নিরাপত্তা কমর্ীরা প্রথমে রাসেলকে ব্যাংক থেকে গ্রেফতার করে। তার সহযোগিতায় হোটেল জোনাকী ইন্টারন্যাশনাল থেকে হোটেল মালিক মনিরম্নল ইসলাম লিটনকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে গ্রেফতারের আগে হোটেলের ম্যানেজারকে গ্রেফতার করা হয়। সেখান থেকে লিটনকে নিয়ে নিরাপত্তা কমর্ীরা ৩৮, নয়াপল্টনের ৫০৪ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মামুনকে গ্রেফতার করে। তার তিনটি মোবাইল ফোন ও কয়েকটি সিডি সিজ করা হয়। এই জব্দের তালিকায় সাৰী হিসেবে ওই বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহ মোশাররফ হোসেন রয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এর সত্যতা স্বীকার করেন। এই বহুতল ভবনের ৫০৪ নম্বর ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতো গ্রেফতারকৃত লিটন। সে মামুনের পিএস কামরম্নলের বন্ধু। এক সময় এজিবি কলোনীতে কামরম্নল থাকতো। সেখান থেকে লিটনের সঙ্গে কামরম্নলের পরিচয়। এই সম্পর্কের সূত্র ধরে মামুনের সঙ্গে লিটনের পরিচয়। লিটনও মামুনের আশীর্বাদে মোটা অংকের টাকার মালিক হয়েছে।

লিটনের মাধ্যমে মামুন সীমানত্দ দিয়ে বিদেশে পাড়ি জমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়। এ কারণে তিনি ব্যাংক থেকে ৫০ লাখ টাকা তুলতে চেয়েছিলেন। লিটনের স্ত্রী নিঝুম জানায়, তার বাসা থেকে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার নাম নিরাপত্তা কমর্ী প্রকাশ করতে নিষেধ করেছে। তবে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিই মামুন বলে জানা যায়। ঐ ভবনে গিয়ে এই তথ্য পাওয়া যায়।

গতকাল মামুনের মহাখালী ডিওএইচএস এলাকার ৬ নম্বর রোডের বাসভবনে গিয়ে কাউকে দেখা যায়নি। কর্তব্যরত দারোয়ান আব্দুল করিম জানায়, ২০শে জানুয়ারী থেকে মামুন ও তার পরিবারের সদস্যরা এই ভবন থেকে চলে যায়। শুধুমাত্র এখন এই দারোয়ানই ভবনে থাকছে।

অপরদিকে মামুন গ্রেফতার হওয়ার পর পরই ডজনখানেক সুন্দরী গা-ঢাকা দিয়েছে। এদের মধ্যে চিত্রজগতের নায়িকা রয়েছে কয়েকজন। তাদের মধ্যে মামুনের বান্ধবী ও চ্যানেল ওয়ানের কর্মকর্তা অদিতি সেন জেল হাজতে রয়েছেন। আরেক বান্ধবী নায়িকা কেয়া পলাতক। তার নিউ ইস্কাটনের বাসায় নিরাপত্তা কমর্ীরা অভিযান চালানোর কয়েকদিন পর মামুনের বন্ধু অপু এসে কেয়াকে নিয়ে পালিয়ে যায়। আশেপাশের কয়েক বাসিন্দা এর সত্যতা স্বীকার করেছেন।

মামুনের গাজীপুর শহরে ছায়াবীথি এলাকায় রয়েছে বিলাসবহুল তিনতলা বাড়ি। মামুন এই বাড়িতে থাকতো না। এর নাম দেয়া হয় খোয়াব। এটা মামুনের বিনোদন কেন্দ্র। এখানে সুন্দরীরা যাতায়াত করতো বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।

এলাকাবাসী এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের যাতে সমালোচনা করতে না পারে সেইজন্য খোয়াবের কাছে একটি মসজিদে সম্প্রতি ১৫ লাখ টাকা অনুদান দেয়া হয়। ২০০৪ সালে ৭ মে সংসদ সদস্য আহসান উলস্নাহ মাস্টার খুন হওয়ার পর কয়েক মাস মামুন ও তার সুন্দরীদের এখানে যাতায়াত বন্ধ ছিল। পরে আবার সেই বিনোদন কেন্দ্র জমে উঠে বলে জানা যায়। মূলত জোট সরকারের আমলে মামুনের উত্থান ঘটেছে।
সূত্রঃ http://www.ittefaq.com/get.php?d=07/02/03/w/n_zzmkkt

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: