গ্রেপ্তার আতঙ্কে ভুগছেন তারেক

যৌথ অভিযানের মুখে বিএনপি নেতারা শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে কোনো দিকনির্দেশনা পাচ্ছেন না।  জোট সরকার আমলে দুর্নীতির কারণে বিত্তবৈভবে ফুলে-ফেঁপে ওঠা এবং সন্ত্রাসের সঙ্গে সংস্রবের কারণে প্রভাব বলয় গড়ে তোলা দলীয় মন্ত্রী-এমপিরাও এখন নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় যাচ্ছেন না। অধিকাংশই এখন পলাতক, আবার অনেকেই নিজেদের আড়াল করে চলেছেন। ভয় ঢুকেছে গ্রেপ্তার হওয়ার। এদিকে হাওয়া ভবনঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুন গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানও গ্রেপ্তার আতঙ্কে ভুগছেন। কারণ মামুন তার ব্যবসায়িক অংশীদার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মামুনকে যৌথবাহিনী এখন যে অবিরাম জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছে তাতে কোনো তথ্য ফাঁস হয়ে যায় তাই নিয়ে ভয় তারেকের।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, জর”রি অবস্থা ঘোষণার পর থেকেই শীর্ষ নেতারা বিএনপির কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। কিন’ অন্য নেতারা কেন্দ্র থেকে দিকনির্দেশনা পেতে প্রতিদিনই নয়াপল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও বনানীর হাওয়া ভবনে উপস্থিত হয়ে তাদেরকে ফোন করেন। কিন’ তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতারা কোনো কথাই বলছেন না। দলীয় হাইকমান্ড ‘চাচা আপন জান বাঁচা’ নীতি অবলম্বন করায় তৃণমূল নেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
এদিকে তৃণমূল নেতাদের চাঙ্গা রাখতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমান থানা ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের কাছে চিঠি লিখেছেন বলে হাওয়া ভবন থেকে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছে তা সঠিক নয় বলে জানালেন বেশ ক’জন প্রভাবশালী নেতা। তারা বলেন, চিঠি লেখা দূরে থাক উল্টো হাওয়া ভবনে ফোন করলেও এখন কেউ কথা বলে না। যাকে কেন্দ্র করে হাওয়া ভবনের সমসত্ম কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় সেই তারেক রহমানই এখন এখানে আসছেন না। কারণ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানও এখন গ্রেপ্তার আতঙ্কে ভুগছেন। বিএনপিসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ব্যবসায়িক পার্টনার গিয়াসউদ্দিন আল মামুন গ্রেপ্তার হওয়ার পর তারেক রহমানও আতঙ্কে আছেন। এ কারণে তিনি এখন ক্যান্টনমেন্টে বাসভবনের বাইরে খুব বেশি বের হন না। মাঝে মধ্যে হাওয়া ভবনে এলেও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করে স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে আবার ক্যান্টনমেন্টের বাসায় ফিরে যান। গত ২৫ জানুয়ারির পর তারেক আর হাওয়া ভবনমুখী হননি। কয়েকদিন দৈনিক যায়যায়দিন অফিসে গেছেন। সামপ্রতিক সময়ে গত ১৯ জানুয়ারি তার পিতা সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে তার কবরে ফাতেহা পাঠ করতে পর্যনত্ম যাননি তারেক।
উল্লেখ্য, বিএনপি-জামাত জোট সরকারে থাকাকালে এবং রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও বিএনপির রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল হাওয়া ভবন। আর এ ভবনে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যনত্ম অবস্থান করে দলের সমসত্ম কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন তারেক রহমান। তার কাজে সহায়তা করতেন বিশেষ ইউনিফর্ম ও পরিচয়পত্রধারী ৪০ জন দলীয় কর্মী। এদের অনেকের কাজ ছিল ভবনের ভেতরে, কারো কারো ভবনের বাইরে স্বেচ্ছাসেবক ক্যাডার হিসেবে। কিন’ দেশে জর”রি অবস্থা ঘোষণার পর তারা অনেকেই আত্মগোপন করেছেন। বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুন গ্রেপ্তার হয়েছে বলে খবর পেয়ে তারেক রহমান মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। বিগত দিনে তারেক রহমান ভালোমন্দ যা কিছু করেছেন তার সবকিছুরই সাক্ষী গিয়াসউদ্দিন আল মামুন। তাই মামুনের কাছ থেকে গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা সবকিছুই জেনে যাবে এবং দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে তারেক রহমানকেও গ্রেপ্তার করা হবে- এ আশঙ্কা থেকেই তিনি গ্রেপ্তার আতঙ্কে ভুগছেন।
রাজধানী ঢাকার এক থানা কমিটির বিএনপি সভাপতি এবং অপর এক থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের করণীয় কী হবে এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছ থেকে কোনো দিকনির্দেশনাই পাওয়া যাচ্ছে না। একই কথা বললেন কুমিল্লার একটি থানা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। হাওয়া ভবন থেকে তারেক রহমান প্রেরিত কোনো চিঠিও তারা পাননি বলে ভোরের কাগজকে জানিয়েছেন। Source:ভোরের কাগজ

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: