ভাড়া করা বিদ্যুত কেন্দ্র চালু হচ্ছে

চলতি বছরের বিদ্যুত সংকট নিরসনের জন্য বিশেষ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। তথ্যমতে, চলতি বছরের সংকট নিরসনে ‘ভাড়া করা বিদ্যুত কেন্দ্র,’ চালু হবে। দ্রম্নত শেষ করা হবে কয়েকটি বিদ্যুত ইউনিটের কাজ। তবে এতকিছু করার পরও চাহিদার মূল সময় অর্থাৎ গ্রীষ্মে ৭০০ থেকে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি থেকেই যাবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ নির্দেশে পিডিবি এই পরিকল্পনা প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সূত্র জানিয়েছে, পিডিবি এ সংক্রানত্ম রিপোর্টটি চূড়ানত্ম করে আজই বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠাচ্ছে।

উপদেষ্টা পরিষদের পরবর্তী বৈঠকেই ২০০৭ সালের বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলার এ সমন্বিত পরিকল্পনাটি পেশ করা হবে।

পিডিবি সূত্র জানিয়েছে, তারা যে রিপোর্ট তৈরি করেছেন তাতে এ বছর সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা দেখানো হয়েছে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। ভাড়ায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র আনা, তিনটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নতুন ইউনিট চালু করার পর চাহিদার বিপরীতে তারা সরবরাহ দিতে পারবে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট।

পরিকল্পনা অনুসারে গ্যাস চালিত ফেঞ্চুগঞ্জ ১০৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রতিটি ৩৫ মেগাওয়াটের দু’টি ইউনিট অর্থাৎ ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে সংযোজিত হবে মে এবং জুন মাসে। অপর ৩৫ মেগাওয়াটের ইউনিটটি উৎপাদনে আসবে ২০০৮ সালের ফেব্রম্নয়ারি মাসে। সরকারি অর্থায়নে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে রম্নরাল পাওয়ার কোম্পানীর ৭০ মেগাওয়াটের ইউনিটটি চলে আসবে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়েই। বেসরকারি ওয়েস্টমন্ট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৪০ মেগাওয়াট ইউনিটটিও উৎপাদন শুরম্ন করবে মাচ-এপ্রিল মাস নাগাদ। গত বছরের ডিসেম্বরে এ ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরম্ন করার কথা ছিল।

পিডিবি প্রথমবারের মত ভাড়া করা কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনবে। আর চলতি বছরেই এ সকল বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনা শুরম্ন হচ্ছে। এগুলোর মোট উৎপাদন ড়্গমতা হবে ২৬০ মেগাওয়াট। ফেঞ্চুগঞ্জ ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে মেসার্স অরনেট সার্ভিস লিমিটেড নামক একটি কোম্পানি। এ বছরের জুন মাসে এটি উৎপাদন শুরম্ন করবে। পিডিবি এ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনবে ২ দশমিক ৮৩ টাকায়।

২০ মেগাওয়াট ড়্গমতা সম্পন্ন বগুড়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন শুরম্ন করবে মেসার্স জিবিবি লিমিটেড। মার্চ মাসে এটি চালু হবার কথা। এখানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়বে ৩ দশমিক ০১৬ টাকা। শাহজীবাজারে ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনবে পিডিবি। ইউনাইটেড নেপচুন জয়েন্টভেঞ্চার নামক একটি কোম্পানি এটি নির্মাণ করবে। মে মাসে এটি চালু হবার কথা। সানিট ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে কুমারগাঁও-এ। এটি চালু হবার কথা এপ্রিল মাসে।

বাঘাবাড়ির নোয়াপাড়ায় হোসাফ-সিএমইসি পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি ৫০ মেগাওয়াট ড়্গমতার কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনবে পিডিবি। এটি চালু হবার কথা জুলাই মাসে। একই কোম্পানি প্রতিটি ২০ মেগাওয়াটের দু’টি বিদ্যুৎ

কেন্দ্র নির্মাণ করবে ফেনী ও বাবরকুণ্ডে। দুইটি চালু হবার কথা জুন মাসে। পিডিবি সূত্র মতে, ভাড়ায় আনা বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়বে ২ টাকা ৭৪ পয়সা।

উপদেষ্টা পরিষদের নিকট যে রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে তাতে জানানো হচ্ছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো থেকে সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ায় কোন সমস্যা নেই। সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা এখন ঠিক রয়েছে। চাহিদা অনুসারে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয়ার জন্য বিতরণ কোম্পানিগুলোকে লোডম্যানেজমেন্ট যথাযথভাবে করার পরিকল্পনাও এই রিপোর্টে জানানো হচ্ছে। পুরানো বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মেরামত, সংরড়্গণ ও পুনর্বাসনের কাজ এগিয়ে চলছে। সংরড়্গণে থাকা বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে শিকলবাহা ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ঘোড়াশাল ৫৫ মেগাওয়াট ড়্গমতার একটি ইউনিট, আশুগঞ্জ ১৫০ মেগাওয়াট ড়্গমতার একটি ইউনিট, হরিপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শাহজীবাজার বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুইটি ইউনিট, খুলনা ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র, খুলনা বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ভেড়ামারা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২নং ইউনিট এবং সৈয়দপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এগুলোর মধ্যে কেবল হরিপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র ছাড়া অন্য ইউনিটগুলো এপ্রিল মাসের মধ্যে উৎপাদনে ফিরে আসবে। হরিপুরে উৎপাদন শুরম্ন হবে ডিসেম্বরে। তবে পিডিবি সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জানাচ্ছে, গ্যাস সংকট না থাকলে তারা উৎপাদন ঠিক রাখতে পারবে।

পেট্রোবাংলা ইতিমধ্যে সরকারের নির্দেশে আগামী এক বছরের একটি পরিকল্পনা প্রণয়ন শুরম্ন করেছে। আজ রবিবার পেট্রোবাংলার পরিচালনা পরিষদ সভায় বসবে। অবশ্য তারা একটি খসড়া পরিকল্পনা প্রতিবেদন তৈরি করে ফেলেছে। তাতে বলা হয়েছে, মার্চ মাস থেকে গ্যাসের কোন সমস্যা হবে না। বিবিয়ানা গ্যাস ড়্গেত্রে তখন উৎপাদন শুরম্ন হবে। বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়লা সরবরাহ পুনরায় শুরম্ন করা যাবে ফেব্রম্নয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উৎপাদন তখনই শুরম্ন হবে।
Source:দৈনিক ইত্তেফাক

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: