দুর্নীতিবাজ ও কালো টাকার মালিকদের ধরতে নতুন অধ্যাদেশ আসছে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ধরা না দিলে সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত

দুর্নীতিবাজ ও কালো টাকার মালিকদের ধরতে কঠোর বিধান সংবলিত নতুন অধ্যাদেশ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার৷ ইতিমধ্যেই নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর এখন প্রস্তুতি চলছে প্রস্তাবিত এ অধ্যাদেশের আইনি কাঠামো ঠিক করার৷
যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের মালিকানার অভিযোগ রয়েছে, অধ্যাদেশটি জারি হওয়ার পর সরকার এসব ব্যক্তিকে যে কোনো সময় আটক অথবা নির্দিষ্ট কোনো দফতরে হাজির হওয়ার জন্য সময়সীমা বেধে দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করতে পারবে৷ বেধে দেয়া সময়ের মধ্যে কেউ ধরা না দিলে তার স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতাও পাচ্ছে সরকার৷ সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে এসব তথ্য৷
সূত্র জানায়, রাজনৈতিক ক্ষমতা অপব্যবহারের মাধ্যমে যেসব ব্যক্তি অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল বিত্তের মালিক বনে গেছেন মূলত তাদের ধরার জন্যই এমন একটি অধ্যাদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে৷
এছাড়া ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের মধ্যে যারা ব্যাংক ঋণ নিয়ে সুকৌশলে আত্মসাত্ করেছেন এবং প্রভাব খাটিয়ে টেন্ডার ও সরকারি কেনাকাটা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অনেক টাকা-পয়সার মালিক হয়েছেন, তাদেরও ধরা হবে এ অধ্যাদেশের মাধ্যমে৷ তবে প্রস্তাবিত এ অধ্যাদেশ রাষ্ট্রের কোন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে তা এখনো ঠিক হয়নি৷
এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এক সিনিয়র অফিসার জানান, নতুন অধ্যাদেশটি জারির মূল লক্ষ্য হবে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দায়িত্ব পালনকারী
ব্যক্তিদের কার্যকর জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করা৷ বিদ্যমান আইন ও বিধি-বিধান দিয়ে তাদের জবাবদিহিতা কোনোভাবেই নিশ্চিত করা যাচ্ছে না৷
এ পরিস্থিততে এমন বিধানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, যাতে রাষ্ট্র চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গা-ঢাকা দেয়ার স্বাভাবিক প্রবণতার বদলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজেরাই আইনের কাছে সশরীরে হাজির হতে বাধ্য থাকে৷ এ ধরনের হাজিরার ব্যর্থতায় তাদের স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে৷
প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের এ রকম হাজিরার জন্য সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টা সময় বেধে দেয়া হতে পারে৷ ওই সিনিয়র অফিসার বলেন, এমন বিধান সংবলিত অধ্যাদেশ জারি হওয়ার পর দুর্নীতিবাজ ও কালো টাকার মালিকদের ধরার জন্য সরকারকে তেমন বেগ পেতে হবে না বলে আশা করা যায়৷
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, দুর্নীতিবাজ ও কালো টাকার মালিকদের পাকড়াও করার লক্ষ্যে এমন একটি অধ্যাদেশ জারির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে গত শনিবার৷ তবে প্রস্তাবিত এ অধ্যাদেশের বিস্তারিত আইনি কাঠামো এবং এটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া কি হবে তা এখনো ঠিক হয়নি৷ গত রবিবার এসব বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোর মধ্যে আলাপ-আলোচনা হয়েছে৷ চলতি সপ্তাহের মধ্যেই অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত হয়ে যেতে পারে বলে সূত্র জানায়৷
সংশ্লিষ্ট এক অফিসার জানিয়েছেন, পাকিস্তানের জবাবদিহিতা কমিশন যে প্রক্রিয়ায় কাজ করে প্রস্তাবিত অধ্যাদেশটি সেই একই প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন করা যায় কি না তা নিয়েও কথাবার্তা হচ্ছে৷ তবে বাংলাদেশে যেখানে দুর্নীতি দমন কমিশন নামে একটি ব্যাপক পরিসরের কর্তৃপক্ষ রয়েছে, সেখানে একই ধরনের কাজের জন্য নতুন করে আরো একটি অফিস গঠন করা ঠিক হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কেউ কেউ৷
তাদের মতে, প্রস্তাবিত অধ্যাদেশটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব কোনো একক সংস্থা বা কর্তৃপক্ষের ওপর ছেড়ে না দিয়ে প্রয়োজনে একাধিক সংস্থার সমন্বিত কর্মপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করা যেতে পারে৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=28312&issue=213&nav_id=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: