দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠিত হচ্ছে

স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পুনর্গঠন করে তা দ্রুত কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে৷ গতকাল রবিবার আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংস্কার সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে৷ বৈঠক শেষে আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, কমিশন যেন সব সময় স্বাধীনভাবে মামলা পরিচালনা করতে পারে তা মাথায় রেখেই পুনর্গঠনের কাজ করা হবে৷
কমিটির সদস্য এম এ মতিন বলেন, বৈঠকে দুদকের সংস্কার বিষয়ে বেশ কিছু বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে৷ এর মধ্যে আছে দুর্নীতির দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা৷ সে সঙ্গে তদন্ত শুরুর ৪৫ দিনের মধ্যে চার্জশিট তৈরি এবং দাখিলের ৬০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করা৷ এসব মামলা চলবে বিশেষ আদালতে৷ দরকার হলে আরো স্পেশাল কোর্ট করা হবে৷ প্রয়োজন অনুসারে ঢাকার বাইরে আরো স্পেশাল কোর্ট করা হবে৷ দুদকের বিধিগুলো পরিবর্তন করা হবে৷ এছাড়া দুদকের সংস্কার সংক্রান্ত বিধিবিধান চূড়ান্ত হবে শিগগিরই৷ দুই সপ্তাহের মধ্যে এ বিধিবিধানগুলো সংশোধন ও অন্যান্য দেশের প্রাসঙ্গিক আইনগুলো পর্যালোচনা করা হবে৷ এছাড়া সার্বিকভাবে কি কি বিষয়ে পুনর্গঠন করা যায় তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে৷
সূত্র জানায়, মামলা ও পুনর্গঠনের কাজ একই সঙ্গে চলবে৷ শুরুতে বড় বড় মামলার শুনানি ত্বরান্বিত করা হবে৷ এ ক্ষেত্রে নতুন ও পুরনো মামলা থেকে গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো বাছাই করা হবে বলেও বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়৷ কমিশনের চেয়ারম্যানসহ উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা যেন দ্রুত পদত্যাগ করেন সে ব্যাপারটিও নিশ্চিত করতে বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়৷
প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্ব গঠিত উপদেষ্টা পরিষদের ২২ জানুয়ারির প্রথম বৈঠকে দুদক সংস্কারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া এবং এ ব্যাপারে আইন উপদেষ্টা মইনুল হোসেনকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি সংস্কার কমিটি গঠন করা হয়৷ কমিটি একাধিক বৈঠকের পর উপদেষ্টা পরিষদের কাছে সংস্কার বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত সুপারিশমালা পেশ করবে৷ তবে কতো দিনের মধ্যে এ সুপারিশমালা চূড়ান্ত হবে সে ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি উপদেষ্টারা৷
এদিকে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার সংক্রান্ত পুনর্গঠন কমিটির বৈঠকে কমিশনের চেয়ারম্যানসহ দুই কমিশনারের দ্রুত পদত্যাগ বিষয়ে আবারো আলোচনা হলে গতকাল চেয়ারম্যান বিচারপতি সুলতান হোসেন খান তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, পদ আকড়ে ধরে থাকার কোনো ইচ্ছা আমার নেই৷ যদি প্রয়োজন পড়ে তবে পদত্যাগ করবো৷ তবে প্রেসিডেন্টর আনুষ্ঠানিক অনুমতি ছাড়া পদত্যাগ করবো না৷ তিনি আরো বলেন, কমিশনের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করছি না৷ দুদক ব্যর্থ, কারণ হলো এর সীমিত জনবল, আইনের অপর্যাপ্ততা ও বিধিমালার অভাব৷ কমিশন গঠনের পর দু’বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও এতো দিনে এর বিধিমালা চূড়ান্ত না হওয়ায় আগেই কেন তিনি পদত্যাগ করলেন না- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্টো প্রশ্ন করেন, আগে পদত্যাগ করলে কি সব সমস্যার সমাধান হতো? তবে তিনি বলেন, কমিশন পুনর্গঠনসহ সরকারকে যে কোনো ধরনের সহায়তা করতে আমরা প্রস্তুত৷
আজ সোমবার কমিশনের নির্ধারিত বৈঠকে এ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আরো আলোচনা হবে বলে জানা গেছে৷ এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং ফৌজদারি আইন, ১৯৫৮-এর সংশোধনীর জন্য খসড়া প্রস্তাব, কমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ বিধিমালা (খসড়া) ২০০৭ এবং অনুসন্ধান ও তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা করা হবে৷
এদিকে আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে প্রধান করে সাত সদস্যের কমিটি কমিশনকে পুনর্গঠন করে তা দ্রুত কার্যকর করার বিষয়ে গতকাল রবিবার আলোচনা করায় অফিসার ও স্টাফদের মধ্যে দেখা গেছে উত্তেজনা৷ বিধিমালার অভাবে অকার্যকর কমিশন বিষয়ে উপ-পরিচালক পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, তোড়জোড় করে শুরু করা কমিশনে কাজের কাজ কিছুই হয়নি৷ কমিশনকে ঘোড়া দিয়েছে, চাবুক দিয়েছে; কিন্তু লাগামটা দেয়া হয়নি৷
সূত্রঃ http://www.jaijaidin.com/view_news.php?News-ID=28322&issue=213&nav_id=1

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: