দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী এমপিদের আইনি সহায়তা দিতে বিএনপির আইনজীবীদের অনীহা

দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত বিএনপির সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও নেতাদের আইনি সহায়তা দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন দলের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক আইনজীবী। গ্রেফতারকৃত নেতাদের আত্মীয়স্বজন অনেক আইনজীবীকে মামলা পরিচালনার অনুরোধ করলে তারা কৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছেন। এমনকি এ বিষয়ে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া রোববার রাতে হাওয়া ভবনে দলের আইনজীবী নেতাদের পরামর্শ নিতে আমন্ত্রণ জানালেও অনেকে যাননি। ওই আইনজীবীরা দুর্নীতিবাজ, জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগে গ্রেফতারকৃত নেতাদের পাশে দাঁড়িয়ে নিজেদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চান না। এ পরিস্থিতিতে গ্রেফতারকৃতদের আত্মীয়স্বজন কাঙ্ক্ষিত সিনিয়র আইনজীবীদের সহায়তা না পেয়ে তুলনামূলক জুনিয়র আইনজীবীদের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপির গ্রেফতারকৃত সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও নেতাদের বিরুদ্ধে দলের সৎ ও আদর্শবান নেতাদের পাশাপাশি আইনজীবী নেতারাও ক্ষুব্ধ। তাদের মতে, দু’একজন ছাড়া গ্রেফতারকৃতরা বিগত পাঁচ বছর ক্ষমতা অপব্যবহার করে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। একাধিক শিল্প-কারখানা, আলিশান বাড়ি-গাড়ি, দেশে-বিদেশে নানা ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে তুলেছেন। আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন অনেকে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের সম্পর্কে গণমাধ্যমেও ব্যাপক লেখালেখি হচ্ছে। ফলে এসব অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তাদের পক্ষে আদালতে দাঁড়ালে জনরোষের শিকার হওয়ারও আশংকা রয়েছে।
সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গ্রেফতারকৃত নেতাদের আইনি সহায়তার বিষয়ে সিদ্ধান- নিতে রোববার রাতে হাওয়া ভবনে দলের আইনজ্ঞ নেতাদের জর”রি বৈঠক ডাকেন। দলের মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া আইনজ্ঞ নেতাদের টেলিফোনে বৈঠকের আমন্ত্রণ জানালে অনেকে তাতে যোগ দেননি। ওই বৈঠকে মাত্র তিনজন আইনজ্ঞ নেতা উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন- দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুবউদ্দিন আহমাদ, অ্যাডভোকেট খন্দকার দেলোয়ার হোসেন ও সহ-সভাপতি বিচারপতি টিএইচ খান। খালেদা জিয়া গ্রেফতারকৃতদের আইনগত সহায়তা দিতে তাদের পরামর্শ চান। সূত্র মতে, দলীয় চেয়ারপারসনের সামনে তারা আইনগত সহায়তার আশ্বাস প্রদান করলেও ভেতরে অনীহা প্রকাশ করছেন। সরাসরি না করতে পারলেও তারা নানা কলাকৌশলের মাধ্যমে এড়িয়ে যাওয়ার কসরত করছেন। তারপরও শেষ পর্যন- সিনিয়র হিসেবে খন্দকার মাহবুবউদ্দিনের ওপর মামলা পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ওইসব সিনিয়র আইনজীবী নেতারা দলের সর্বো”চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য হয়েও বিগত পাঁচ বছর যথাযথ মূল্যায়ন হননি বলে মনে করেন। তারা নিজেদের বঞ্চিত নেতা হিসেবে দলের বিভিন্ন ফোরামেও বলে আসছেন। সিনিয়র নেতা হিসেবে তাদের মন্ত্রিসভায় স্থান না দেয়ায় খন্দকার মাহবুবউদ্দিন আহমাদ ও খন্দকার দেলোয়ার হোসেন দলের হাইকমান্ডের ওপর ক্ষুব্ধ। এমনকি খন্দকার দেলোয়ার দল ছাড়ারও আভাস দিয়েছিলেন। বিচারপতি টিএইচ খান দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর অসন’ষ্ট। তার ছেলে আফজাল এইচ খানকে বিগত পাঁচ বছর দলে মূল্যায়ন করা হয়নি বলে তার অভিযোগ। তিনি নিজে বাতিলকৃত নির্বাচনে ছেলেকে মনোনয়ন দেয়ার তদ্বির করেও ব্যর্থ হয়েছেন।
বিএনপি সমর্থিত কয়েকজন আইনজীবী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ক্ষমতা বাইরে থাকলে তখন বিএনপির আইনজীবী নেতাদের অনেক কদর। দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন- নেতারা তাদের সমীহ করেন। বিএনপির নেতা ও সমর্থক আইনজীবী হওয়ায় তখন ফি ছাড়াই তাদের মামলা পরিচালনা করতে হয়। কিন’ ক্ষমতায় আসার পর যোগ্য নেতা হওয়ার পরও আইনজীবী হওয়ার ‘রহজ্যজনক’ কারণে তাদের গুর”ত্বপূর্ণ কোন পদ-পদবি দেয়া হয়নি। এমনকি নির্বাচনে বেশ কয়েকজন মনোনয়ন চেয়েও পাননি। মনোনয়ন দেয়া হয়েছে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নেতাদের। এতে আইনজীবী নেতাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপি সমর্থক বেশ কয়েকজন আইনজীবী নেতা বলেন, এখনই দুর্নীতিবাজদের দল থেকে বহিষ্কার করার সময়। তারা বলেন, ইতিমধ্যে যাদের গ্রেফতার করা হয় এবং যারা তালিকাভুক্ত আছেন তাদের কয়েকজন ছাড়া বাকিদের বির”দ্ধে আগে থেকেই জনমনে নানা গুঞ্জন ছিল। ফলে সে সময় দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী-এমপি ও নেতাদের দল থেকে বহিষ্কার করা উচিত ছিল। এমনকি পরে আবারো নির্বাচনে মনোনয়ন না দিলে আজকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অন-ত বিএনপিতে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের দায়ে অভিযুক্ত করে কাউকে গ্রেফতার করার নেতা পেত না।
বিএনপির অন্য একজন আইনজীবী নেতা বলেন, দলের নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা করতে তর”ণ আইনজীবীদের সমন্বয়ে ‘ককাস’ নামে একটি সংগঠন গঠন করা হয়েছিল। এটা নিয়েও জাতীয়তাবাদী আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রশ্ন ওঠেছে আজ ওইসব আইনজীবী কোথায়। তারা গ্রেফতারকৃত নেতাদের আইনি সহায়তা দিতে এগিয়ে আসছেন না কেন? এক প্রশ্নের জবাবে ওই আইনজীবী বলেন, তারা ‘কার’ পক্ষে আদালতে দাঁড়াবেন? দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষক গডফাদারদের জন্য! যারা দলের জন্য বোঝা হয়ে গেছেন, তাদের রক্ষা করে কোন লাভ হবে না। Source:দৈনিক যুগান্তর

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: