যশোরে তরিকুল ঢাকায় মিল্লাত আটক দেশব্যাপী যৌথ অভিযান অব্যাহত

দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী গডফাদার এবং জঙ্গি তৎপরতা ও সন্ত্রাসে মদদদাতাদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে সেনা তত্ত্বাবধানে যৌথবাহিনী রাজধানীসহ সারা দেশে বিভিন্ন স্থানে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী গতকাল সোমবার রাতে যশোরে সাবেক তথ্য, বন ও পরিবেশমন্ত্রী, বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলামকে এবং ঢাকায় সাবেক বিএনপি দলীয় সাংসদ ও হাওয়া ভবনঘনিষ্ঠ নেতা এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে যৌথবাহিনী আটক করেছে। তার বাসায় অস্ত্রও পাওয়া গেছে।
যশোর থেকে ভোরের কাগজ প্রতিবেদক জানান, গত শনিবার রাতে ঢাকায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের গ্রেপ্তারের খবর শুনেই তরিকুল ইসলাম আত্মগোপনে যান। গতকাল দিনের কোনো এক সময় তিনি তার শহরের ঘোপ এলাকার বাসভবনে ফিরে এলে গোপন সংবাদ পেয়ে যৌথ বাহিনী রাত সাড়ে ১০টায় তার বাড়ি ঘিরে রাখে এবং রাত ১১টায় তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানায়। এদিকে আটক হওয়ার সময়ই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। শেষ খবর পাওয়া পর্যনত্ম সেখানেই তার চিকিৎসা চলছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তিনি একটু সুস্থ হলেই তাকে যৌথ বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, তিনি দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন। আত্মগোপনে থাকার সময় ঠিক মতো চিকিৎসা নিতে না পারায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বাধ্য হয়েই বাড়িতে ফিরে আসেন।
এদিকে গভীররাতে চ্যানেল আই-এর খবরে বলা হয়, জামালপুরের সাবেক বিএনপি সাংসদ রশিদুজ্জামান মিল্লাতকেও আটক করেছে যৌথবাহিনী। তবে বিডিনিউজের খবরে বলা হয়, যৌথবাহিনী তার বাসায় অভিযান চালিয়ে জমা না দেওয়া অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করলেও মিল্লাতকে বাসায় পাওয়া যায়নি।
সূত্র জানায়, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা রোববার ভোর চারটার দিকে রশিদুজ্জামান মিল্লাতের গুলশান কে ব্লকের ২৮নং সড়কের ১৫ নম্বর বাসায় অভিযান চালায়। এ সময় তারা একটি টুটুবোর রাইফেল, একটি শটগান এবং ৩৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় র‌্যাব-৫ এর উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মশিউর রহমান বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি মামলা করেছেন। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, উদ্ধার করা অস্ত্র লাইসেন্স করা হলেও জব্দকৃত গুলির বিপরীতে তার পরিবারের সদস্যরা কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।
আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামাতের প্রথমসারির নেতা ও কয়েকজন ব্যবসায়ীসহ প্রায় ৩০ জনের খোঁজে হন্যে হয়ে চষে বেড়াচ্ছে যৌথবাহিনীর সদস্যরা। রাজধানীর গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি, মগবাজার ও বারিধারা এলাকায় এসব অভিযান চালানো হয়। পাশাপাশি রাঘববোয়ালদের খোঁজে রাজধানী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলায় যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। চট্টগ্রামে গ্রেপ্তারের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগ নেতা ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী বাবুলকে।
সাবেক পরিবেশ ও বনমন্ত্রী তরিকুল ইসলাম এবং জামালপুরের বিএনপি দলীয় সাবেক সাংসদ রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে গত রাতে আটক করে যৌথবাহিনী। মিল্লাতের ঢাকার বাসায় অভিযান চালিয়ে দুটি জমা না দেওয়া অস্ত্রসহ বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে যৌথবাহিনী।
জানা গেছে, গত শনিবার রাতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করার পর রোববার রাতে আরো জোরদার অভিযান চালানো হয়। অভিযান অব্যাহত থাকে গতকাল সোমবার দিনে রাতেও। এসময় যৌথবাহিনীর কয়েকটি টিম রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। তালিকা ধরে একে একে অভিযান চালায় বিএনপির যুগ্মমহাসচিব তারেক রহমান, তার ভাই আরাফাত রহমান, সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস, আমিনুল হক, এহসানুল হক মিলন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, সাবেক এমপি নাসিরউদ্দিন পিন্টু, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভাই সাঈদ ইস্কান্দার, আওয়ামী লীগের মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, হাজী সেলিম, মীর্জা আজম, জামাতের আমির ও সাবেক মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মুজাহিদ, সাবেক এমপি দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ও জামাতের অপর ৩ জন এমপি, জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, নাজিউর রহমান মঞ্জুর, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর খোঁজে। এসময় ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের আরো বেশ কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান নেতাকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যেও অভিযান চালানো হয়। কিন’ এসব নেতাকে গ্রেপ্তারের জন্য একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়েও তাদের কোনো খোঁজ পায়নি যৌথবাহিনীর সদস্যরা।
সূত্র জানায়, যৌথবাহিনী রাজনৈতিক ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, ঋণখেলাপি, জঙ্গি তৎপরতা ও সন্ত্রাসে মদদদাতা হিসেবে যাদের নামের তালিকা করেছে এই তালিকায় এদের নাম রয়েছে। এদেরকে গ্রেপ্তার করতে প্রশাসনের ওপর থেকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে অভিযান আগের থেকে আরো জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া পরিবর্তন করা হয়েছে অভিযানের কৌশল। জামাতের নেতাদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে মগবাজার এলাকায়, তারেক রহমান ও সাঈদ ইস্কান্দারের খোঁজে নগরীর গুলশান, বনানী ও ধানমন্ডি, হাজী সেলিম ও পিন্টুর খোঁজে পুরান ঢাকা ও ধানমন্ডি, আলমগীর কবিরের খোঁজে শেরেবাংলা নগর, আব্দুল আউয়াল মিন্টুর খোঁজে গুলশান, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও মায়ার খোঁজে ধানমন্ডি ও উত্তরা এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
এদিকে রাজধানীর মতো দেশের অন্যান্য জেলাতেও যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে আটক করা হয় জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট ইব্রাহীম হোসেন চৌধুরী বাবুলকে।
জানা গেছে, গত রোববার গভীর রাতে যৌথবাহিনী বাবুলের নন্দনকাননের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পরপরই তাকে কোতয়ালী থানায় হসত্মানত্মর করা হয়। গতকাল বিকালে কয়েকটি বিশেষ শর্তে তাকে থানা থেকেই আবার জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়। তার বির”দ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ না থাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। Source:ভোরের কাগজ
Date:2007-02-06

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: