১৪ নেতাসহ ১৯ জন জেল হাজতে

৩০ দিনের আটকাদেশ ।। বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা ।। অর্ধশতাধিক নেতা ব্যবসায়ী ও ভূমিদস্যুর বাড়িতে অভিযান

দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী ও তাদের গডফাদার, মাফিয়া চক্র এবং ভূমিদস্যুদের গ্রেফতারে যৌথবাহিনীর বিশেষ দল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গতকাল সোমবার ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়েছে। তবে তালিকাভূক্ত সাবেক মন্ত্রী, এমপি, ব্যবসায়ী, দুর্নীতিবাজ ও গডফাদারদের গ্রেফতার করতে পারেনি। যৌথবাহিনী রাজধানীতে অর্ধশতাধিক শীর্ষ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীদের বাসায় অভিযান চালায়। রাজধানীর বাইরেও অনুরূপভাবে বিশেষ দল অভিযান চালিয়েছে। এদিকে গ্রেফতারকৃত সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ১৯ জনকে গতকাল বিশেষ দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী ও তাদের গডফাদার, মাফিয়া চক্র এবং ভূমিদস্যুদের গ্রেফতারে যৌথবাহিনীর বিশেষ দল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গতকাল সোমবার ভোর পর্যন্ত অভিযান চালিয়েছে। তবে তালিকাভূক্ত সাবেক মন্ত্রী, এমপি, ব্যবসায়ী, দুর্নীতিবাজ ও গডফাদারদের গ্রেফতার করতে পারেনি। যৌথবাহিনী রাজধানীতে অর্ধশতাধিক শীর্ষ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীদের বাসায় অভিযান চালায়। রাজধানীর বাইরেও অনুরূপভাবে বিশেষ দল অভিযান চালিয়েছে। এদিকে গ্রেফতারকৃত সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ১৯ জনকে গতকাল বিশেষ ড়্গমতা আইনে গ্রেফতার দেখিয়ে একমাসের আটকাদেশ দিয়ে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। বিএনপি’র আইনে গ্রেফতার দেখিয়ে একমাসের আটকাদেশ দিয়ে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। বিএনপি’র গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী ও এমপিসহ ৮ জন এবং আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও এমপিসহ ৫জনকে একমাসের আটকাদেশ দেয়া হয়। তাদের বিরম্নদ্ধে ধানমণ্ডি, গুলশান, মোহাম্মদপুর, কাফরুনল ও রমনা থানায় যৌথবাহিনীর পক্ষে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়। গত শনিবার মধ্যরাতে বিভিন্ন এলাকা থেকে সাবেক মন্ত্রী. এমপি ও ব্যবসায়ীসহ ১৪জনকে এবং ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামে বিএনপি’র সাবেক এমপি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁইয়াকে যৌথবাহিনীর সদস্যরা গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে বিএনপি’র ১০ ও আওয়ামী লীগের ৪ শীর্ষ নেতা রয়েছেন। এই ১৫ জনের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব সাবেক এমপি মোসাদ্দেক আলী ফালু ছাড়া ১৩জনকে সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। সেখান থেকে তাদের জেল হাজতে পাঠিয়ে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিএনপি’র সাবেক এমপি আব্দুল ওয়াদুদ ভুঁইয়াকে চট্টগ্রাম আদালতে গতকাল হাজির করা হলে তাকে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। অপর ৫ জনকে রাজধানী থেকে আগেই গ্রেফতার করেছিল যৌথবাহিনী। এই ৫ জনকে নিয়ে মোট ১৯ জনকে গতকাল আদালতে হাজির করা হয়েছে। আটকাদেশের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ও আমান উলস্নাহ আমান, সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের ছেলে নাসের রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরম্নল আহসান মুন্সী, টিএন্ডটি’র সিবিএ বিএনপি নেতা ফিরোজ আহমেদ, আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মহিউদ্দীন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা ও এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি সালমান এফ রহমান, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক আ ন হ মোস্তফা কামাল ওরফে লোটাস কামাল, স্বেচ্ছাসেবকলীগ সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ। যৌথবাহিনীর হাতে এদের পূর্বে রাজধানীতে গ্রেফতারকৃরা হচ্ছেনঃ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর সহকারী একানত্ম সচিব ড. আওলাদ হোসেন, ব্যক্তিগত স্টাফ মাহামুদ হাসান বাবুল, বহু আলোচিত ব্যবসায়ী গ্রেফতারকৃত গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের বন্ধু স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকু ও ডাকসুর সাবেক সদস্য ম. আব্দুর রাজ্জাক, সিবিএ’র নেতা হাজী সোয়েব সাঈদ ডিকন ও হাসান। এই পাঁচজনকে ১৪ জনের সঙ্গে গতকাল আটকাদেশ দেয়া হয়েছে। বিএনপিসহ চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রী, এমপি এবং আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের দুর্নীতিবাজ নেতা, সন্ত্রাসী ও তাদের গডফাদার এবং ভূমি দস্যুদের তালিকা করেছে যৌথবাহিনী। এদের সংখ্যা সহস্রাধিক। যৌথবাহিনী রাজধানী ও জেলা ওয়ারি পৃথক পৃথক দল নিয়ে অভিযান পরিচালনা করছে।

গত শনিবার রাতে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় ১৫ নেতাকে আটক করে ২৪ ঘণ্টায় নিজেদের হেফাজতে রেখে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরম্নত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদশেষে শনিবার রাতে আটককৃত ১৫ জনের মধ্যে রাজধানীতে অবস্থানকারী ১৩জন এবং আগে আটককৃত আরো ৬জনসহ মোট ১৯জনকে ধানমন্ডি, গুলশান, মোহাম্মদপুর, কাফরম্নল ও রমনা থানায় গ্রেফতার দেখিয়ে রবিবার ক্যান্টনমেন্ট থানায় কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে রাখা হয়। বিকেলে তাদের কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ঢাকা সিএমএম কোর্টে পাঠানো হলে সেখান থেকে এক মাসের আটকাদেশ দিয়ে কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, রবিবার রাত সাড়ে ১০টার পর থেকে গতকাল সোমবার ভোর পর্যনত্ম এক এক করে ১৯ জনকে ক্যান্টনমেন্ট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তখন পুরো এলাকা জুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা। বহিরাগত কাউকে প্রবেশকরতে দেয়া হয়নি। তবে আটককৃতদের স্ত্রী, ছেলেসহ আত্মীয়স্বজন এবং কিছুসংখ্যক নেতা-কর্মী থানা এলাকায় ভিড় করেন। তাদের কেউ কেউ থানার ভেতরে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সকালে একসঙ্গে নাসত্মা করেন। আত্মীয়স্বজনরা জানান, গ্রেফতারের কারণ জানতে চাইলে যৌথবাহিনী আদালতে হাজির হওয়ার জন্য অনুরোধ করে। তবে আটককৃতদের কাউকে শারীরিকভাবে এবং মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়নি বলে তাদের আত্মীয়স্বজনরা জানায়। তারা জানায়, আটক করা থেকে এ পর্যনত্ম অত্যনত্ম সম্মানের সঙ্গে তাদের রাখা হয়েছে।

ধানমণ্ডি থানা জানায়, এই থানা এলাকা থেকে আটককৃত বিএনপি নেতা ও সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথকে গত রবিবার রাতে আটক দেখানো হয়েছে। তাদের বিরম্নদ্ধে থানায় জিডি করা হয় এবং বিশেষ ড়্গমতাবলে কোর্টে পাঠানো হয়। গুলশান থানা জানায়, আটককৃত ৬ জনকে গতকাল ভোর সাড়ে ৪টার দিকে গ্রেফতার দেখানো হয়। তারা হলেনঃ সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর নাসির উদ্দিন, সাবেক অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের ছেলে এম নাসের রহমান, মঞ্জুরম্নল আহসান মুন্সী, আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান এবং আবু হেনা মোসত্মফা কামাল ওরফে লোটাস কামাল। মোহাম্মদপুর থানা জানায়, গতকাল ভোর ৫টার দিকে সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে গ্রেফতার দেখিয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানার হেফাজতে রাখা হয়। কাফরম্নল থানা জানায়, গত রবিবার রাতে আমান উলস্নাহ আমানকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। রমনা থানা জানায়, সিবিএ নেতা মোঃ ফিরোজ মিয়াকে দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানা হেফাজতে পাঠানো হয়। এছাড়া এর আগে ধানমণ্ডিতে আটককৃত আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার একানত্ম সচিব ড. আওলাদ হোসেন ও যুবমহিলা লীগ সভানেত্রীর ভাই মাহামুদ হাসান ওরফে বাবুলকে গতকাল ক্যান্টনমেন্ট থানা হেফাজতে রাখা হয়। এছাড়া মোহাম্মদপুর থানায় আটককৃত শীর্ষ সন্ত্রাসী শোয়েব সাঈদ ডিকন, রমনা থানা এলাকা থেকে আটককৃত সাবেক ছাত্রনেতা জাহাঙ্গীর সাত্তার টিংকু, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি ম. আব্দুর রাজ্জাক এবং মোঃ হাসানকেও শনিবার রাতে আটককৃত শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ক্যান্টনমেন্ট থানায় রাখা হয়।

গতকাল সারাদিন ক্যান্টনমেন্ট থানায় থাকার পর বিকেলে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তিনটি ডিবি পুলিশের গাড়িতে করে তাদের ঢাকা সিএমএম কোর্টে হাজির করা হয়। ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে তাদের কোর্টে নিয়ে যাওয়ার সময় কাউকে বিচলিত দেখা যায়নি। এদের মধ্যে কাউকে কাউকে থানার গেটে অপেড়্গমাণ আত্মীয়-স্বজন এবং নেতা-কর্মীদের প্রতি হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায়। পরে বিশেষ ড়্গমতাবলে তাদের এক মাসের আটকাদেশ দিয়ে কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার স্ত্রী এডভোকেট সিগমা হুদা জানান, ক্যান্টনমেন্ট থানায় আছে খবর পেয়ে সকালে ছুটে এসেছি। তার সঙ্গে দেখা করেছি। একসঙ্গে নাসত্মা করেছি। তবে তার বিরম্নদ্ধে অভিযোগ জানতে চাইলে আমাকে সিএমএম কোর্টে হাজির হতে বলা হয়। ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে গত শনিবার রাত ৩টায় ধানমণ্ডি থেকে যৌথ বাহিনী আটক করে।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুমায়ুন কাদের চৌধুরী জানান, আব্বার সঙ্গে দেখা হয়েছে। তিনি ভালো আছেন। তবে তার আটকের ব্যাপারে জানতে চাইলে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা জানান, বিশেষ ড়্গমতা আইনে গ্রেফতার করা হয়েছে। থানায় যান তাহলে সব জানতে পারবেন। কিন্তু ধানমণ্ডি থানায় গেলে তারা কিছুই জানেন না বলে আমাকে জানিয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন খান আলমগীরের স্ত্রী সিতারা আলমগীর জানান, ভোর ৩টায় খবর পেয়েছি র‌্যাব সদর দপ্তর থেকে তাকে ক্যান্টনমেন্ট থানায় আনা হয়েছে। ভোরে চলে আসি। গ্রেফতারের কারণ জানতে চাইলে বলা হয়, উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ধরা হয়েছে। এছাড়া পংকজ দেবনাথের স্ত্রী মনিকা দেবনাথ, আওয়ামী লীগ নেত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন, এডভোকেট সানজিদা খাতুনসহ বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কিছুসংখ্যক নেতা-কর্মী ও তাদের আত্মীয়-স্বজন ক্যান্টনমেন্ট থানায় আটককৃতদের সঙ্গে সাড়্গাৎ করতে যান। তবে আত্মীয়স্বজন ছাড়া কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি।

আদালতে ১৯ নেতাকে যেভাবে হাজির করা হয়

গতকাল সোমবার শীর্ষ দুই রাজনৈতিক দলের আটককৃত নেতাদের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) কোর্টে হাজির করা হলে তাদেরকে এই আটকাদেশ দেয়া হয়। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ড়্গমতা আইনে গ্রেফতার করার পরই তাদেরকে এই আটকাদেশ দেয়া হল। বিএনপি’র সাবেক এমপি মোসাদ্দেক আলী ফালু এবং আলোচিত ব্যবসায়ী মামুনকে এদিন সিএমএম কোর্টে হাজির করা হয়নি।

আটকাদেশপ্রাপ্ত সবাইকে কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। তবে তাদের নামে এখনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কোন মামলা করা হয়নি। ম্যাজিস্ট্রেট শফিক আনোয়ারের কোর্টে দুই দফায় ১৯ জনকে হাজির করা হলে ব্যবসায়ী ছাড়া সকল রাজনৈতিক নেতার ড়্গেত্রেই রাষ্ট্রদ্রোহী কার্যকলাপে নিয়োজিত থাকা এবং প্রায় সবার বিরম্নদ্ধেই দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। সরকারপড়্গ থেকে বলা হয়, এরা যদি সরকারের নিয়ন্ত্রণে না থাকে তবে তা দেশের জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার কারণ হতে পারে।

গ্রেফতারকৃতদের পড়্গে শুনানির জন্য নামীদামী অনেক এডভোকেট হাজির হন সিএমএম কোর্টে। বিবাদীদের পড়্গ থেকে বলা হয়, রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্যই তাদেরকে এমনভাবে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে সরকারের পড়্গে শুনানি পরিচালনা করেন এসি প্রসিকিউশন মকবুল হোসেন। আসামিদেরকে জামিন না দেয়ার আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, এসব ব্যক্তি অধিকাংশ ড়্গেত্রেই রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকেন। এতে একদিকে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ধ্বংস হতে পারে এবং দেশের জননিরাপত্তাও বিঘ্নিত হতে পারে। আইনজীবীদের পাশাপাশি কোর্টে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে নিজেরাই নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা, মহিউদ্দিন খান আলমগীর, মোহাম্মদ নাসিম এবং আমানউলস্নাহ আমান। নাজমুল হুদা বলেন, চারবারে নির্বাচিত এমপি আমি। বরাবর দেশ ও দেশের জনগণের পড়্গে কাজ করেছি। অথচ আজ সেসব কোন বিবেচনা নয়। আমিই হয়ে গেলাম দেশদ্রোহী। মোহাম্মদ নাসিম তার বক্তৃতায় বলেন, দেশের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করার পর এখন আমাকে নিজের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আমি নিজে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করেছি, এখন স্বাধীনতার এই সুযোগ নিয়েই ইচ্ছে করলে আমার মিথ্যা আটকাদেশের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে আমাকে ছেড়ে দিতে পারেন। মহিউদ্দিন খান আলমগীর বলেন, রাষ্ট্রের বিরম্নদ্ধে কখনো কোথাও একটা কথাও বলেছি এটা কেউ কোন দিনই প্রমাণ করতে পারবে না। অথচ আমাকেই রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হল। আমার বিরম্নদ্ধে কোথাও কোন মামলাতো দূরে থাক একটা সাধারণ ডায়েরি পর্যনত্ম নাই। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে দেশের মঙ্গলের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করাই যদি আমার অপরাধ হয় তাহলে হয়তো আমি অপরাধী। আমানউলস্নাহ আমান নিজের বক্তব্য উপস্থাপনকালে বলেন, ৯০ সালে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্রদের অংশের নেতৃত্ব দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার ড়্গেত্রে আমিই সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছি। গত দেড় দশক ধরে জনগণের সেবা করছি জনপ্রতিনিধি হয়ে। অথচ আমাকেই আজ রাষ্ট্রদ্রোহী বলা হচ্ছে।

এসময় বিবাদীদের পড়্গে ব্যারিস্টার রফিক, সিগমা হুদা, এলিনা খান, এডভোকেট সাহারা খাতুন, এডভোকেট আব্দুল বাতেন, এডভোকেট কামরম্নল ইসলাম, সানাউলস্নাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদারসহ অসংখ্য আইনজীবী নেতাদের পড়্গে শুনানি পরিচালনা করেন। আইনজীবীরা বলেন, কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকলেও তাদের মক্কেলদেরকে হয়রানি করা হচ্ছে। তারা কেউই রাষ্ট্রের বিরম্নদ্ধে কখনোই কোন কথা বলেননি। তাদের বিরম্নদ্ধে কোন সাধারণ ডায়েরিও নেই। নানা যুক্তি তর্কের পর আইনজীবীদের পড়্গ থেকে বলা হয়, আমরা জানি আসামীদের সবাইকেই আটকাদেশই দেয়া হচ্ছে, তবে তাদেরকে যেন জেলখানায় ভালোভাবে একটু থাকার ব্যবস্থা করা হয়। Source:দৈনিক ইত্তেফাক

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: