আটক রাজনীতিকদের বিচার হবে বিশেষ আদালতে

সরকারের মূল টার্গেট রাজনীতিকে দুর্নীতিমুক্ত করা: আইন উপদেষ্টা

দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রচলিত আইনেই অভিযুক্তদের বিচার হবে বিশেষ আদালতে।  এ ছাড়া অবসর গ্রহণের পরপরই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারেন সে লক্ষ্যে শিগগিরই কড়া আইন আসছে।
গতকাল দুপুরে তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। তিনি জানান, অবসর নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের রাজনীতিতে যোগ দেয়া শিগগিরই নিষিদ্ধ করা হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হবে। প্রসঙ্গত, গত সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইন উপদেষ্টা এবং যোগাযোগ উপদেষ্টা উভয়েই বলেছিলেন, আটক রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ নানান অভিযোগ রয়েছে।
গতকাল আইন উপদেষ্টা যখন এসব মনত্মব্য করছিলেন ততোক্ষণে যৌথবাহিনীর হাতে আটক শীর্ষ রাজনীতিকদের জেলখানায় পাঠিয়ে দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের জোর প্রস’তি চলছিল। এ প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, স্পেশাল কোর্ট বা স্পেশাল ট্রাইবুনাল তো তৈরি করাই আছে। কাউকে যাতে মামলার জন্য অহেতুক দুশ্চিনত্মায় থাকতে না হয় বা মামলার কারণে অহেতুক আটক থাকতে না হয় সেজন্য যতোদ্রুত সম্ভব প্রচলিত আইন অনুসারে বিচার কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, আমরা চাই বিচার কাজ ত্বরান্বিত হোক। ব্যবসায়ী ও আমলাদের অকারণে আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, সরকারের মূল টার্গেট রাজনীতিকে দুর্নীতিমুক্ত করা। যেসব রাজনীতিক দুর্নীতির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে পুরো জাতির ক্ষোভকেই আমরা স্বীকৃতি দিচ্ছি। এক্ষেত্রে ভুল বোঝাবুঝির কোনো অবকাশ নেই। আইন উপদেষ্টা আরো বলেন, প্রচলিত আইনেই অভিযুক্তদের বিচার করা যাবে। এতোকাল যাদের আইনের ঊর্ধ্বে বলে মনে করা হতো, বর্তমান সরকার সেসব ব্যক্তির বিচার করবে। এক প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার মইনুল বলেন, যে সকল রাজনীতিক জঙ্গিবাদের উত্থানে মদদ দিয়েছেন গ্রেফতারের তালিকায় তাদেরকেও রাখা হয়েছে। এছাড়া জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শিগগিরই রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হবে। আইন উপদেষ্টা বলেন, রাজনীতি যাতে ব্যবসায় পরিণত না হয় সেদিকে আমরা কড়া নজর রাখছি। এছাড়া বর্তমানে অবসর নেয়ার পর পরই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেভাবে নির্বাচনে অংশ নেন সে সুযোগ যেন না থাকে তা নিশ্চিত করা হবে।
Source:দৈনিক আমাদের সময়
Date:2007-02-07

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: