খালেদা জিয়াকে ভুল পথে পরিচালনা করেছেন প্রভাবশালী ৪ নেতা!

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ভুল পথে পরিচালনা করেছেন দলের প্রভাবশালী ৪ নেতা। কট্টরপন্থি এসব নেতার পরামর্শে খালেদা জিয়া যে ‘কূটকৌশল’ নিয়ে এগুচ্ছিলেন, তা বুমেরাং হয়ে গেছে। ভুল এ কৌশলের মাশুল এখন পদে পদে গুণছে বিএনপি।
বিএনপি প্রভাবশালী নেতাদের মতে, ফের ক্ষমতায় আসা নিশ্চিত করতে এবার একটি অতিকৌশল প্রণয়ন করে ধাপে ধাপে তা বাসত্মবায়ন করছিল বিএনপি। মহাজোটকে মোকাবিলায় সংবিধানকেও এ কৌশলের অস্ত্র হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছিল। আর এসব অতিকৌশল প্রণয়নের ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন দলে কট্টরপন্থি হিসেবে পরিচিত চার নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এই ৪ নেতার পরামর্শ ও কৌশলকে সবচে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। এরই মধ্যে ৪ নেতার মধ্যে দুজনকে দুর্নীতির দায়ে যৌথবাহিনীর আটক করে জেলে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপি স্থায়ী কমিটির এক সদস্য আমাদের সময়কে বলেছেন, ক্ষমতা ছাড়ার আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন সংস্কার প্রশ্নে আওয়ামী লীগসহ সমমনা দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা হলে বর্তমানে বিএনপি নেতাকর্মীদের জন্য এরকম ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হতো না। সে সময় সমঝোতার ব্যাপারে বিএনপি চেয়ারপারসন মাঝেমধ্যে আগ্রহী হয়ে উঠলেও দলের সুবিধাবাদী বেশ কজন নেতা তাকে ভুল পরামর্শ দিয়ে বিভ্রানত্ম করেছেন।
সূত্রগুলোর দাবি অনুয়ায়ী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পরামর্শ দিয়ে সবচে বেশি বিভ্রানত্ম করেছেন সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বিচারপতি কেএম হাসানকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করতে বিচারপতিদের বয়সসীমা বাড়ানোর পরিকল্পনা ও বাসত্মবায়নে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। এরই জের ধরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংস্কারের আন্দোলন শুরু হয়। সর্বশেষ মহাজোটে যোগ দিয়ে জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ আওয়ামী লীগকে নির্বাচনের পথে নিয়ে আসলেও মওদুদ আহমদের কূটকৌশলেই এরশাদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষিত হন। ফলে মহাজোট নির্বাচন বর্জন করে এবং সার্বিক পরিস্থিতিতে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা ও ড. ফখরুদ্দীন আহমদের সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করে।
নির্বাচন কমিশনে বিচারপতি এমএ আজিজসহ অন্যদের নিয়োগদানের ক্ষেত্রে অন্যতম ভূমিকা পালন করেছিলেন ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদসহ কট্টরপন্থি আরো কয়েকজন নেতা ব্যারিস্টার হুদাকে জোরালো সমর্থন দিয়েছিলেন। সূত্রটি দাবি করেছে, ভোটার তালিকাসহ বিতর্কিত নানান কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সিইসি এমএ আজিজ তার গ্রহণযোগ্যতা হারালে আওয়ামী লীগ ও তার সমমনা দলগুলো একের পর এক আন্দোলনের ইসু লুফে নেয়।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্রমতে, ক্ষমতা ছাড়ার আগমূহূর্তে সংস্কার প্রশ্নে ১৪ দলের সঙ্গে সমঝোতা চেয়েছিলেন খালেদা জিয়া। তার পরামর্শে বিএনপি মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আব্দুুল জলিলের সঙ্গে কয়েকদফা সংলাপে বসে এ ব্যাপারে মোটামুটি সমঝোতায়ও পৌঁছেছিলেন। কিনত্ম শেষ মুহূর্তে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এ বিষয়ে খালেদা জিয়াকে ভিন্নরকমের পরামর্শ দেন যা পরে আত্মঘাতী বলে প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব তারেক রহমানকেও তাদের মতের পক্ষে নিয়ে আসেন প্রভাবশালী এ দুনেতা। জোটের শরিক জামায়াতও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার বিপক্ষে অবস্থান নেন। ফলশ্রুতিতে নাটকীয়ভাবে সংস্কার প্রশ্নে আর সমঝোতা হয়নি। জানা গেছে, গত কদিন ধরে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পরামর্শকালে এ চার নেতার বিরুদ্ধে সাধারণ নেতাকর্মীদের বিষোদগার অব্যাহত রয়েছে। Source:দৈনিক আমাদের সময়
Date:2007-02-07

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: