সন্ত্রাস ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ৩ শতাধিক রাজনীতিক নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না

সন্ত্রাস ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন দলের ৩ শতাধিক রাজনীতিক সম্ভবত আগামী নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। শনিবার রাত থেকে সোমবার পর্যনত্ম যৌথবাহিনীর হাতে আটক প্রধান দুদলের অনত্মত ১৭ রাজনীতিক ছাড়াও আরো যারা আটক হবেন তাদের মধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের চিহ্নিত হোতাদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখাই চলমান ধারাবাহিক আটক বা গ্রেফতারের প্রধান লক্ষ্য। জাতির উদ্দেশে দেয়া প্রথম ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ কালো টাকা ও সন্ত্রাসমুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানের যে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন চলমান অভিযান ‘অপারেশন আশার আলো’ তারই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সংসদে সৎ ও যোগ্যপ্রার্থীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে এ অভিযান কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ আমাদের সময়কে বলেন, শুধু কিছু লোককে আটক করে নির্বাচনকে কালোটাকা ও সন্ত্রাসমুক্ত করা সম্ভব নয়। এ আটকের মধ্যে কোনো নতুনত্বও নেই। আগেও এরকম দুচারজনকে ধরা হয়েছিল। নির্বাচনকে সন্ত্রাস ও কালোটাকামুক্ত এবং সৎ ও যোগ্যপ্রার্থীদের নির্বাচিত হওয়ার জন্য নির্বাচনী আইন সংশোধন করতে হবে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যনত্মরীণ গণতন্ত্র, আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও রাজনীতিকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। জানা গেছে, দুর্নীতি-সন্ত্রাসের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, প্রাথমিক অভিযোগ ও জনশ্রুতির ভিত্তিতে যৌথবাহিনী বর্তমান অভিযান পরিচালনা করছে। অনেকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ না থাকলেও কালোটাকার মালিক বলে পরিচিত হওয়ায় তাদের আটক করা হচ্ছে। অবৈধভাবে অস্বাভাবিক কালোটাকার মালিকদের খুঁজে বের করতে সরকার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বিভিন্ন ব্যাংকের সহায়তা নিচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে যারা কালো টাকা সাদা করেছেন সে তালিকা ধরে এগুচ্ছে সরকার। অভিযুক্তরা যাতে আইনিভাবেই নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন সরকারের পক্ষ থেকে সে প্রস’তিও নেয়া হচ্ছে। নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের যারা আটক হয়েছেন কিংবা সামনে হবেন তাদের প্রায় সকলকেই ডিটেনশনে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। সন্ত্রাস, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে ক্রমান্বয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তা দ্রুত নিষ্পত্তিও করা হবে। তখন নৈতিক স্খলনজনিত কারণে সাজাপ্রাপ্ত হলে সাজা ভোগের সময় এবং কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও আইন অনুযায়ী ৫ বছরের মধ্যে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।
এ লক্ষ্যে দুর্নীতি সংক্রানত্ম মামলার বিচার সাড়ে ৩ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার সিদ্ধানত্ম নিয়েছে ড. ফখরুদ্দীনের সরকার। দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠন সংক্রানত্ম উপদেষ্টা কমিটির রোববার অনুষ্ঠিত বৈঠকে ৪৫ দিনের মধ্যে দুর্নীতি মামলার চার্জশিট প্রদান এবং ৬০ দিনের মধ্যে বিচার নিষ্পত্তি করার সিদ্ধানত্ম হয়েছে। এজন্য ঢাকা বিভাগে ৩টি বিশেষ আদালত গঠনের সিদ্ধানত্মও নেয়া হয়।
যাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাদেরকে কীভাবে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা সম্ভব এ ব্যাপারে বিশিষ্ট আইনজীবী ড. এম জহীর গতকাল আমাদের সময়কে বলেন, এজন্য নতুন আইন করতে হবে। আইন করে নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণের পথ রুদ্ধ করা সম্ভব। তিনি বলেন, সংবিধানে প্রার্থিতার যোগ্যতার জায়গায় এ আইন সংযুক্ত করলে দ্রুততম সময়েই মামলা নিষ্পত্তি করে কালোটাকার মালিক ও সন্ত্রাসীদের নির্বাচন থেকে দূরে রাখা যাবে।
প্রসঙ্গত, সংবিধানের ৬৬ (২ঘ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোন ব্যক্তি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যসত্ম হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইলে এবং তাঁহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকিলে তিনি সংসদে নির্বাচিত হইবার অযোগ্য বলে বিবেচিত হইবেন’। Source:দৈনিক যায়যায়দিন
Date:2007-02-07

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: