পচা গমের কারবার করেই শতকোটি টাকার মালিক আবুল খায়ের গ্রুপ!পিতার সততা আর নিষ্ঠার মর্যাদা সন্তনরা রাখেনি

চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকার নিম্নবিত্তরা তখন বিড়ি বানাতেন। বানানো বিড়ি বিক্রি করে দু-চার পয়সা যা পেতেন তা দিয়ে কোনোরকমে তাদের সংসার চলতো। আবুল খায়েরও (পরবর্তীকালে ‘আবুল কোম্পানি’ নামে খ্যাতিলাভ করেন) তখন বিড়ি বানাতেন। নিজে বিড়ি বানানোর পাশাপাশি এক পর্যায়ে তিনি কয়েকজন মহিলা ঠিকায় রেখে উৎপাদন বাড়াতে শুরু করেন। ক্রমে তার বিড়ি শ্রমিকের সংখ্যা বাড়তেই থাকে। একসময় তিনি নিজে একটি বিড়ি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। যার নাম আজকের বহুল পরিচিত আবুল বিড়ি কোম্পানি। চট্টগ্রামে এই কাহিনী এখনো মানুষের মুখে মুখে। আবুল খায়ের কী অধ্যাবসায়ের মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন লোকজন উদাহরণ হিসেবে সেই প্রসঙ্গ টানেন। ১৯৭৮ সালে আবুল খায়ের সাহেবের মৃত্যু হয়। দারিদ্র্যের একেবারে শেষ প্রানত্ম থেকে উঠে আসা একজন মানুষ তার সনত্মানদের জন্য রেখে যান বিপুল ধনসম্পদ এবং সততা ও নিষ্ঠার উত্তরাধিকার। কিন’ পিতার সেই শ্রম আর মেধায় উপরে ওঠার শিক্ষা তার পুত্ররা হয়তো নেয়নি। সে জন্যই তারা আরো অনেক বড়ো ধনী হওয়ার লক্ষ্যে শুর” করেন হরেকরকম ব্যবসা আর হরেকরকম ধান্ধা। বিচিত্র উপায়ে তারা মাত্র কয়েক বছরে তারা শত কোটি টাকার মালিক বনে যান।
মূলত ৯০ দশক থেকেই আবুল খায়ের গ্র”পের ব্যবসার পরিধি বিসত্মৃত হয়। প্রসার পেতে থাকে তাদের নানামুখী তৎপরতার। এসময় তারা দেশের অন্যতম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মজুদ বাণিজ্যে নামে। বিদেশ থেকে পচা এবং নিম্নমানের গম, চাল, ডাল এবং চিনি আমদানি করে তা দেশের মানুষকে খাওয়ানো শুর” করে। শুধু তাই নয়, এসব নিম্নমানের ও নষ্ট পণ্য দীর্ঘদিন গুদামে মজুদ করে রেখে বাজারে সংকট সৃষ্টি করে। এরপর দাম বেড়ে গেলেই তা বাজারে ছাড়ে। তারা দীর্ঘদিন এতোটাই কৌশলে ও সব কিছু ম্যানেজ করে ব্যবসা করে আসছিল যে শিপিং এজেন্ট, স্টিভিডোরিং, সিএন্ডএফ সব কিছু তারা নিজেরাই করতো। ফলে নিম্নমানের পণ্য বন্দর থেকে বাজারে নিয়ে আসা পর্যনত্ম কোনো ধরনের বেগ পেতে হতো না। কিন’ সামপ্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে ফেঁসে যায় আবুল খায়ের গ্র”প।
জানা যায়, নষ্ট এবং পচে যাওয়ার কারণে ভারতের বন্দর থেকে সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারককে ফেরত দেওয়া গম কিনে নেয় আবুল খায়ের গ্র”প। গত ২৬ অক্টোবর হংকঙের পতাকাবাহী জাহাজে করে ৪৯ হাজার ৫৬৪ মেট্রিক টন গম চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। প্রথমে এই গম আমদানি করেছিল ভারতের টেস্ট ট্রেডিং কর্পোরেশন। এই গম নিম্নমানের হওয়ার রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার এগ্রো মার্কেট ট্রেডের কাছে ফেরত পাঠায় ভারতীয় প্রতিষ্ঠানটি। কিন’ নানা পথ ঘুরে এই পচা গম বাংলাদেশে আসে আবুল গ্র”পের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান স্মাইল ফুড ও রাহাত ট্রেডার্সের নামে। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া চট্টগ্রাম কাস্টমে গত ৭ মাসে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার গম আমদানি হয়। আমদানি করা এসব গমের অধিকাংশের মালিক আবুল খায়ের গ্র”প। কাস্টম সূত্র জানায়, দেশের সবচেয়ে বড়ো গম আমদানিকারক আবুল খায়ের গ্র”প। নামে বেনামে তারা গম আমদানি করে।
গত ২০০৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যনত্ম দেশে গম আমদানি হয়েছে ৮১৪ কোটি টাকার। ২০০৬ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যনত্ম ১ হাজার ১৪১ কোটি টাকার গম আমদানি হয়। এর অধিকাংশই আবুল খায়ের গ্র”পের। তারা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব গম মজুদ করে মনোপলি ব্যবসা করে যাচ্ছে। এ ছাড়া আবুল খায়ের গ্র”প নিম্নমানের উপাদান দিয়ে বাজারে ছাড়ছে আটা, ময়দা, ঢেউটিন, পাউডার দুধ, বেবি ফুড, দুধসহ হরেক রকমের পণ্য। কয়েকদিন আগেও ভ্রাম্যমাণ আদালত আবুল খায়ের গ্র”পের ভেজাল ও নষ্ট দুধ আটক করে তাদের জরিমানা করে। সমপ্রতি যৌথ বাহিনী চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যেসব খাবার অনুপযোগী ভোগ্যপণ্য আটক করেছে তার মধ্যে আবুল খায়ের গ্র”পের আমদানি করা পণ্যই বেশি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
Source:ভোরের কাগজ
Date:2007-02-08

Advertisements

2 Responses to পচা গমের কারবার করেই শতকোটি টাকার মালিক আবুল খায়ের গ্রুপ!পিতার সততা আর নিষ্ঠার মর্যাদা সন্তনরা রাখেনি

  1. Pavel বলেছেন:

    এই অবস্থা!!!

  2. আহমেদ বলেছেন:

    চোরেরা এই কাম করে তোমরা কোটিপতি
    আর মার্কেটে বড় বড় বুলি আওরাও ৷

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: